Source: https://www.google.com/url?sa=i&source=images&cd=&cad=rja&uact=8&ved=2ahUKEwi1vozijpvgAhUJrI8KHcjBBlEQjRx6BAgBEAU&url=https%3A%2F%2Fanomalien.com%2Fwhat-is-voodoo%2F&psig=AOvVaw1BfPBMowr2Li1BvrCwTexH&ust=1549130393603409
in

ব্ল্যাক ম্যাজিক | কালো জাদু (প্রথম পর্ব)

ডার্ক আর্টস বা ব্ল্যাক ম্যাজিক, এক ধরণের সিক্রেট আর্ট যেটা সাধারন মানুষের থেকে দূরে রাখা হয়েছে অনেক অনেক বছর ধরে। পনের বিসিই থেকে শুরু করে হাজার বছর ধরে ব্ল্যাক ম্যাজিক (এক ধরনের সাইকিক এনার্জি, জাপানিজদের মতে ‘দ্যা পাওয়ার অফ চি’) মানুষের ক্ষতি করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যবহার করেও ভালো কাজ করা যায়, মানুষের উপকার করা যায় এই বিষয় সম্পর্কে মানুষ জেনেছে ১৬৫০ সালের পর থেকে। ম্যাসাচুসেটসের সালেম শহরে ১৬৫০ সাল থেকে ১৬৯০ সাল পর্যন্ত প্রায় দুইশোয়ের বেশি নারী ও পুরুষকে উইচক্রাফট (এক ধরণের গোষ্ঠি যারা বিভিন্ন কাজে জাদু ব্যবহার করে) করার দায়ে ফাঁসি দেয়া হয়।

ইতিহাস বলে, সালেম শহর ততটা উন্নত ছিলো না। কিন্তু ১৬০০ সালের সেই পারিপার্শ্বিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে উইচক্রাফট যারা করে, তাদেরকে ফাঁসি দেয়া হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, মানুষ তখন শুধুমাত্র ঈশ্বরকেই ভয় পেতো। আর সুপারন্যাচারাল ক্ষমতাকে ইশ্বরের রিভার্স বলে চালিয়ে দিতো। তখনকার পাদ্রি গোষ্ঠি খুবই অন্তর্মুখী চরিত্রের হওয়ার কারণে অস্বাভাবিক ক্ষমতাকে আটকে দেয়ার পরিকল্পনা করতো।

তখনকার মানুষের চিন্তাভাবনা কতটা গোঁড়া ছিলো সেটা তখনকার কয়েকটা আইনের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন। তখনকার বেশ কিছু স্ট্রেঞ্জ ধরণের আইন ছিলো এমন,

  • মেয়েরা প্যান্ট পড়তে পারবে না। আলখাল্লা পড়তে হবে।
  • আঞ্চলিক ভাষা (অ্যাকসেন্ট) ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে পারবে না।
  • নারীরা অ্যালকোহল পান করতে পারবে না।
  • পাদ্রীরা ঈশ্বরের সমান। সে হিসেবে তাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। 
  • পাদ্রীদের যেকোনো ভুল তিনবার পর্যন্ত ক্ষমা করা যাবে। সাধারণ মানুষের ভুল ক্ষমার অযোগ্য।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে তখনকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার দিকে তাকালেই দেখা যায়, সালেম শহর কতটা পিছিয়ে ছিলো।

যাই হোক! তো, সালেম শহরের সেই ঘটনার পর, ১৭০৫ সালের দিকে বেশ কয়েকজন পাদ্রীকে লোকাল গভর্নমেন্ট যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় এবং সেদিনের পর থেকে সালেম শহর বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে উঠতে শুরু করে।

আসলে কি জানেন? ম্যাজিক (জাদু) বা স্পেল (মন্ত্র) সাধারণত রঙহীন হয়। আমরা যদিও ব্ল্যাক ম্যাজিক বলে থাকি, আসলে এটার কোনো রঙ নেই। ব্ল্যাক ম্যাজিককে আমরা কালোজাদু বা খারাপ হিসেবে দেখে থাকি আর হোয়াইট ম্যাজিককে ভালো বা উপকারী জাদু হিসেবে দেখে থাকি। সে হিসেবে খারাপ আর ভালোর ডিফারেন্স করা হয়েছে এই ব্ল্যাক আর হোয়াইট দিয়ে।

অনেক ধর্মেই ব্ল্যাক এবং হোয়াইট ম্যাজিক ডিরেক্টলি নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। আবার অনেক ধর্মেই এটা ডিরেক্টলি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ঘুরে ফিরে প্রত্যেক ধর্মেই ম্যাজিক বা ম্যাজিকাল স্পেল ব্যবহার করা হয়। এমনকি ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টান, প্রত্যেক ধর্মেই ম্যাজিক ইন্ডিরেক্টলি ব্যবহৃত হয়। কীভাবে? সেটা জানার আগে আপনাকে স্পষ্টভাবে ও গোঁড়ামি দূরে সরিয়ে রেখে জানতে হবে যে, আসলে ম্যাজিক কি বা স্পেল কি আর এসব কীভাবে কাজ করে!

যদি এক কথায় বলতে হয়, ম্যাজিক বা জাদু হচ্ছে একটি বিশেষ টার্ম যেখানে কিছু বিশেষ প্রার্থনা বা মন্ত্র বা স্পেল উচ্চারণ করার কারণে আপনার শরীর ও অবচেতন মন একসাথে সংযুক্ত হয় এবং এর ফলে যে ভাইব্রেশনের (‘সাইকিক এনার্জি বা চি’) সৃষ্টি হয় তার ফলে আপনি অতিপ্রাকৃত রেল্মে ঢুকতে পারেন।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে এগুলো কাজ করে কেন?
উত্তরঃ এগুলো কাজ করে কারণ এগুলো লেখা হয়েছে বা তৈরি হয়েছে বা এসেছে সরসরি ঈশ্বরের হাত ধরে। একবার শুধু চিন্তা করুন, ইসলাম ধর্মানুসারে, আল্লাহ শুধুমাত্র উচ্চারন করেছিলেন ‘হও’ আর সাথে সাথে পুরো পৃথিবী তৈরি হওয়া শুরু হয়েছিলো। খ্রিস্টান ধর্মমতে, ইশ্বর বলেছেন ‘সো বি ইট’ আর তার সাথে সাথেই পৃথিবী তৈরি হওয়া শুরু হয়। প্রত্যেক ধর্মেই ঈশ্বরের এক কথায় বা বাক্যে বা শব্দোচ্চারনে পৃথিবী তৈরি হয়। সুতরাং ঈশ্বরের কথার মর্ম বা ঈশ্বরের বাক্যের ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চয়ই আর কোনো সন্দেহ নেই। তাই না? 
আর সেজন্যেই ম্যাজিকের স্পেল কাজ করে। কারণ, স্পেলগুলো কোনো না কোনোভাবে, কোনো না কোনো ধর্মের সাথেই যুক্ত। হিন্দু ধর্মে, ব্রক্ষ্মার থেকে রাবনের মতো অসুর যদি ব্রক্ষ্মাস্ত্রকে বর্দান হিসেবে অর্জন করতে পারে, তাহলে অন্য ধর্মে ঈশ্বরের কথাগুলোকেই খারাপ কাজে ব্যবহার করার শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে। আসলে স্পেল কীভাবে ঈশ্বরেরই কথা বা বাক্য সে সম্পর্কে একটা উদাহরণ দিলেই বুঝে যাবেন। কিন্তু এই উদাহরণ আজকের পর্বে দেয়া যাচ্ছে না। আগামী পর্বে উদাহরণ দিয়েই শুরু করবো।

অতিপ্রাকৃত রেল্ম কি?
উত্তরঃ অতিপ্রাকৃত রেল্ম হচ্ছে, যেখানে স্পিরিট বা আত্মা, জ্বিন বা ডেমন বসবাস করে।

চি বা সাইকিক এনার্জি কি?
উত্তরঃ আপনার শরীরের চারদিকে এক ধরনের হিউম্যান এনার্জি ফিল্ড আপনাকে ঘিরে রয়েছে। যেটাকে ‘অওরা’ বলা হয়ে থাকে। একইভাবে আপনার ভেতরে থাকা স্পিরিট বা লাইফ ফোর্স বা লাইট অফ লাইফকে বলা হচ্ছে সাইকিক এনার্জি বা চি।


পুনশ্চ একঃ ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালোজাদুর নাম শুনলে বা এটা সম্পর্কে জানলেই যে গুনাহ হবে বা পাপ হবে, এটা ভ্রান্ত ধারণা। জ্ঞানার্জনে পাপ হয় না, পাপ হবে যদি নিষিদ্ধ কিছু করতে যান তাহলেই।

পুনশ্চ দুইঃ এখানে ধর্মের গোঁড়ামি নিয়ে আসবেন না। গোঁড়াদের কিছু বোঝানো যায় না। তাই বোঝানো ছেড়ে দিয়েছি অনেক আগেই।

প্রথম প্রকাশিত হয়েছে, প্যারাসাইকোলজি রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশের ফেসবুক গ্রুপে

2 Comments

Leave a Reply
  1. ব্লযাক ম্যাজিক শেখার বা চর্চা করার কোন ক্ষেত্র কি আমাদের দেশে আছে?

    • জ্বি না। ব্ল্যাক ম্যাজিক সম্পূর্ণভাবে অনেক ধর্মেই নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর তাই কেউ আপনাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক শেখাতে চাইবে না।
      কোনো প্রতিষ্ঠান বা ক্ষেত্রও নেই।
      ধন্যবাদ!

3 Pings & Trackbacks

  1. Pingback:

  2. Pingback:

  3. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দুবাইয়ে আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়ুন

ব্ল্যাক ম্যাজিক | কালো জাদু (দ্বিতীয় পর্ব)