Source: https://www.scamstuff.com/products/sympathy-for-the-devil
in

ব্ল্যাক ম্যাজিক | কালো জাদু (দ্বিতীয় পর্ব)

এটা তো আমরা বিশ্বাস করি যে কিছু না কিছু, কেউ না কেউ নিশ্চয়ই আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাদের তৈরি করা থেকে শুরু করে আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং করবেন। কিন্তু সেই ‘কিছু’ বা ‘কেউ’ আসলে কে? এটার উত্তর খুজতে হলে আপনাকে একটা ধর্মের দিক থেকে বিবেচনা করলে হবে না। মোট কথা হচ্ছে, কেউ একজন আছেন যিনি পৃথিবীতে সবকিছুতেই ক্ষমতা দিতে পারেন। সেই ‘কিছু’ বা ‘কেউ’ হচ্ছে ঈশ্বর বা সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্তিত্ব।

যারা এই ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’ ফিচারটির প্রথম পর্ব পড়েন নি তারা এখান থেকে প্রথম পর্ব পড়তে পারেন।

অনেকেই জেনে থাকেন যে, ব্ল্যাক ম্যাজিক করা মানেই শয়তানের পূজা করা। এই কথাটা শুনলেই আমার হাসতে ইচ্ছে করে। কেনো জানেন? কারণ, বেশিরভাগ ধর্মেই একটা সমস্যা আছে। আর সেটা হচ্ছে, আমরা যখন ধর্ম নিয়ে বা প্যারাসাইকোলজির কোনো কিছু নিয়ে কোনো কথা বলি তখন সেখানে যে রিসোর্স বা উদাহরণগুলো দিই সেগুলো নিজের ধর্মের পারস্পেকটিভ থেকে দিই। কিন্তু এটা ভুলে যাই যে, পৃথিবীতে নিজের ধর্ম ছাড়াও আরো প্রায় ৪২০০ ধর্ম রয়েছে।

এখন আপনি যখন কাউকে বলতে শুনে থাকেন কিংবা নিজেই যখন বলেন যে, ব্ল্যাক ম্যাজিক মানে শয়তানের পূজা করা; তার মানে দাঁড়াচ্ছে যে, শুধুমাত্র আপনার ধর্ম বাদ দিয়ে বাকি সকল ধর্মের ঈশ্বরই হচ্ছেন শয়তান। তাইনা? এটা অনেক সেনসেটিভ একটা বিষয়। দয়া করে ভালো করে পড়ে তারপরে কমেন্ট করবেন।

ইসলাম ধর্মে যেকোনো ধরনের জাদুবিদ্যা নিষেধ। তাই না? কিন্তু তারপরেও হোয়াইট ম্যাজিক বা তাবিজ নামে যেসব আপনারা নিজেদের শরীরে ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেগুলো কি? আর অনেকেই বলেন যে সেগুলো কাজ করে। শুধু অনেকেই নয়, আমি নিজেই দেখেছি যে কিছু ‘আয়াত’ পড়ার কারণে অলৌকিকভাবে পাত্রের পানির রঙ পরিবর্তন হতে, ‘আয়াত’ পড়ে জ্বিনের আছর থেকে মুক্তি পেতে, ‘আয়াত’ পড়ে জ্বিন ডেকে আনতে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এগুলো কিভাবে হচ্ছে? বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এগুলো কিন্তু কোরআন থেকে নেয়া হয়েছে কিংবা হয়তো বিশেষ কোনো কিতাব থেকে নেয়া হয়েছে (হাদিস, যাবূর ইত্যাদি!) আর তারপরে সেগুলো থেকেই তাবিজ বা তথাকথিত হোয়াইট ম্যাজিকটা করা হচ্ছে।

এখানে দুটো কথা লুকিয়ে আছে। প্রথমটা হচ্ছে, ইসলামে জাদু নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাবিজ পড়ি আর পড়বোই। ২০১৭ সালের একটি স্ট্যাটিসটিকসে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের একশভাগের মাঝে ২৬ ভাগ মানুষ এখনো তাবিজে বিশ্বাস করে ও তাবিজ নিজের সাথে বহন করে। দ্বিতীয়টা হচ্ছে, গত পর্বেও বলেছি আজকেও বলছি যে, ম্যাজিকের বা জাদুর কোনো রঙ হয় না। ইসলাম যেকোনো তাবিজকে নিষিদ্ধ করেছে কেনো জানেন? কারণ সবই হচ্ছে ব্ল্যাক ম্যাজিক।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন, ইসলামে কি তাহলে অকাল্টিজম বা স্পিরিচুয়ালিজম নেই? অবশ্যই আছে। ইসলামেও স্পিরিচুয়ালিজম আছে। ইসলামেও জ্বিন বা ডেমন আছে। ইসলামেও অকাল্টিজম রয়েছে।

অনেক মানুষকেই হয়তো বলতে শুনেছেন যে, সূরা ইখলাস যদি কেউ উলটো করে তিনবার পড়ে তাহলে তার মুখ দিয়ে আগুন বের হবে। আমি অন্য কিছু শুনেছি। অনেকেই অনেক কিছু শুনেছেন। এটা সম্পূর্ণ হাস্যকর একটা তথ্য। সূরা ইখলাসকে উলটো করে তিনবার কেনো হাজারবার পড়লেও কিছুই হবে না। কেনো জানেন? কারণ, একটা স্পেল বা মন্ত্র কাজ করার জন্য দরকার হয় ৬ টি বিশেষ অবস্থার।আগামী পর্বে এই বিষয়ে কথা বলা যাবে।

আচ্ছা, এখানে সূরা ইখলাসের বিষয়টা উল্লেখ করার কারণে অনেকেই হয়তো কমেন্টে ঝড় উঠাতে পারেন। তাদের জন্য আগেই বলছি, ইসলাম ধর্মে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কোরআন মুসলিমদের জন্য সর্বোচ্চ পবিত্র বই।

আর তাই এর প্রতিটি বাক্য মুসলিমদের জন্য খুবই বিশুদ্ধ এবং এর যেকোনো পরিবর্তন, পরিমার্জন ও বিকৃতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর এটা করলে মুসলিমদের সর্বোচ্চ গুনাহ প্রাপ্ত হতে হবে। আর এই কারনেই কোরআন নিয়ে খেলতে অর্থাৎ সূরা ইখলাসকে বা যেকোন সূরাকেই উলটো করে পাঠ করতে মানা করা হয়েছে।

যাই হোক, আমি শুধু ইসলাম নিয়েই কথা বলছি না। হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে পুরনো ও সবচেয়ে বেশি পবিত্র পাঠ হচ্ছে বেদ। যেটা ১৫ বিসিইয়ের পূর্বে হিন্দুদের কাছে এসেছে। যেটা লেখা হয়েছে সংস্কৃতের সবচেয়ে পুরনো মেথডে। বেদ থেকে আপনি উপরে উল্লিখিত (আগামী পর্বে দেয়া হবে ছয়টি অবস্থা!)

অবস্থাগুলোর সাথে সঠিক স্পেল বা মন্ত্র পড়তে পারলে এটা দিয়েও কাজ করা সম্ভব হবে। এখন কথা হচ্ছে, তাহলে মুসলিমরা কি হিন্দুদের শয়তানের পূজারি বলবে? আবার হিন্দুরা কি মুসলিমদের শয়তানে পূজারি বলবে? 

কেউই কাউকে শয়তানের পূজারি বলতে পারবে না। কারণ, দুই পক্ষই নিজেদের ধর্মকে সবচেয়ে উপরের ধর্ম হিসেবে দেখছে এবং নিজেদের ধর্মের গন্ডির মাঝে থেকেই সব কাজ করছে। এখন ক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার কথা!

একইভাবে খ্রিস্টানদের জন্য তাদের বাইবেল, বৌদ্ধদের জন্য (যদিও বৌদ্ধ-ধর্ম কোনো ধর্ম নয়) তাদের সূত্র, ইহুদীদের জন্য তাওরাত, তানাখ বা মিশনাহ বা তালমূদ অথবা মিদরাশ থেকে নিয়ম মেনে যে লেখা (স্পেল) পড়বেন সেটাই কাজ করবে।


পুনশ্চ একঃ ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালোজাদুর নাম শুনলে বা এটা সম্পর্কে জানলেই যে গুনাহ হবে বা পাপ হবে, এটা ভ্রান্ত ধারণা। জ্ঞানার্জনে পাপ হয় না, পাপ হবে যদি নিষিদ্ধ কিছু করতে যান তাহলেই।

পুনশ্চ দুইঃ এখানে ধর্মের গোঁড়ামি নিয়ে আসবেন না। গোঁড়াদের কিছু বোঝানো যায় না। তাই বোঝানো ছেড়ে দিয়েছি অনেক আগেই।

প্রথম প্রকাশিত হয়েছে, প্যারাসাইকোলজি রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশের ফেসবুক গ্রুপে

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্ল্যাক ম্যাজিক | কালো জাদু (প্রথম পর্ব)

ব্ল্যাক ম্যাজিক | কালো জাদু (তৃতীয় পর্ব)