OtherParapsychologyTechnology

প্যারালাল ইউনিভার্সঃ অজানা সব তথ্য

বেশ কিছু জিনিস সম্পর্কে আমার আগ্রহ আর ধারণা দুটোই অল্প। তার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান একটা! আমাকে কে যেনো এটা নিয়ে লিখতে বলেছেন। প্যারালাল ইউনিভার্স পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্রিং থিওরীর অর্থাৎ থিওরী অফ এভ্রিথিংয়ের একটি জ্বলন্ত কর্মকান্ড। এই রাত তিনটায় এর চেয়ে ভালো লেখা আর আসছে না।

যাই হোক, আমি এটা নিয়ে পড়তে গিয়ে দেখলাম বাংলায় বেশ কিছু তথ্য রয়েছে এই প্যারালাল ইউনিভার্স টপিকের উপর। সেগুলো পড়লাম তিন-চার ঘন্টা লাগিয়ে! নো থ্যাংক্স টু ইউ গাইজ!!!

তারপরে সেগুলো আর বেশ কিছু তথ্য আর আমি যতটুকু জানতাম সব মিলিয়ে একটা লেখা দাড় করাতে পেরেছি বলেই মনে করি। আর তাই লিখতে বসলাম। চলুন শুরু করা যাক। লেখার রেফারেন্স ওয়েবসাইট লেখার শেষে দেয়া আছে! ধন্যবাদ!

আচ্ছা কখনো কি একবারও ভেবে দেখেছেন যে, গতকাল রাতে আপনি যে রুমের বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন তার পরের দিন আপনি সেই রুমের বিছানায় নেই! আপনি ঠিক অন্য কোনো রুমের অন্য কোনো বিছানায় শুয়ে আছেন! এমনকি বিছানার চাদরের রংটাও বদলে গেছে। আশেপাশের কাউকেই আপনি ঠিক চিনতে পারছেন না। সবকিছু যেন পুরোটাই বদলে গেছে। ঐ মুহূর্তে আপনি ঠিক কী করবেন?

অনেকেই হয়তো হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলবেন যে, “এসব আবার সম্ভব নাকি?”

কিন্তু আমি যদি বলি – হ্যাঁ, এটা সম্ভব। এমন অনেক ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে আমাদের এই পৃথিবীতে, এমনকি হয়তো আমাদের চারপাশে। কিন্তু আমরা সেগুলোকে নিছক ভ্রান্ত ধারণা ভেবে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছি।

ঠিক এমনি একটি ঘটনা চমকে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে এবং বড় বড় বিজ্ঞানী মহলকেও। হ্যাঁ, আমি Lerina Garcia Gordo নামক স্প্যানিশ নারীর কথাই বলছি যার সাথে ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছে এবং পুরো বিশ্ব ও বিজ্ঞানী মহলকে থমকে দিয়েছিলো এবং যেটি আজও রহস্য হয়েই আছে। ঘটনাতে যাওয়ার আগে জেনে নেয়া যাক কিভাবে এই ঘটনাটি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে গিয়েছিলো।

এই ঘটনাটির মূখ্য চরিত্রে থাকা স্প্যানিশ নারী Lerina Garcia ২০০৮ সালে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোস্ট করার পর মানুষজন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। অনলাইনে তাঁর পোস্টটি এমন ছিলো,

আমার নাম লুইজ। আমি একজন ৪১ বছর বয়সী নারী। আমার মনে হয় আমি প্যারালাল ইউনিভার্সে চলে এসেছি। আমি সবাইকে এই ব্যাপারে বলে বিপদে পড়েছি কারণ তারা এই কথা শুনার পর থেকে আমাকে মানসিক রোগী ভাবা শুরু করেছে। কেউই আমাকে এবং আমার কথাকে বিশ্বাস করছেনা। দয়া করে কারো যদি এই একই অনুভূতি হয়ে থাকে তবে আমাকে নিচে দেয়া আমার মেইল ঠিকানায় আমাকে দয়া করে মেইল করবেন।

আর ঠিক এই পোস্টটি দেয়ার পর পরই তা সারা বিশ্বে ভাইরাল হয়ে যায়। সারা বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় সংস্থা, পত্রিকা এগিয়ে আসে তার বক্তব্য শুনার জন্য। এরপর ঐ সংস্থাদেরকে তিনি তার ঘটনা খুলে বলেন। চলুন তাহলে পুরো ঘটনাটি জেনে আসা যাক,

১৬ই জুলাই ২০০৮ সালের একটি সুন্দর সকালে লেরিনা ঘুম থেকে উঠে দেখে তার বিছানার চাদরের রং সেটা নয় যেটা সে গতকাল রাতে ঘুমানোর আগে দেখেছিলো। লেরিনা সেটিকে একটি নিছক কল্পনা ভেবেই উড়িয়ে দিলো। সে একটি কোম্পানীতে ২০ বছর যাবত চাকরি করতো। সে প্রতিদিনের মতো ঐদিনও তার অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হয় এবং গতকাল রাতেই পার্ক করা তার গাড়িটি নিয়ে বের হয়ে যায় অফিসের উদ্দেশ্যে। কিন্তু অফিসে পৌছে সে খুব অবাক হয়। সে ভাবে যে, সে হয়তো ভুলে অন্য কোনো তলায় ঢুকে পড়েছে।

তাই সে তার অফিসের ডানদিকের গেইট দিয়ে ঢুকেও সে একই দৃশ্য দেখতে পেয়ে আরও অবাক হয়ে যায়। এরপর সে তার কেবিনের দিকে যাওয়া শুরু করে এবং কেবিনের সামনে যেয়ে পুরো হতভম্ব হয়ে যায়। সে বিগত ২০ বছর যাবত যেই কেবিনে বসে কাজ করেছে সেখানে তার নাম নেই এবং তার কেবিনে বসে অন্য কেউ কাজ করছেন। অফিসের কোনো লোকজনই তাকে চিনতে পারছে না। সে খুব রাগান্বিত হয়ে ভাবতে লাগলো, ২০ বছর যাবত এই অফিসে সৎভাবে কাজ করার পরও তারা তাকে কিছু না জানিয়ে চাকরিচ্যূত করলো।

তারপর সে তৎক্ষণাৎ তার ল্যাপটপটি বের করে কোম্পানীর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলো এবং দেখলো যে সে ভিন্ন একটি ডিপার্টমেন্টে ভিন্ন একজন ম্যানেজারের অধীনে কাজ করছেন যেটি আসলে সে কোনোদিনই করেনি। তারপর সে সাথে সাথে তার ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অফিসের আইডি কার্ড বের করে চেক করলো। কিন্তু সেখানে সে সবকিছু ঠিকঠাকই দেখতে পাচ্ছিলো। একই নাম, একই ছবি এবং একই বাসার ঠিকানা ছিলো সবগুলো কার্ডে। তারপর সে ভাবতে শুরু করলো সব তথ্য ঠিকঠাক থাকা সত্ত্বেও সবকিছু কেনো অপরিচিত লাগছিলো!

তারপর সে ভাবলো যে, হয়তো সকালের ঘটনাটি নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর কারণে সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে আর তাই তার এই সবকিছু এলোমেলো এবং অপরিচিত মনে হচ্ছে। সে পরেরদিন বিশ্রাম নিলো এবং ডাক্তারের কাছে গেলো। সে তার ডাক্তারকে সবকিছু খুলে বললো এবং ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখলো যে সে আসলে মাদকাসক্ত কিনা। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্টে লেরিনার মাদকাসক্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তারপর সে বাসায় ফিরে তার পার্সোনাল ফাইল থেকে সমস্ত ব্যাংক স্টেটমেন্টস, পার্সোনাল চেক, বিল ইত্যাদি বের করে দুইবার করে চেক করলো। কিন্তু সবগুলো ডকুমেন্টে সঠিক তথ্য দেখতে পেলো সে। এতে আরও বেশি হতভম্ব হয়ে যায় সে এবং ভাবতে থাকে যে এসব কি হচ্ছে তার সাথে। সে ভাবলো যে সে হয়তো অ্যামনেসিয়াতে ভুগছে। তাই হয়তো সে তার সমস্ত স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে।

এরপর লেরিনা একজন মনোবিজ্ঞানীর কাছে গেলো এবং পরীক্ষা করালো। কিন্তু সেই পরীক্ষাতেও কোনো মানসিক রোগের লক্ষণ ধড়া পড়েনি তার এবং সে আবারো সুস্থ প্রমাণিত হলো। ৪ মাস আগে লেরিনা তার আগের বয়ফ্রেন্ডের সাথে ৭ বছরের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছিলো। সে তার এই ঘটনাটি তার নতুন বয়ফ্রেন্ড অগাস্টিনকে জানানোর কথা চিন্তা করলো।

লেরিনা তার নতুন বয়ফ্রেন্ড অগাস্টিনকে প্রতিদিনের মতো আজকেও ফোন দিলে সে পুরোদমে স্তব্ধ হয়ে যায়। কারণ সে প্রতিদিনের মতো আজও যেই নাম্বারে ফোন দিয়েছিলো সেখানে তার বয়ফ্রেন্ড অগাস্টিনের বদলে অন্য একজন অপরিচিত লোক ফোন ধরেছিলেন। সে তার বয়ফ্রেন্ডকে চাইলে লোকটি তাকে জানান যে এটা অগাস্টিনের নাম্বার না এবং লোকটির বলা বাসার ঠিকানার সাথেও লেরিনার বয়ফ্রেন্ড অগাস্টিনের বাসার ঠিকানার কোনো মিল পাচ্ছিলো না সে। লোকটির বলা ঠিকানাটি ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে তাতে একদমক অবাক হয়ে যায় কারণ লেরিনা অনেকবার এই নাম্বারে অগাস্টিনের সাথে ফোনে কথা বলেছে এবং বহুবার ঐ ঠিকানায় তার সাথে দেখা করতে গিয়েছে।

এরপর লেরিনা এসব ঝামেলা থেকে একটু রেহাই পাওয়ার জন্য তার গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। সেখানে গিয়ে সে তার পরিবারকে তার ছোটো বোনের কাধের অপারেশনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সবাই তার দিকে বিস্ময়ভাবে তাকায়। পরিবারের সবাই তাকে জানায় যে, “আমাদের পরিবারেতো কারোর কাধের অপারেশন হয়নি, এসব কি বলছো তুমি লেরিনা?”

ধীরে ধীরে তার পরিবার তাকে পাগল ভাবা শুরু করে। এভাবে কয়েক মাস চলে যায় কিন্তু লেরিনা তার উত্তর খুঁজে পায়নি। একদিন সে ইন্টারনেটে তার এই ব্যাপারে খুঁজতে গিয়ে প্যারালাল ইউনিভার্সের ব্যাপারে জানতে পারে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। সে লক্ষ্য করে যে তার সাথে ঘটা সমস্ত ঘটনার সাথেই প্যারালাল ইউনিভার্সের তত্ত্বের সাথে মিলে যাচ্ছে এবং এরপর থেকে সে ভাবতে শুরু করে যে সে হয়তো প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে চলে এসেছে। ঠিক এরপরই সে তার এই ব্যাপারে অনলাইনে একটি পোস্ট দেয় যেটি সমগ্র বিশ্বে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বড় বড় ওয়েবসাইট এবং পত্রিকায় ছাপানো হয়।

লেরিনার এই ঘটনার পর থেকে সবার মনেই একটি প্রশ্ন জেগেছে আর তাহলো “আসলেই কি লেরিনা প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে এসেছিলেন?”

আসলে তিনি কি আদৌ প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে এসেছিলেন কিনা তার কোনো বাস্তবিক প্রমাণ আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটি বিজ্ঞানে আজও শুধু কল্পবিজ্ঞানই হয়ে আছে। তবে সমস্ত ঘটনা শোনার পর হয়তো আপনাদের মনে একটি প্রশ্ন জেগেছে আর তাহলো এরপর লেরিনার কী হলো? আসলে এরপর থেকে লেরিনা সম্পূর্ণভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তিনটি অভিমত ব্যক্ত করেছেন আর তা হলো,

১. হয়তো লেরিনা তার এসব ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য নিজেই গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।

২. হয়তো লেরিনা অন্য কোথাও কোনো ল্যাবরেটরিতে আজও বিজ্ঞানের সহযোগিতা নিয়ে তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

৩. হয়তো লেরিনা ফিরে গেছেন তার নিজের জগতে।

তবে যদি লেরিনা তার নিজের জগতে ফিরে চলে যান তাহলে এই পৃথিবীর লেরিনা কোথায় গেছে? এই প্রশ্নের উত্তরও রহস্য হয়েই আছে।

এমনকি বিখ্যাত বিজ্ঞানী ব্রায়ান গ্রিন ‘The Hidden Reality’ বইটিতে এই প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন এবং লেরিনা গারসিয়ার কাহিনীটিও তিনি তার এই বইটিতে তুলে ধরেছেন।

এই ঘটনাটি শোনার পর থেকে আপনাদের সকলের মনে হয়তো এই প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন জাগছে। হয়তো জানতে ইচ্ছে করছে কী এই প্যারালাল ইউনিভার্স? চলুন একটু হলেও জানার চেষ্টা তো করা যেতেই পারে!

প্যারালাল ইউনিভার্স হলো কল্পবিজ্ঞানের এমন একটি জগত যেখানে হয়তো আপনার মতোই অবিকল আরেকজন বসবাস করছে অন্য কোনো বিশ্বে। সে ঠিক আপনার মতোই কথা বলে, আপনার মতোই খাবার খায় এবং আপনার মতোই ঘুমায়। আর বিজ্ঞানীরা প্রমাণ হিসেবে লেরিনার কাহিনীটি তুলে ধরেন। এই প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে হফ এভারেট থ্রি সর্বপ্রথম ধারণা দেন।

২০১০ সালের কাছাকাছি বিজ্ঞানী স্টিফেন এম ফেনি ‘Wilkinson Microwave Anisotropy Probe (WMAP)’ এর ডাটা এ্যানালাইসিস করে বলেন যে, “আমাদের এই মহাবিশ্ব অন্য একটি মহাবিশ্বের সাথে অতীতে সংঘর্ষিত হয়েছিলো। এরপর WMAP এর চেয়েও তিনগুণ শক্তিশালী ‘Planck Satellite’ এর বিভিন্ন ডাটা পর্যবেক্ষণ করেও কোনো সঠিক প্রমাণ দেয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি আমাদের ইউনিভার্সের প্রতি অন্য ইউনিভার্সের ‘Gravitational Pull’ কেও সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এই প্যারালাল ইউনিভার্সে গতির কোনো সূত্র খাটবেনা। এই প্যারালাল ইউনিভার্সের আরও নাম রয়েছে যেমনঃ MWI, The Relative State Formulation, Multiverse Theory, The Theory of the Universal Wave-Function, Many worlds ইত্যাদি।

যেহেতু এই প্যারালাল ইউনিভার্স আজও প্রমাণিত হয়নি তাই বিজ্ঞানী মহলে রয়েছে একে নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক। কিছু বিজ্ঞানী একে সাপোর্ট করেন আবার কিছু বিজ্ঞানী এর বিরোধিতাও করেন। তবে অনেক বিখ্যাত বিজ্ঞানী এই প্যারালাল ইউনিভার্সকে সাপোর্ট করেন যেমনঃ Hugh Everett, Stephen Hawking, Brian Greene, Max Tagmark, Alan Guth, Michio Kaku, Neil deGrasse Tyson, Andrei Linde, David Deutsch ইত্যাদি।

এমনকি বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে এই প্যারালাল ইউনিভার্সের উপর তার গবেষণা সম্পন্ন করেন এবং একটি গবেষণাপত্রও বের করেন, যদিও তা এখনো কোনো বড় জার্নালে প্রকাশ করা হয়নি। তার এই গবেষণাপত্রে তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে কিভাবে মানুষ প্যারালাল ইউনিভার্সকে সনাক্ত করতে পারবে।

প্যারালাল ইউনিভার্স এমন একটি জগত যেখানে আপনার আমার মতোই একজন বসবাস করছেন। আমাদের মহাবিশ্বের ঠিক অনুরূপই হলো এই প্যারালাল ইউনিভার্স। আমরা যখন কোনো আয়নার সামনে দাঁড়াই তখন যেমন ঠিক আমাদেরই অবিকল একজনকেই আয়নার অপর প্রান্তে দেখতে পাই ঠিক তেমনি আমাদের মহাবিশ্বের অবিকল আরেকটি মহাবিশ্বই হলো এই প্যারালাল ইউনিভার্স।

আপনি যখন আপনার রুমে বসে আমার এই আর্টিকেলটি পড়ছেন তখন হয়তো ঐ প্যারালাল ইউনিভার্সে আপনার মতোই অবিকল আরেকজন গান শুনছে। আজও হয়তো আমরা এই প্যারালাল ইউনিভার্সকে আবিষ্কার করতে পারিনি কিন্তু বিজ্ঞান যেই গতিতে উন্নতির পথে এগোচ্ছে হয়তো একদিন আমরা এই প্যারালাল ইউনিভার্সকে আবিষ্কার করতে সক্ষম হবো। হয়তো দেখা করতে পারবো আমাদের অবিকল আরেকজনের সাথে। আর ঠিক তখনি হয়তো লেরিনা গারসিয়ার কাহিনীর রহস্যকেও ভেদ করতে সক্ষম হবো এবং এই পৃথিবীর লেরিনা গারসিয়াকেও খুঁজে পাবো। আর ঠিক সেই আশাতেই আজও বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনেক সায়েন্সফিকশনেই আমরা প্যারালাল ইউনিভার্সের কথা শুনেছি কিংবা প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে বানানো প্রায় ডজন খানেক মুভির কোনো না কোনোটা হয়ত সবাই দেখেছি। কিন্তু প্যারালাল ইউনিভার্স কি, কীভাবে এর সৃষ্টি, কী করে এটি নিয়ন্ত্রিত হয় বা আদৌ এর অস্তিত্ব আছে কিনা তা কি আমরা ভেবে দেখেছি?

প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল বিশ্ব হচ্ছে এমন একটি তত্ত্ব যেখানে বলা হয়েছে মহাবিশ্বে একাধিক পৃথিবী রয়েছে এবং তারা একটি অন্যটির প্রতিরূপ। আর আপনি এই প্রতিরূপ বিশ্বে যেতে পারেন সময় যাত্রা বা টাইম ট্রাভেল করে। প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে যেমন রয়েছে জল্পনা-কল্পনা তেমনি রয়েছে নানা রোমাঞ্চকর ঘটনাও।

১৯৫৪ সাল। টোকিও এয়ারপোর্টে হঠাৎ এমন একজন অদ্ভূত মানুষকে দেখা যায় যার গতিবিধি সন্দেহজনক। তাই তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে কাস্টমস এবং নানা জেরার মুখে লোকটি জানাযন যে, তিনি ইংল্যান্ডের ১০০০ বছর পুরনো টোরেট নামক দেশ থেকে এসেছেন। কিন্তু টোরেট নামক কোনো শহর ইংল্যান্ডে নেই। অথচ লোকটির পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট সব ছিল আসল এবং তাতে টোরেট সরকারের দেয়া সিল্ ছিল।

এরপর কড়া পাহাড়ায় আটক করলেও পরদিন সকালে লোকটি বেমালুম গায়েব হয়ে যায়। তাহলে টোরেট কি আমাদের মতো অন্য একটি পৃথিবীর দেশ? লোকটি কি তবে এসেছিল প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে?

তেমনি প্লেন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু ৩৭ বছর আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কোনো প্লেন আবার মাটিতে অবতরণ করেছে এমন ঘটনা কি রোমাঞ্চকর আর রহস্যজনক নয়? অথচ তেমনটিই ঘটেছিল ১৯৫৫ সালে নিউইয়র্ক থেকে মায়ামির উদ্দেশ্যে ৫৭ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে রওনা দেয়া ডিসি-৪ নামক একটি চাটার্ড প্লেনের সাথে। যা নিয়ে লেখা হয়েছিল বিশ্বের বিখ্যাত সব পত্রিকা আর ম্যাগাজিনে। তাহলে কি ৩৭ বছর ধরে প্লেনটি সময় যাত্রা বা টাইম ট্রাভেলের মধ্যে ছিল?

বিজ্ঞানীরা মনে করেন আমাদের এই জগতের মতো আরো অনেক জগৎ আছে এবং আপনার মতো আরো অনেক আপনি আছেন। বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের ফলে পৃথিবী সৃষ্টি বহু পুরনো ঘটনা। কিন্তু বিগ ব্যাংয়ের পরেই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে এটা মানতে নারাজ অনেকেই। তাদের মতে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর মতো দুটি ব্রহ্মান্ডের সংঘর্ষের দ্বারা বিস্ফোরণের ফলে। আর সেই সাথে সৃষ্টি হয়েছে আরো বহু কল্পিত ইউনিভার্স। সেই ব্রহ্মান্ডগুলোও আমাদের মতো এবং তাতে রয়েছে আমাদের মতো হুবহু দেখতে মানুষেরা। আর এই জগৎগুলো পরস্পরের সমান্তরালে চলে বিধায় এরা একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে না। 

এভাবেই প্রথম ১৯৫৬ সালে মার্কিন বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাহায্যে প্যারালাল ইউনিভার্স বিষয়টিকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে প্যারালাল ইউনিভার্স আমাদের জানা তিনটি ডাইমেনশন অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার বাইরে। প্যারালাল ইউনিভার্স সৃষ্টি হয় চতুর্থ ডাইমেনশন থেকে। চতুর্থ ডাইমেনশনে রয়েছে সময়। মহাবিশ্বের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ‘সময়’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময় অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে নিয়ে সরলরেখায় চলছে অর্থাৎ অনন্তকাল ধরে চলছে। কিন্তু কেমন হতো যদি সময়ের সরলরেখা বরাবর চলতে চলতে একটু ডানে বামে চলতে পারতেন? যেতে পারতেন যদি অতীত বা ভবিষ্যতে?

উদাহরণ দেয়া যাক!

বাই দ্যা ওয়ে, বোরিং ফিল হচ্ছে? বোরিং ফিল হলে রেস্ট নিয়ে আসুন! লেখা কোথাও চলে যাচ্ছে না!!!

ধরুন আপনি ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার দুটোই হতে চান। আপনার বর্তমান ডাইমেনশনে আপনি যেকোনো একটি হতে পারবেন। হয় ডাক্তার নয়তো ইঞ্জনিয়ার। কিন্তু চতুর্থ ডাইমেনশনে সময়ের সরলরেখাকে বাঁকিয়ে আপনি পাবেন আপনার প্রতিরূপ এবং আপনি তখন আপনার এবং আপনার প্রতিরূপের জন্য দুটি ক্যরিয়ারই বাছাই করতে পারবেন। আর এ বিষয়ে এসেই তৈরি হবে দুটি প্যারালাল বিশ্ব। এভাবেই যত সামনের ডাইমেনশনের দিকে যাবেন ততই ফটোকপি (!) পাবেন আপনার এবং আপনার বিশ্বের।

এই প্রতিরূপ বিশ্বগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন সময় যাত্রা বা টাইম ট্রাভেল করে। অর্থাৎ আলোর সমান বেগে চলতে হবে আপনাকে। আর এই টাইম ট্রাভেল করে আপনি পৌঁছতে পারবেন অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতে। যা হয়ত হয়েছিল সেই ডিসি-৪ নামক চাটার্ড প্লেনের সাথে।৩৭ বছর পর ১৯৯২ সালে মাটিতে অবতরণ করে তারা দেখেছিল তাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে। অথচ তাদের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। বাড়েনি বয়সও।

স্ট্রিং থিওরি বলে, আমাদের দশটি ডাইমেনশন রয়েছে। কিন্তু আমরা শুধু চতুর্থ ডাইমেনশন পর্যন্ত আসা যাওয়া বা অনুভব করতে পারি। কারণ আমাদের শরীর থ্রি ডাইমেনশন স্ট্রাকচারের। কিন্তু চতুর্থ ডাইমেনশনের পরের ডাইমেনশনগুলোতে শুধু তারাই যেতে পারে যা ওয়ান ডাইমেনশনাল।কিন্তু প্যারালাল ইউনিভার্সে যেহেতু প্রতিরূপ বিশ্বগুলো পরস্পরের সমান্তরালে চলে তাই একটি অন্যটির ওপর প্রভাব না ফেললেও একটি জগৎ যখন অন্য জগতের কাছাকাছি যায় তখন তাদের মধ্যে ক্রসিং হয়। আর এই ক্রসিংয়ের সময় টাইম ডাইমেনশনে হোল বা গর্ত সৃষ্টি হয়। তখন মানুষ নিজের অজান্তেই এক জগৎ থেকে অন্য জগতে চলে যায়। যা হয়ত হয়েছিল টোকিও এয়ারপোর্টের সন্দেহভাজনের সাথে।

তাহলে চলুন কিছু সহজ ভাষা আর কঠিন ভাষার সংমিশ্রনে থাকা প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে তথ্য জেনে আসি!

সমান্তরাল মহাবিশ্বের কথা শুনতে হয়ত অনেকের কাছে আজগুবি মনে হতে পারে। কিন্তু স্ট্রিং তত্ত্ব ছাড়াও মহাবিশ্বের জন্ম রহস্য বর্ণনাকারী – ইনফ্লেশন তত্ত্বও একই রকম কথা বলে। ক্যাওটিক ইনফ্লেশন তত্ত্ব অনুসারে বিজ্ঞানী আঁদ্রে লিণ্ডে কম্পিউটার সিমুলেশন করে দেখেছেন, এই ধরনের স্ফীতি তত্ত্বও স্ট্রিং তত্ত্বের মতো আলাদা ধরনের পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কার্যকর ও অসংখ্য মহাবিশ্বের কথা বলছে।

এমআইটির ( MIT) কসমোলজিস্ট ম্যাক্স টেগমার্ক আমাদের পরিচিত গণিতের সম্ভাবনার সাহায্যে হিসেব কষে দেখিয়েছেন, আমাদের এই মহাবিশ্ব থেকে প্রায় ১০^১০^২৮ মিটার দুরেই হয়ত হুবহু আপনার মত দেখতে একজন সমান্তরাল মহাবিশ্ব নিয়েই ভাবছে। কিন্তু সমস্যা হল আপনি বা আপনার টুইন কেউই কারও সম্পর্কে জানতে পারবেন না।

টেগমার্ক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব থেকে পাওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে চার রকম প্যারালাল ইউনিভার্সের কথা বলেছেন।

লেভেল ওয়ান প্যারালাল ইউনিভার্স হল সবচেয়ে মজার। বলা যেতে পারে আপনি যদি আপনার বর্তমান অবস্থান থেকে যথেষ্ট দূরে ভ্রমণ করতে পারেন তাহলে আপনি আবার আপনার বাসাতেই ফিরে যাবেন।  সেখানে দেখা যাবে হুবহু আমাদের পৃথিবীর মত গ্রহে আপনার মতই একজন বসে স্ট্রিং তত্ত্বের কোন বই পড়ছে।  শুনতে অবাক লাগবে, বহুবিশ্বের কথা বিবেচনা না করলেও, এরকম প্যারালাল জগত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ইনফ্লেশন তত্ত্বের বিশ্লেষণ থেকে আমরা জানি মহাবিশ্বকে আগে যতটুকু বড় মনে করা হতো এটি তার থেকে ঢের বেশি বড়। আক্ষরিক অর্থেই অসীম বলা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা গাণিতিক সম্ভাবনার সাহায্যে হিসেব কষে দেখেছেন, এই অসীম মহাবিশ্বে আমাদের সৌরজগতের একটি টুইন খুঁজে পাবার সম্ভাবনা বেশ প্রবল। একই রকম এসব মহাবিশ্বকে লেভেল ওয়ান প্যারালাল ইউনিভার্স বলা হয় ।

স্ট্রিং তত্ত্বের সমীকরণ বিশ্লেষণ করে একদল বিজ্ঞানী বলছেন আমাদের মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল দুটি ব্রেনের সংঘর্ষের কারণে। দুটি ব্রেনের এরকম সংঘর্ষের ফলেই ইনফ্লেশনের সৃষ্টি হয়। এরকম সংঘর্ষ কিন্তু কোন নির্দিষ্ট একটি স্থানে হয় না, বরং আমাদের মহাবিশ্বের বাইরের শুন্যতায় এরকম সংঘর্ষ হয়েই চলেছে, ফলে সৃষ্টি হয়ে চলেছে অসংখ্য মহাবিশ্ব। এই অসংখ্য মহাবিশ্বের ভিতর আমাদের মহাবিশ্বের মত কোন একটি থাকা খুবই সম্ভব। ব্রেনের সংঘর্ষের কারণে এভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টির এই তত্ত্বকে ইকপাইরোটিক থিওরি (Ekpyrotic Theory) বলা হয় । এই তত্ত্ব ঠিক হলে আমাদের মহাবিশ্বের মত দেখতে আরও কোন মহাবিশ্ব থাকাটা বাধ্যতামূলক । এরকম মহাবিশ্বগুলোকে লেভেল টু প্যারালাল ইউনিভার্স বলে।

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সম্ভাব্যতা ও এর বর্ণনাকারী ওয়েব ফাংশনকে ব্যাখ্যা করার জন্য আরেক ধরনের প্যারালাল ইউনিভার্সের কথা বলা হয়। এ ধরনের মহাবিশ্বের কথা বুঝতে চাইলে ‘হিলবার্ট স্পেস’ নামে এক ধরনের তাত্ত্বিক ও বিমূর্ত স্থানের কথা ভাবতে হবে। এই তাত্ত্বিক স্পেস অসীম-মাত্রিক এবং একটি কোয়ান্টাম জগত যা এই হিলবার্ট স্পেসের সাপেক্ষে বিভিন্নভাবে ঘুরতে পারে। এই তত্ত্ব মতে – যে ধরনের মহাবিশ্বের কথা বলা হয়। সেগুলো প্রত্যেকটি একই জায়গায় এবং একই সময়ে সহ-অবস্থান করছে, কিন্তু প্রত্যেকে আলাদা ডাইমেনশনে অবস্থিত বলে কেউ কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। যোগাযোগ করতে না পারলে কি হবে, প্রতিটি মুহূর্তে নেয়া আপনার সিদ্ধান্তগুলো হয়ত আপনার মত অসংখ্য আপনার হুবহু প্রতিরূপের সাথে মিলিত ভাবেই নেওয়া হচ্ছে। আপনার নাকের ডগায়ই হয়ত একটি সমান্তরাল মহাবিশ্ব রয়েছে, শুধু আলাদা মাত্রায় অবস্থিত বলে তাকে ধরা ছোঁয়া যাচ্ছে না। এই তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অদ্ভুত নিয়মগুলোর উৎপত্তি আসলে এরকম অসীমসংখ্যক প্যারালাল ইউনিভার্সের যোগাযোগের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এ ধরনের সমান্তরাল মহাবিশ্বগুলোকে লেভেল থ্রি প্যারালাল ইউনিভার্স বলা হয়।

স্ট্রিং তত্ত্বে অন্তর্বর্তী জগতের মাত্রাগুলো বিভিন্ন ভাবে পেঁচিয়ে থাকার কারণে বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক নিয়মাবলী সমৃদ্ধ মহাবিশ্বের উদ্ভব হতে পারে। এ রকম আলাদা আলাদা নিয়মের মহাবিশ্বগুলোর সবকিছুই আলাদা। এমন সব মহাবিশ্বের বেশিরভাগই প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তা বিকাশের জন্য অনুপযোগী। যদিও আমরা এমন মহাবিশ্বের প্রমাণ পাইনি, কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে এরকম মহাবিশ্বের সংখ্যা প্রায় অসীম, ১০^৫০০। আর এর ভিতর আমাদের মহাবিশ্বের মত নিয়ম যুক্ত মহাবিশ্বের সংখ্যাও অগণিত। বর্তমান প্রযুক্তির ধরা ছোঁয়ার বাইরে হলেও, ভবিষ্যতে কোন দিন হয়ত আমরা এমন মহাবিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হব। এমন বিভিন্ন নিয়ম যুক্ত মহাবিশ্বকে বলা হয় লেভেল ফোর প্যারালাল ইউনিভার্স।

উপরে চার ধরনের প্যারালাল ইউনিভার্সের কথা বলা হয়েছে। স্ট্রিং তত্ত্বের সমাধানগুলো শুধু লেভেল থ্রি ছাড়া বাকি সবগুলোর অস্তিত্ব দাবি করে। স্ট্রিং তত্ত্বের সমাধানগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, অবশ্যই কোথাও আমাদের মহাবিশ্বের মত অন্য মহাবিশ্বের অস্তিত্ব রয়েছে। এই তত্ত্ব আমাদের সামনে সৃষ্টির যে চিত্র তুলে ধরে তাতে বহুবিশ্ব ও সমান্তরাল মহাবিশ্বের অস্তিত্ব খুবই বাস্তব।

লেখাটি পরিমার্জিত!

রেফারেন্সঃ

  1. https://www.tendencias21.net/La-realidad-estaria-compuesta-de-multiples-universos_a1701.html?start=50#comments
  2. bigganbortika
  3. Telegraph
  4. http://www.ghosttheory.com/2016/01/12/lerina-garcia-gordo-the-woman-from-a-parallel-universe
  5. CrimsonBD
  6. http://www.esa.int/Our_Activities/Space_Science/Planck/Planck_reveals_an_almost_perfect_Universe
  7. https://apod.nasa.gov/apod/ap101114.html
  8. https://www.nasa.gov/mission_pages/sunearth/news/mag-portals.html

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker