Source: http://rigatalk.com
in ,

স্টার্টআপ নিয়ে ৮ টি ফ্যাক্ট

পৃথিবীর অর্থনীতির অনেক বড় একটা অংশ নিয়ে রেখেছে এই স্টার্টআপগুলো এবং বেশিরভাগ মানুষই এখন স্টার্টআপের দিকে ঝুঁকছে। স্টার্টআপ গুলো হাজার হাজার মানুষকে কাজও দিচ্ছে। কিন্তু আমরা কি জানি স্টার্টআপ গুলোর কিছু অন্যরকম এবং আকর্ষণীয় ফ্যাক্ট/তত্ত্ব রয়েছে!

চলুন আজকে জানবো স্টার্ট আপ সম্পর্কে কিছু চরম সত্য বা ফ্যাক্টস সম্পর্কে!

ফ্যাক্ট #০১ঃ ৯০ শতাংশ স্টার্ট আপের শুরুতেই পতন ঘটেঃ

জ্বি, এখন পর্যন্ত যতগুলো স্টার্টআপ সম্পর্কে আমরা জানি বা দেখেছি বা যেগুলো তৈরী হচ্ছে, সেগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশের শুরুতেই পতন ঘটেছে বা ঘটে। সিবি ইনসাইটসের একটি স্টাডি থেকে জানা যায়, প্রতি দশটা স্টার্ট আপের মধ্যে ৯ টাই ফেইল হয়। আর ফেইল হওয়ার সবচেয়ে বড় যে কারণটি ধরা হয় সেটি হচ্ছে সঠিক মার্কেট রিসার্চ না করা।

ফ্যাক্ট #০২ঃ প্রত্যেক সেকেন্ডে ৩ টি নতুন স্টার্ট আপ তৈরী হচ্ছেঃ

পৃথিবীতে প্রত্যেক তিন সেকেন্ডে একটি করে স্টার্টআপ তৈরী হচ্ছে। এক, দুই এবং তিন – এই যে স্টার্ট আপ! হাহাহা! অর্থাৎ প্রত্যেক ঘন্টায় তৈরী হচ্ছে ১১ হাজার স্টার্ট আপ এবং প্রত্যেক দিনে তৈরী হচ্ছে ২.৫ লাখের মতো! শুধু আমেরিকাতে এই রেট হচ্ছে প্রত্যেক তিন মিনিটে একটি!

ফ্যাক্ট #০৩ঃ বেশিরভাগ স্টার্ট আপ এমন জায়গা থেকে ইনভেস্টমেন্ট পায় যেখান থেকে ইনভেস্টমেন্ট পাওয়ার কথা ছিলো নাঃ

সাধারণত ব্যাংক কিংবা ঋণ নেয়ার সিস্টেম থাকলেও এমনকি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট কিংবা বড় বড় ইনভেস্টর দের কাজ ইনভেস্ট করা হলেও, বেশিরভাগ স্টার্ট আপের সিড ফান্ডিং পাওয়া যায় এমন সব জায়গা থেকে, যেখান থেকে তাদের পাওয়ার কথা ছিলো না। সেটা হতে পারে নিজের জমানো টাকা কিংবা নিজের পরিবার কিংবা অন্য যেকোনো জায়গা থেকে!

ফ্যাক্ট #০৪ঃ ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তার উদ্যোক্তা হবার পেছনের কারণ হচ্ছে ব্যাড লিডারশীপঃ

প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা প্রথমে কাজ শুরু করেন এমন কোনো একটি জায়গায় যেখান থেকে শেষমেশ বেরিয়া আসতে হয় শুধুমাত্র ব্যাড লিডারশিপের জন্যে। লিডারের কাজ কিংবা লিডারের কাজে স্টাইল কিংবা স্ট্র্যাটেজি পছন্দ না হওয়ায় তারা নিজেরাই কোম্পানি খুলে কাজ শুরু করার কথা ভাবেন আর তখনই শুরু হয় আরেকটি স্টার্ট আপ।

ফ্যাক্ট #০৫ঃ ইক্যুইটি স্প্লিটের উপর সবচেয়ে কম সময় দেন প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্যোক্তাইঃ

উদ্যোক্তারা কাজ করতে ভালোবাসেন আর তাই তারা চেষ্টা করেন তাদের বেশিরভাগ সময় কাজে লাগিয়ে দিতে। আর সেজন্যে প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা ইক্যুইটি স্প্লিটের উপর মাত্র এক ঘন্টা সময় ব্যয় করেন।

ফ্যাক্ট #০৬ঃ বেশিরভাগ ফাউন্ডার সিইও এর পজিশনে থাকেন না বা থাকতে চান নাঃ

বেশিরভাগ ফাউন্ডারই হয়তো নিজেই সিইও হয়ে কাজ শুরু করেন কিন্তু এক বছরের মধ্যেই দেখা যায় প্রায় ৬৫ শতাংশই পরিবর্তন হয়ে যায়। আসলে এক্ষেত্রে মূল কারনটা হচ্ছে সিইও এর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা।

ফ্যাক্ট #০৭ঃ ইকমার্স ক্যাটাগরীর স্টার্ট আপগুলোর সাক্সেস এবং ফেইলার রেট ৫০-৫০ শতাংশঃ

ইকমার্স ক্যাটাগরীর স্টার্টআপ গুলো সবচেয়ে বেশি সাক্সেস হয়, যদি ঠিকমতো সবকিছু প্ল্যান করে এগুনো যায়। আবার এই ইকমার্স ক্যাটাগরীর স্টার্ট আপগুলোই সবচেয়ে বেশি ফেইল হয়, সঠিক মার্কেট রিসার্চ এবং স্ট্র্যাটেজির অভাবে।

ফ্যাক্ট #০৮ঃ সবচেয়ে ভালো টিম = সবচেয়ে সাক্সেসফুল স্টার্টআপঃ

দেখা গেছে, দুইজন কিংবা এর বেশি ফাউণ্ডারের কোনো স্টার্ট আপ কিংবা প্যাশনেবল বোর্ড মেম্বারদের দ্বারা স্টার্ট আপের উন্নতি অবধারিত। ব্যালেন্সড টিম থেকে আর্থিকভাবেও প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি লাভ আসে।

স্টার্টআপের মার্কেটিংয়ের জন্য সেরা ৭টি সফটওয়্যার

একটি স্টার্ট আপ লঞ্চ করা যতোটা না কঠিন তার থেকে সেটা নিয়ে কাজ করা, সেটাকে জয়ের মুখ দেখানো অনেক অনেক বেশি কঠিন। তাই, হুটহাট করে নতুন স্টার্ট আপ না করে ভেবে চিনতে স্টার্ট আপের দিকে মনোযোগ দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ভালো থাকবেন, ভালো রাখবেন! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কম্পিউটারের সিস্টেম কীভাবে পরিষ্কার রাখবেন

ফোবিয়া কি? এর কারণ ও আদি-অন্ত