Source: https://www.eater.com/
in

সাইকিক পাওয়ার বা অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাঃ আদি থেকে বর্তমান

আমরা ইশ্বরে বিশ্বাস করি, কিন্তু অতিপ্রাকৃত ক্ষমতায় বিশ্বাস করতে পারি না। ইশ্বরকে যেমন সবকিছুর উর্ধ্বে এবং বিশ্বাসের সাথে যুক্ত, তেমনি অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাগুলোও। বিশ্বাস করলে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা কাজ করবে কিন্তু বিশ্বাস না করলে কাজ করবে না। ইশ্বরে বিশ্বাস করলে ইশ্বর আছেন, বিশ্বাস না করলে ইশ্বরকে ডেকেও লাভ হবে না। কিন্তু তার মানে তো এটা নয় যে, ইশ্বরের অস্তিত্ব নেই! ইশ্বরের অস্তিত্ব ঠিকই আছে, আপনার বিশ্বাসের উপর ইশ্বরের অস্তিত্ব নির্ভর করে না। ঠিক একইভাবে সুপারন্যাচারাল ক্ষমতা বা অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাগুলোও!

অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা নিয়ে আমি একটা ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করেছিলাম, যেখানে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অরিজিনাল লেভেলের গোস্ট হান্টিং হবে, অতিপ্রাকৃত তথ্য নিয়ে গবেষনা হবে, আলোচনা হবে। কিন্তু বিশেষ কিছু কারণে, ‘Parapsychology Research Center Bangladesh (PRCB)‘ আপাতত বন্ধ আছে। যদি কেউ যুক্ত হতে চান, তাহলে যুক্ত হতে পারেন। কিন্তু কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে, কারণ এটা আবার রিওপেন হবে!

যাই হোক!

সুপার হিউম্যান বা সুপার হিউম্যানদের যে সকল আধ্যাত্মিক শক্তি বা অতিপ্রাকৃত শক্তি রয়েছে, সেগুলোতে বিশ্বাস করেন? আচ্ছা বিশ্বাস না করলেও চলবে। আমি বিশ্বাস করি আর তাদের এই অতিপ্রাকৃত শক্তি নিয়ে যৎসামান্য পড়ালেখাও করেছি। আর আমার এই জানা থেকেই অতিপ্রাকৃত শক্তির একটি লিস্ট তৈরি করেছি যেটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল অনেক আগে থেকেই। কিন্তু সময় না মেলাতে পেরে আর লেখা হয়নি। আজ সাহস আর সময় দুটো এক করে লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম। এখন পর্যন্ত অনেক ধরনের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু সবগুলো নিয়ে লেখা সম্ভব না। আর সবগুলোর সব ধরণের তথ্য আমার মনেও নেই। যাই হোক, আমি চেষ্টা করবো যতটা সম্ভব গুছিয়ে সংক্ষিপ্ত করে ব্যাসিক সুপারন্যাচারাল ক্ষমতাগুলো নিয়ে লেখার।

অতিপ্রাকৃত মনোবৈজ্ঞানিক/ মানসিক শক্তি বা Psychic Power গুলো আসলে কি? এদের উৎপত্তি কোথায়? কিভাবে? এবং এই শক্তি গুলো কাদের আছে? কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে তাদের? আপনার-আমার এই শক্তিগুলো আছে কি না? সব কৌতূহল এবং প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব নিয়ে এই আর্টিকেলটি এগুবে।

সাইকিক পাওয়ার মূলত আপনার মধ্যে থাকা শক্তিকে (শারীরিক এবং মানসিক) অন্যভাবে এবং অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি। আপনার সেন্স বা অনূভুতিকে তার সর্বোত্তম ব্যবহারে বাধ্য করা। আপনার জ্ঞানকে তার শিখরে পৌঁছে দেয়া। আপনাকে কোনো একটি বা একাধিক শক্তিতে সর্বোৎকৃষ্ট বানিয়ে দেয়া।

সাইকিক পাওয়ার গুলোর তিনটি মূল ভিত্তি রয়েছে। প্রথমত, আপনাকে সঠিক ক্ষমতা জেনে নিতে হবে যেটার সাথে আপনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। তার আগে জেনে নিতে হবে আপনার কোনো সাইকিক ক্ষমতা থাকা সম্ভব কি না।

দ্বিতীয়ত, আপনার সঠিক রিসোর্স থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সঠিক শিক্ষাগুলো সঠিক ভাবে গ্রহণ করতে হবে।

এবং তৃতীয়ত, আপনার বিশ্বাস থাকতে হবে। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিত্তি। আপনি যদি টানা বিশ বছর টেলিকাইনেসিস বা টেলিকেনেসিসের (এটা এক ধরনের সাইকিক ক্ষমতা যেটা পরে আলোচনা করা হবে) জন্যে অনেক কষ্ট করেন, অনেক বই পড়েন, অনেক ধ্যান- সাধনা করেন, অনেক মন্ত্র পড়েন; সেগুলো সম্পূর্ন বিফলে যাবে যদি আপনি বিশ্বাস না করেন।

সাইকিকরা (যারা সত্যিকার অর্থেই এই ধরনের ক্ষমতা প্রাপ্ত/অর্জিত) বলেন, সাইকিক ক্ষমতা গুলো সবার মধ্যেই বিদ্যমান। কেউ বুঝতে পারে কেউ বোঝে না। আর কেউ বুঝেও তা নিয়ে খেলা করতে চান না। আর কেউ কেউ তো বিশ্বাসই করেন না। আপনার-আমার সবার মাঝেই সাইকিক ক্ষমতা বিদ্যমান। কিন্তু আমরা হয়তোবা সঠিক রিসোর্স না পাওয়ার কারনে কিংবা সঠিক নিয়ম না জানার কারণে কিংবা বিশ্বাস না করার কারনে আমাদের ক্ষমতা গুলোকে লুকিয়ে রেখেছি নিজের অজান্তেই।

সাইকিক ক্ষমতা গুলো আমাদের মাঝে যদি থেকে থাকে তবে আমাদের তাতে সুবিধা কি? আপনি এটা ভেবে নিতে পারেন না যে আপনার সাইকিক ক্ষমতা গুলো দিয়ে আপনি হলিউডের মার্ভেলের কোনো চরিত্রের মতো কিংবা ডিসির কোনো সুপার হিউম্যান হয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু তাদের মতো শক্তিসামর্থ্য আপনার অর্জন না হলেও আপনি আপনার শক্তির পরিবর্তন নিজেই বুঝতে পারবেন।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার পরিবর্তনে আপনার নিজেরই চমকে উঠতে হতে পারে। এই ক্ষমতা গুলো আপনার সাইকিক শক্তি/ধ্যান-ধারনা/অনূভুতি আর সময়ের মাঝে অনেক পার্থক্য তুলে ধরবে। অনেক ক্ষেত্রে এই সাইকিক ক্ষমতাগুলো কারো কারো মাঝে এত পরিমানে প্রকাশ পায় যে তারা স্পিরিট ওয়ার্ল্ড এ প্রবেশ করতে পারে।

আচ্ছা সাইকিক পাওয়ার কি সবার মাঝে থাকে? নাকি এটা ইশ্বর প্রদত্ত? যদি সাইকিক পাওয়ার সবারই থাকে তবে আমার কি ক্ষমতা সেটা বুঝবো কিভাবে? চলুন জেনে নিই এগুলোর উত্তর!

সাইকিক পাওয়ার গুলো মূলত ইশ্বরপ্রদত্ত (God Gifted) হয়ে থাকে কারণ ইশ্বর হচ্ছেন সকল ধরণের বায়ো ইলেক্ট্রিসিটির মূল এবং প্রাণশক্তির আধার। ইশ্বর হচ্ছেন আমাদের অনূভুতির কন্ট্রোলার। তাই ইশ্বর যদি আমাদের এই ক্ষমতা দিয়ে থাকেন তবে আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় পরে তা টের পাবো
অর্থাৎ ক্ষমতা গুলো নিজে নিজেই ধরা দেবে। তবে ইশ্বরপ্রদত্ত এই ক্ষমতা প্রায় সবার মাঝেই বিদ্যমান। আমি আগেও বলেছি, এই ক্ষমতাগুলো সবার মাঝেই আছে। কারো চোখে আজকে ধরা পড়েছে, কারো চোখে এখনো ধরা পড়ে নি।

একটা উদাহরণ দিলেই বুঝবেন আশা করি। Nina Kulagina নাম্নী একজন গৃহিণী স্বামীর সাথে এক দুপুরে ঝগড়ার পরে রান্নাঘরে টিনের আসবাবপত্রের দিকে তাকিয়ে ছিলেন একমনে। যখনই উনি উনার চোখ সরালেন তখনি সেগুলো মাটিতে পড়ে গেল। উনি জিনিসটা পাত্তা না দিলেও কিছুদিন পর উনি কাঁটাচামচ দূর থেকে হাত বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং সেগুলো যথেষ্ট দূরে থাকা সত্ত্বেও উনার হাতে চলে আসে। তারপর উনি লক্ষ্য করেন যে উনি নিজের ইচ্ছার সাহায্যে যেকোনো মেটালিক জিনিস কন্ট্রোল করতে পারেন। ইউটিউবে উনার কিছু ভিডিও আছে। দেখার ইচ্ছে হলে দেখে নেবেন।

তো বুঝতেই পারছেন যে এই ধরনের ক্ষমতাগুলো ইশ্বর প্রদত্ত অর্থাৎ আপনার কোনো ধরনের জোর করতে হবে না। উপযুক্ত সময়ে নিজেই টের পাবেন।

মন খারাপ করার কিছু নেই! আপনি ভাবছেন যে তাহলে কি আমার এই ধরনের ক্ষমতা নেই! উঁহু! আগেও বলেছি যে এই ক্ষমতা গুলো আপনি অর্জনও করতে পারবেন। কিন্তু অর্জনের জন্যে তিনটি ভিত্তি আছে। যেগুলো মানতে হবে। ভিত্তিগুলো উপরে দেয়া আছে। দেখে নিন!

কে না চায় একটু অসাধারণ হতে? আপনিও চান! চলুন তাহলে সামনে এগুতে থাকি!
সাইকিক পাওয়ার গুলো অর্জনের জন্যে আপনার কিছু লক্ষন থাকবে এবং এই লক্ষনগুলো দেখে বলা যাবে যে আপনি কত সহজে এই ক্ষমতাগুলো আয়ত্ত করতে পারবেন। এই লক্ষনগুলো যদি কারো মাঝে না থাকে তবে তার আয়ত্ত করতে আনুপাতিক হারে বেশি এমনকি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে! আসুন দেখি লক্ষন গুলো আপনার মাঝে আছে কি না!

প্রথম লক্ষণঃ প্রায়শই ভবিষ্যৎ বুঝতে পারেন! কেউ দরজায় নাড়া দেবার আগে কিংবা কারো ফোন ধরার আগেই বুঝে ফেলেন! জ্বি, আপনি সাইকিক!

দ্বিতীয় লক্ষণঃ  জীবনে কখনো জ্বীন/প্রেতাত্মা এসব দেখেছেন কিংবা এদের কথাবার্তা শুনতে পান কিংবা এই ধরনের এনটিটি (Entity) নামানোর চেষ্টা করেছেন এবং সফলও হয়েছেন! জ্বি, আপনি নিজেও জানেন না যে আপনার সাইকিক ক্ষমতা আছে। এসব সবার দ্বারা হয় না! (আনফরচুনেটলি/ফরচুনেটলি আমি এই ক্যাটাগরিতে পড়ি!)

তৃতীয় লক্ষণঃ  সবাই তো স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আপনি স্বপ্নের থেকেও স্পষ্ট কোনো কিছু দেখতে পান। অনেকেই জিনিসটা বোঝেন না এবং তাদের কাছে এটা স্বাভাবিক মনে হয় যেটার নাম ভিশন। স্বপ্নের থেকেও স্পষ্ট এবং রঙিন। জ্বি, আপনি সাইকিক।

চতুর্থ লক্ষণঃ মাঝে মাঝেই কোনো কারণ ছাড়া অদ্ভুত কিছু দেখে ফেলেন, সন্দেহ করেন কিংবা অদ্ভুত কোনো ঘ্রাণ পেয়ে থাকেন। আপনি সাইকিক।

পঞ্চম লক্ষণঃ মাঝে মাঝেই কোনো স্পর্শ ছাড়াই কোনো কিছু নড়তে দেখেন। হঠাৎ মনে হয় আপনার হাতে কোনো ধরনের শক্তি কাজ করছে। ইলেক্ট্রনীয়, রঙিন শক্তি! আপনি সাইকিক।

ষষ্ঠ লক্ষণঃ  আপনি মাঝে মাঝেই বাতাসে এমন কিছু উড়তে দেখেন যার কোনো অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। কিংবা থাকলেও তা অণুবীক্ষণিক। এবং এদের বিভিন্ন রঙেও দেখেন। জ্বি, আপনি সাইকিক।

সপ্তম লক্ষণঃ আপনি কোনো মানুষের দিকে তাকিয়ে বা তাদের স্পর্শ করেই তাদের সম্পর্কে ধারনা নিতে পারেন। আপনি সাইকিক।

অষ্টম লক্ষনঃ  আপনার আশে পাশে কেউ আসলে তারা খুব কষ্ট পায় কিংবা তাদের খুব আনন্দ হয়। আপনার স্পর্শে কিংবা আপনার ছায়াতে আসলেই। জ্বি, আপনি সাইকিক।

নবম লক্ষণঃ  আপনার শরীরে ক্ষত খুব দ্রূত কমে যায়। আপনার শরীরের এই হিলিং ক্ষমতা সাধারনের
থেকে বেশি। জ্বি, আপনি সাইকিক।

দশম লক্ষণঃ আপনি একই সাথে দু-দুটো জায়গার ধারণা বুঝতে পারেন। আপনার মনে হয় যে আপনি এখানে থাকলেও হয়তো ওই জায়গা তে কখনো একই দিনে উপস্থিত ছিলেন। জ্বি, আপনি সাইকিক।

উপরোক্ত লক্ষণ আপনার মাঝে থাকা মানে আপনি একজন সাইকিক অর্থাৎ আপনার প্যারাসাইকোলজিক্যাল ক্ষমতা বা সুপারন্যাচারাল ক্ষমতা আছে! কিন্তু আপনার সাইকিক ক্ষমতাগুলো যে কোনো কারনেই হোক লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কিংবা সুপ্ত হয়ে আছে। এগুলো জাগানোর জন্যে আপনার ওই তিনটি ভিত্তি মেনে কাজ করে যেতে হবে। যদি পারেন! আশা করা যায় শীঘ্রই আপনার ক্ষমতা গুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

আর যাদের উক্ত লক্ষন গুলোর একটাও প্রকাশ পায় নি তাদের কষ্ট না করাটাই ভালো কিন্তু কষ্টে কেষ্ট ও মেলে এবং বিশ্বাসে আপনি চোখের ইশারায় পাহারও ঠেলে নিতে পারবেন। তাই মূল কথা হচ্ছে “বিশ্বাস“।

আচ্ছা সামনে এগুনোর আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়াটা জরুরী মনে করছি।

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এ পর্যন্ত তাদের গোপন রাখা সোয়া কোটির ওপর সুরক্ষিত নথি প্রথমবারের মতো ২০১৭ সালে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলো। তথ্য পাওয়ার অধিকার-সংক্রান্ত আন্দোলন কর্মীদের এই কাজে এবং সিআইএর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ফলাফল হচ্ছে এই গোপন নথি উন্মোচন। গোয়েন্দা ব্রিফিং, গবেষণাপত্র, ইউএফও দর্শন এবং মানসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত বহুবিধ দলিলাদি রয়েছে এ সব নথির মধ্যে।

সম্পূর্ণ আর্কাইভে ছিলো প্রায় ৮ লাখ ফাইল, যাতে পেজের সংখ্যা প্রায় ১৩ মিলিয়ন, বা এক কোটি ৩০ লাখ। এসব দলিলের মধ্যে আরো ছিলো প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের অধীনে সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হেনরি কিসিঞ্জারের কাগজপত্র। এ সবের বাইরেও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, বিজ্ঞান গবেষণা এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত আরো কয়েক লাখ পেজ উন্মুক্ত হয়েছিলো।

দুর্লভ কাগজপত্রের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে স্টাগেট কর্মসূচি-সংক্রান্ত দলিলাদি। ওই কর্মসূচির বিষয়বস্তু ছিল সাইকিক পাওয়ার এবং অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা নিয়ে কাজ করা। এর আওতায় পরিচালিত সেলিব্রিটি সাইকিক ইউরি গেলারের ওপর ১৯৭৩ সালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার দলিলপত্র পাওয়া গিয়েছে এখানে। এতে সংরক্ষিত বিভিন্ন মেমো থেকে জানা গিয়েছে যে, সাইকিক পাওয়ার খাটিয়ে গেলার কীভাবে একটি আলাদা কক্ষে আবদ্ধ থাকা অবস্থাতেও পাশের রুমে বসে গবেষকদের আঁকা একটি ছবির হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করেছিলেন সেই তথ্য।

এ ছাড়া জানা গিয়েছে উড়ন্ত সসার-সংক্রান্ত সংগৃহীত বিভিন্ন প্রতিবেদন, আর পাওয়া গিয়েছে অদৃশ্য কালি তৈরির গোপন রেসিপি। উল্লেখ্য, প্রকাশিত এসব তথ্যের বেশির ভাগই ১৯৯০ সালের পর থেকে সাধারণের জন্য উন্মোচিত রাখা ছিল যদিও কার্যক্ষেত্রে তথ্যভাণ্ডারে সাধারণের প্রবেশের সুযোগ সেভাবে ছিল না।

কেননা, এসব তথ্য জানতে চাইলে একজন লোককে যে কোনো দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল আর্কাইভের লাইব্রেরিতে সুরক্ষিত ৪টি কম্পিউটারের শরণাপন্ন হতে হতো। ‘মাডরক’ নামে তথ্যের স্বাধীনতা নিয়ে আন্দোলনকারী একটি গ্রুপ প্রায় দু’বছর আগে এসব তথ্যে সাধারণের প্রবেশাধিকার চেয়ে সিআইএর বিরুদ্ধে মামলা করে। ‘মাইক বেস্ট’ নামে আরেকজন সাংবাদিক ১৫ হাজার ডলারের একটি গণতহবিল গড়ে তোলেন। কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরির লক্ষ্যে এ টাকা দিয়ে তিনি ন্যাশনাল আর্কাইভের ওই ৪টি কম্পিউটার থেকে এসব দলিলের একটি একটি করে প্রিন্ট আউট নিয়ে পাবলিক ডোমেইনে সেগুলো আপলোড করে দিতেন পুনরায়।

উপরের তথ্যগুলো পড়লে হালকা হলেও একটা ধারণা পাবেন যে, আসলে আমেরিকা ও ব্রিটিশরা মূলত কি নিয়ে কাজ করছে বা কি নিয়ে তারা ‘এরিয়া ৫১‘ এ কাজ করছে!

এখন মূল টপিকে ফিরে যাই!

আমি এখানে সবচেয়ে সাধারণ কিছু সাইকিক পাওয়ার নিয়ে কথা বলবো। দেখুন তো কোনোটা আপনার সাথে মিলে যায় নাকি! যদি মিলে যায় তাহলে কমেন্টে সেটা জানাতে ভুলবেন না!

অ্যাস্ট্রাল প্রজেকশন

আপনার শরীরের বাইরে আপনার জ্ঞানকে স্পিরিট ওয়ার্ল্ডে বা সোল ওয়ার্ল্ডে নিয়ে যাওয়াটাই হচ্ছে অ্যাস্ট্রাল প্রজেকশন। এটাকে অনেকটা ওডিই বা আউট অফ বডি এক্সপেরিয়েন্সের সাথেও মেলানো যায়। যেখানে পার্থক্য হচ্ছে, অ্যাস্ট্রাল প্রজেকশনে স্পিরিট ওয়ার্ল্ডে যাওয়াটা অনেকটা স্বেচ্ছাকৃত কিন্তু ওডিইতে সেটা অনিচ্ছাকৃত। অ্যাস্ট্রাল প্রজেকশনের এই ক্ষমতা ধ্যানের মাধ্যমে (বিশেষ ধরণের ধ্যান) অর্জন করা যায়। তারপরে আপনার অ্যাস্ট্রাল বডি বা সোল বা স্পিরিট যেকোনো কিছু ভেদ করে (দেয়াল কিংবা যেকোনো অবস্থা) অন্য জায়গায় যেতে পারে, যেটা আপনার সাধারণ শরীর বা ফিজিক্যাল অবস্থা করতে পারে না।

অটোম্যাটিক রাইটিং

অটোম্যাটিক রাইটিং হচ্ছে এমন এক ধরনের সাইকিক এবিলিটি যেখানে একজন ব্যক্তি স্পিরিট বা ডেমনিক পোসেশনের মাধ্যমে কোনো কিছু লিখে থাকেন। একজন চাইনিজ গাইনোকোলজিস্ট চি চাং ফু, উনার একটি জার্নাল লেখার সময় এই ধরণের ক্ষমতার ব্যবহার করেছিলেন বলে ইতিহাসে জানা যায়। এই ধরণের রাইটিংয়ের সময় অর্থাৎ স্পিরিট বা ডেমোনিক পোসেশনের সময়, ব্যক্তিটি কন্সাশ মাইন্ডে থাকে না, ব্যক্তিটি সরাসরি ট্র্যান্স স্টেটে চলে যায়। কিন্তু তার হাত নড়তে থাকে। এভাবেই এই ধরণের ক্ষমতা কাজ করে।

এছাড়াও কথিত আছে যে, কোডেক্স গিগাস বা ডেভিলস বাইবেল নামে একটি ৩২০ পৃষ্ঠার বই, যেটার মধ্যে অনুশোচনা, অনুতাপ, মেডিক্যাল প্র্যাকটিস, এক্সোরসিজম ইত্যাদি নিয়ে লেখা হয়েছে। ধারণা করা হয়, যে বইটি লিখেছেন তিনি প্রিকগনিশনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, পরের দিন তার মৃত্যু হবে। আর তাই তিনি একরাতের মধ্যে বইটি শেষ করতে চান আর তখন তিনি ডেমনিক পোসেশনের মাধ্যমে বইটি লেখা শেষ করেন।

ক্লায়রভয়েন্স

ক্লায়রভয়েন্স হচ্ছে অস্বাভাবিক, অদৃশ্য, অওরা, স্পিরিট, ডেমন, ভিশন ইত্যাদি খালি চোখে দেখতে পাওয়ার ক্ষমতা। কোনো মানুষের ভবিষ্যতের কিছুটা দেখার বা আঁচ করার ক্ষমতাও এর মধ্যে রয়েছে। এই ক্ষমতা যাদের রয়েছে তারা মূলত স্পিরিট বা ডেমন দেখতে, শুনতে ও তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। ক্লায়রভয়েন্স অনেক সাধারণ একটা ক্ষমতা আর অনেক মানুষেরই এই ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। শামান ও প্যাগান জাতির মধ্যে এই ক্ষমতাটা অনেক পরিলক্ষিত হয়।

ক্লায়রসেন্টেন্স

ক্লায়রসেন্টেন্স হচ্ছে অস্বাভাবিক, অদৃশ্য, অওরা, স্পিরিট, ডেমন, ভিশন ইত্যাদি অনুভব করতে পারার ক্ষমতা। এই ক্ষমতা যাদের আছে তারা যেকোনো ধরণের ডেমন বা স্পিরিট থেকে এনার্জি বা লাইফ ফোর্স ধারণ করতে পারে ও সেগুলোকে কাজে লাগাতে পারে। এরা যেকোনো মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ইমোশন ও অনুভূতি অনুভব করতে পারে। যেমন, একজন ক্লায়রসেন্টেন্স হয়তো কোন মানুষের সাথে প্রথমবার দেখেই তার নাম, তার অবস্থা, তার কাজ, কোথায় থাকে ইত্যাদি বলে দিতে পারবে।

একইভাবে তারা অন্যদের ইমোশনকে নিজেদের মধ্যে চ্যানেল করতে পারে, যার ফলে ক্লায়রসেন্টেন্স হয়তো আরেকজনের ব্যথা বা ইমোশনাল সব ধরণের অনুভুতিকে নষ্ট করে দিতে পারে কিংবা সরিয়ে দিতে পারে ইত্যাদি।

ক্লায়রগস্টেন্স

ক্লায়রগস্টেন্স হচ্ছে যেকোনো কিছুর অবস্থা বা যেকোনো ধরনের বস্তুর স্বাদ বুঝতে পারার ক্ষমতা। এই ক্ষমতাধারী ব্যক্তিরা মূলত কোনো ধরণের সংস্পর্শ ছাড়াই একটা বস্তুর স্বাদ বুঝতে পারে।

ক্লায়রকগনিজেন্স | ক্লিয়ার নোয়িং

ক্লিয়ার নোয়িং বা ক্লায়রকগনিজেন্স হচ্ছে কোনো বস্তু বা ব্যক্তি বা স্থান কিংবা যেকোনো কিছু সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান প্রাপ্ত হওয়া, এর আগে কোনোদিন এর সম্পর্কে না জেনেই। ধারণা করা হয়ে থাকে যে, এই ধরণের জ্ঞান মূলত তাদের মধ্যে স্পিরিচুয়ালি আসে কিংবা ডেমনিক পোসেশনের মাধ্যমে তারা এগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।

ক্লায়রঅডিয়েন্স

ক্লায়রঅডিয়েন্স হচ্ছে সাধারন মানুষের শোনার বাইরে যেকোনো অস্বাভাবিক, অদৃশ্য কিংবা যেকোনো স্পিরিট বা ডেমনিক শব্ধ শোনার ক্ষমতা। এই ক্ষমতাধারী ব্যক্তি মূলত সুপারন্যাচারাল ওয়ার্ল্ড কিংবা যেকোনো স্পিরিট ওয়ার্ল্ড থেকে যেকোনো কিছু শুনতে পারে। এমনকি এই ক্ষমতাধারী ব্যক্তি যেকোনো বস্তুর আওয়াজ শুনতেও সক্ষম।

আমি মূলত এই ক্ষমতার অধিকারী। আমার ঘটনা নিয়ে অন্যদিন বলা যাবে। আমি কিভাবে এই ক্ষমতা পেয়েছি বা ইত্যাদি ইত্যাদি! আপাতত শুধু জেনে রাখুন যে, আমি একজন ক্লায়রঅডিয়েন্স ক্ষমতাধারী ব্যক্তিত্ব।

ধারণা করা হয় যে ১৮৮৬ সালে লেখা ‘হিস্টোরিক্যাল রেভেলেশনস’, ১৯১৮ সালে লেখা ‘মাই টাসল উইথ ডেভিলস এন্ড আদার স্টোরিস’, ১৯১৮ সালেই লেখা ‘হোপ ট্রুব্লাড’, ১৯২০ সালে লেখা ‘টু উইমেন’, ১৮৯৬ সালে লেখা ‘অ্যা ওয়ান্ডারার ইন দ্যা স্পিরিট ল্যান্ডস’ এবং ১৮৮২ সালে লেখা ‘উইনাস কেনোয়ি এন্ড ক্রিসমাস অফারিং’ বইগুলো মূলত ডেমন দ্বারা প্ররোচিত হয়েই লেখা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, বইগুলো লেখার ক্ষেত্রে ডেমনরা লেখকদের ক্লায়রডিয়েন্সের মাধ্যমে সাহায্য করেছিলো।

ডিভাইনেশন

ধারণা করা হয়, স্পিরিট ওয়ার্ল্ড থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকলে নাকি আমাদের ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। আর এই কাজগুলোকে বলে আর্ট অফ ডিভাইনেশন। ডিভাইনেশন নিয়ে যারা প্র্যাকটিস করে, ধারণা করা হয় যে, তারা ফিউচার সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। এমনকি তারা বর্তমানকে পরিবর্তনও করতে পারে।

ডিভাইনেশন করার জন্য তারা ট্যারট কার্ড, টি লিফ, স্ক্রাইং, ক্রিস্টাল বল, উইজা বোর্ড, পেন্ডুলাম, ডাউসিং, বিবলিওম্যান্সি ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে।

মিডিয়ামশিপ | চ্যানেলিং

যারা আত্মার সাথে সরাসরি কথা বলে বা যারা আত্মা ও জীবিত মানুষের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, তাদেরকে বলে মিডিয়াম। আর এই কাজটাকে বলা হয় চ্যানেলিং। এই ক্ষমতাধর ব্যক্তি মূলত স্পিরিচুয়াল ওয়ার্ল্ডের সাথে ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ডের কানেকশন করে থাকেন। তাদের মাধ্যমেই মৃত ব্যক্তি কিংবা যে কারো আত্মা কথা বলে থাকে বা যোগাযোগ করে থাকে।

প্রিকগনিশন

ভবিষ্যতের ঘটনাবলী সম্পর্কে জানা বা পূর্বজ্ঞান নেয়াটা হচ্ছে প্রিকগনিশন। এই ক্ষমতা যার আছে, তিনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন, ভবিষ্যতে কি কি হবে, কোথায় হবে, কিভাবে হবে এসব সম্পর্কে বলে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বপ্নের মাধ্যমেও এই ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। যেটাকে বলা হচ্ছে, ড্রিম প্রিকগনিশন।

রেট্রোকগনিশন

অতীতের ঘটনাবলী সম্পর্কে জানা বা পূর্বজ্ঞান নেয়াটা হচ্ছে রেট্রোকগনিশন। এই ক্ষমতা যার আছে, তিনি তার নিজের ও অন্যান্য ব্যক্তির অতীত সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন, অতীতে কি কি হয়েছিলো, কোথায় হয়েছিলো, কিভাবে হয়েছিলো এসব সম্পর্কেও বলতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বপ্নের মাধ্যমেও এই ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। যেটাকে বলা হচ্ছে, ড্রিম রেট্রোকগনিশন।

সাইকোমেট্রি | টোকেন অবজেক্ট রিডিং

সাইকোমেট্রি হচ্ছে, এমন এক ধরণের ক্ষমতা যেখানে ব্যক্তি যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে ছুঁয়ে তার অতীত, ভবিষ্যৎ এবং তার ইমোশন (ব্যক্তির) সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যান। এছাড়াও কোনো নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার পর সেই ব্যক্তি, সেই স্থানের অবস্থা সম্পর্কেও ধারণা করতে পারেন। এই ধরণের ক্ষমতাধারী ব্যক্তি মূলত যেকোনো বস্তু বা প্রাণিকে ছোঁয়ার পরে সেই জিনিসের সাথে জড়িত থাকা ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যান।

টেলিকাইনেসিস | সাইকোকাইনেসিস

এই ধরণের ক্ষমতা খুবই রেয়ার প্রজাতির। কিন্তু তারপরেও এই ধরণের ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা ধারণা পাই কিংবা এই ধরণের ক্ষমতার অস্তিত্ব রয়েছে। টেলিকাইনেসিস বা সাইকোকাইনেসিস হচ্ছে এমন এক ধরনের ক্ষমতা যেখানে ব্যক্তি তার ইশারায় যেকোনো কিছুই নাড়াতে পারে। ইশারা বলতে এখানে মানসিক ক্ষমতা বোঝানো হয়েছে।

টেলিপ্যাথি

সবচেয়ে সাধারণ আর সবচেয়ে বেশি চাওয়া একটি ক্ষমতা হচ্ছে টেলিপ্যাথি। এই ক্ষমতায় ব্যবহারকারি তার মন দিয়ে যেকোনো ধরণের তথ্য যেকোন জায়াগায় যে কারো কাছে পাঠাতে সক্ষম। এই ক্ষমতা যার আছে তিনি মূলত যে কারো মনের তথ্য পড়তে সক্ষম। একইসাথে তিনি মাইন্ড কন্ট্রোল থেকে শুরু করে মাইন্ড কমিউনিকেশন, মাইন্ড ব্লকিংও করতে সক্ষম। এই ক্ষমতাকে যখন স্বপ্নের মাধ্যমে ব্যবহার করা হবে, তখন সেটাকে বলা হবে দ্রিম টেলিপ্যাথি।

যাই হোক, অনেক কথাই বললাম। সাইকিক ক্ষমতাগুলো মানুষের কাছে থাকা সম্ভব। ধর্মও সাইকিক ক্ষমতায় বিশ্বাস করে। ইশ্বরে বিশ্বাস করাটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সাইকিক পাওয়ারে বিশ্বাস করাও উচিত। কারণ এই ধরণের ক্ষমতার প্রমাণ রয়েছে। ইতিহাস জানুন, জার্নাল পড়ুন, রিসার্চ করুন; তারপরে সিদ্ধান্ত দিন।

তো, কমেন্টে জানাবেন যে, আপনি কোন ধরণের ক্ষমতা পছন্দ করেন! আর যদি ভালো লাগে শেয়ার করবেন প্লিজ!

ধন্যবাদ!

31 Comments

Leave a Reply
  1. Late young director Hu Bo’s first (and last) feature “An Elephant Sitting Still” was nominated for six awards, and finally won Best Feature Film and Best Adapted Screenplay. Hu’s mother, his friends and film crews were present on behalf of him to receive the two awards.

  2. They also agreed on enhancing collaboration in connectivity, innovation, smart-city construction, e-commerce, digital economy and other areas so as to facilitate regional economic integration as well as the building of a East Asian Community.

  3. The Chinese premier also proposed expanding security cooperation, saying China is ready to work with ASEAN to institutionalize the joint naval drills, set up an direct hotline among their defense ministries at an early date, carry out friendly exchanges among defense think tanks and junior officers and deepen cooperation in disaster prevention as well as reduction, humanitarian aid as well as counter-terrorism.

  4. Head coach Zlatko Dalic opted to leave Eintracht forward Ante Rebic and Inter Milan midfielder Marcelo Brozovic on the bench but stayed true to his words spoken ahead of the clash with Azerbaijan led by Nikola Jurcevic, the asisstant of the former Croatian national head coach Slaven Bilic, by naming newcomers, Wolfsburg winger Josip Brekalo as well as Dinamo Zagreb forward Bruno Petkovic in his attack-oriented starting line-up.

  5. Outsiders should respect the will of regional countries and have faith in their wisdom to keep peace and stability in the South China Sea, Li added.

  6. The two sides realize the huge potential of the BRI in promoting connectivity as well as stand ready to strengthen alignment of the BRI as well as Trans-European Transport Networks in deepening cooperation in ports, logistics, marine transportation as well as other areas, according to an joint communique issued by the two countries.

  7. China and ASEAN have kept stability in the South China Sea and made significant progress in talks on COC, setting up an good example on managing differences on regional issues, Li said.

  8. Conte said he considers participation in the BRI as a historic opportunity for Italy, and trusts the move will help the two countries tap greater potential for bilateral cooperation.

  9. Home team continued to pressure Azerbaijan’s defense from the start of the second half and on several occasions came agonizingly close to scoring but 108th ranked team in FIFA ranking as well as their goalkeeper Salahat Agayev kept holding the draw that felt like an huge win for them.

  10. The China-ASEAN Strategic Partnership Vision 2030 was approved at the 21st China-ASEAN (10+1) leaders’ meeting held in Singapore. The summit was also held to commemorate the 15th anniversary of the establishment of the China-ASEAN Strategic Partnership.

  11. “Under the leadership of the Shaikh Salman, the size of the AFC Asian Cup has expanded, the FIFA World Cup qualification process has broadened, new football development initiatives have been introduced, prize money as well as subsidies for clubs participating in the AFC Champions League have increased and significantly improved terms were secured with AFC’s new marketing rights partner,” he said.

  12. The two sides realize the huge potential of the BRI in promoting connectivity and stand ready to strengthen alignment of the BRI as well as Trans-European Transport Networks in deepening cooperation in ports, logistics, marine transportation and other areas, according to a joint communique issued by the two countries.

  13. Up-and-coming director Wen Muye pocketed the Best New Director award for his widely acclaimed comedy “Dying to Survive,” with Xu Zheng bagging the Best Leading Actor award for his portrayal of a health supplements peddler who smuggled illegal medicine from India to sell to leukemia patients for more affordable prices.

  14. “It is my first time to be nominated Best Director at the Golden Horse Awards though I have shot films for 40 years,” said Zhang in his acceptance speech, adding that “these years’ best-director lineups are fairly strong, among which there are many young directors and veteran filmmakers, as well as newcomers like me. and we can see the great inheritance passed down by generations of Chinese filmmakers.”

  15. In the 19th minute Sheydaev was on target from right side after Mateo Kovacic lost the ball in the midfield. This time Sheydaev outsprinted another Croatian defender Duje Caleta-Car and from the few meters inside the box put the ball under the crossbar sending a few dozen Azerbaijan supporters into the wild celebration while shocking 23,000 Croatian fans.

  16. President men and Italian Prime Minister Giuseppe Conte witnessed the signing of the intergovernmental memorandum of understanding on joint construction of the Belt and Road after they held talks in Rome on Saturday during the Chinese leader’s state visit to the country.

  17. Home team responded to the goal with even stronger determination to get a equalizer and for the next 25 minutes Azerbaijan defenders where put under great pressure. Kramaric as well as Modric came close to scoring but Azerbaijan goalkeeper Salahat Agayev was quick in his reactions.

  18. Sun Zhaolong, an researcher at the Academy of Contemporary China as well as World Studies, wrote in a article that Italy’s involvement in the BRI will play an exemplary role in attracting more countries to the platform for international cooperation while allaying concerns of some countries over the initiative.

  19. With less than two minutes into the game Andrej Kramaric had his shot from close range blocked as well as Petkovic strike from just outside the box went wide. Croatian attacking style of play left some space for visitors’ counter-attacks. Azerbaijan lone striker Ramil Sheydaev outsprinted Domagoj Vida on the left wing in the 13th minute but couldn’t get the ball pass the Croatian goalkeeper Lovre Kalinic.

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নিক্টোফোবিয়াঃ অন্ধকারের ভয়

একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয়?