Source: https://www.firststepcenter.com
in

অ্যাগোরাফোবিয়াঃ খোলা জায়গায় থাকার ভয়

নাইমকে তার বন্ধুরা বারবার কল দিচ্ছে। আজকে তাদের শপিংয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু নাইম তাদের বারবার মানা করে দিয়েছে যে সে শপিংয়ে যাবে না। কে শোনে কার কথা! তারা নাইমকে ছাড়া আজকে যাবেই না!

নাইম তাদের এর আগেও হাজারবার মান করেছে যে, সে শপিংয়ে যেতে ইচ্ছুক নয়। সে শপিং করতে যায় না, তার ভালো লাগে না! 
নাইমের সবকিছুর শপিং করে তার বাবা-মাই। নাইমের বাবা-মাও তাকে বলে, সে যেনো গিয়ে তার বন্ধুদের সাথে শপিং করে! কিন্তু নাইম সেটা করতে চায় না!

নাইমের এই সমস্যার শুরু হয়েছে, প্রায় চার বছর আগে। সে তার বান্ধবীদের সাথে আড়ংয়ে শপিং করতে গিয়েছিলো। প্রায় তিন ঘন্টা সে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো। মেয়েদের সেকশনে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর তাকে নিয়ে আড়ংয়ের বেশ কিছু কর্মচারী ফাজলামো শুরু করে দিয়েছিলো।যখন তারা শপিং থেকে বের হবে, মূল গেইটের সামনে এসে নাইম মাথা ঘুরে পড়ে যায়। মুখ থেকে ফেনা উঠে সে এক বিচ্ছিরি অবস্থার সৃষ্টি হয়।

আজকেও নাইমকে তারা কল দিয়েই যাচ্ছে। তারা শপিংয়ে নাইমকে ছাড়া যাবেই না। নাইমের গার্লফ্রেন্ড তূর্ণা নাইমকে কল দিলো!

তূর্ণাঃ তোমার সমস্যাটা কি?
নাইমঃ আমি তো বারবার বলেছি, গত চার বছর ধরে বলে আসছি। আমি শপিং করি না। 
তূর্ণাঃ তুমি যাবে ওদের সাথে নাকি আমি কিছু একটা করবো? 
নাইমঃ তুমি কি করবে? প্লিজ আমাকে জোর করো না। তুমি জানো আমি তোমার কথা ফেলতে পারি না। প্লিজ, এই একটা জিনিস বাদে দুনিয়ার যেকোনো কিছুই আমি করতে পারবো! 
তূর্ণাঃ আমার কিচ্ছু লাগবে না। আজকে আমার কাজিনদের সাথে তোমার পরিচয় হবে শপিংমলে। সো, তোমাকে যেতেই হবে! 
নাইমঃ তাদেরকে বলো না, বাইরে কোথাও! 
তূর্ণাঃ না! হয় তুমি শপিংমলে যাবে নাহয় ব্রেকআপ! যেকোনো একটা!

তূর্ণা ফোন কেটে দিলো! নাইমের রাগ উঠছে। একইসাথে সে ভয়ও পাচ্ছে। প্রচুর ঘাম জমছে কপালে তার!

নাইমকে দেখে সবাই খুশিতে চিৎকার দিয়ে উঠলো। নাইমের মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। তারপরেও সে ভালো মুখ করে শপিংমলে ঢুকলো।

ঢোকার সাথে সাথেই সে আশেপাশে তাকালো।এত বড় শপিংমল অথচ মানুষ মাত্র কয়েকজন। আর তার উপরে যে দিকেই দেখা যায়, বিভিন্ন জিনিস আর একটা গন্ধ! 
তার বমি বমি ভাব হতে শুরু করলো। সে পেছন থেকে তার বন্ধুদের ডাকতে লাগলো। তারা দূরে দাঁড়িয়ে হাসছে। সে আবার ডাকতে গিয়েই বুঝতে পারলো তার ঘাড়ের রগ শক্ত হয়ে আসছে। তার মাথা ভারী হয়ে গেছে। এয়ার কন্ডিশনের মধ্যেও এত ঘামছে কেন সে? 
এসব ভাবতে ভাবতেই সে প্যানিক অ্যাটাক করলো। আর তারপরেই সে দেখে তার দিকে অনেক মানুষ তাকিয়ে আছে। সে স্ট্রোক করে বসলো!

উপরে উল্লিখিত চরিত্র ও ঘটনা সম্পূর্ণভাবে কাল্পনিক। কিন্তু উপরে বর্ণিত রোগটা মোটেও কাল্পনিক নয়। চলুন এই রোগ সম্পর্কে কিছু জিনিস জানা যাক!

উপরে যে রোগটি বর্ণনা করা হয়েছে এটা মূলত এক ধরণের অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার বা সাইকোলজিক্যাল ফোবিয়া। এটাকে বলে অ্যাগোরাফোবিয়া। এই ধরণের ফোবিক/ভিক্টিম মূলত যে কোনো খোলামেলা স্থান (মাঠ, খোলা গ্যালারী, জাহাজের খালি ডেক ইত্যাদি), পাবলিক ট্রান্সিট, শপিংমল, এমনকি নিজের ঘরের বাইরের যেকোনো স্থানে যেতে ভয় পায়।

জ্বী একটু বিদঘুটে শুনলেও, এই ফোবিয়া সত্য! এই ফোবিয়া যার থাকে সে হয়তো স্বাভাবিকভাবে সুস্থ মনে হলেও উপরের যেকোনো কিছু তার আশেপাশে ঘটলে সে, প্যানিক অ্যাটাক করে, স্ট্রোক করে প্যারালাইজড পর্যন্তও হয়ে যেতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ঘর ছেড়ে বাইরে বেরোতেই চাইবে না আর!

এই ধরণের সমস্যা হওয়ার কারণ মূলত জেনেটিক কিংবা এনভায়রনমেন্টাল হয়ে থাকে। 
ট্রিটমেন্ট হিসেবে সিবিটি (কগনিটিভ বিহেভিয়ারেল থেরাপি) নেয়া যেতে পারে।

সিবিটি যেভাবে নেবেনঃ সাইকোথেরাপিঃ কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপি বা সিবিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুপ্রেরণার গুরুত্ব কতটুকু?

একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে