Source: https://www2.calstate.edu
in

বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন

অনেকের কাছেই মনে হতে পারে যে, জীববিজ্ঞান কিংবা রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করে এই খাতে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব হয় না। যদিও কথাটা সত্য নয়। আপনার মতো অনেকেই হয়তো জীববিজ্ঞান কিংবা রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করছে। জীববিজ্ঞান ও রসায়ন খাতের ক্যারিয়ারের পথটা কিছুটা কঠিন, কিন্তু ঠিকমতো সামনে এগুতে পারলে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। আপনি চাইলে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর অনার্স অথবা মাস্টার্স করেই এন্ট্রি লেভেলের চাকরি করতে পারবেন অথবা পিএইচডি করে সরাসরি সিনিয়র লেভেলের চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন। আজকের এই আর্টিকেলটি হচ্ছে, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সেরা কিছু ক্যারিয়ার নিয়ে।

বায়োইন্সট্রুমেন্টেশন

রোগ নিরাময়ের জন্যে যেসব টুলস ও ইক্যুইপমেন্ট ব্যবহার করা হয় সেগুলো ডিজাইন ও ডেভেলপিংয়ের কাজ করা হয় এই ক্যারিয়ারে। এখানে যেসব যন্ত্র তৈরি করা হয় সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের সাথে একত্রে কাজ করার জন্যে ব্যবহৃত হয়। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

বায়োমেটেরিয়ালস

মানবদেহের সাথে ব্যবহার করার জন্য যেসব যন্ত্র তৈরি করা হয় সেগুলোর ডিজাইন ও ডেভেলপিংয়ের কাজ এই ক্যারিয়ার খাতের উপর নির্ভর করে। এই ধরণের ইমপ্ল্যান্ট যন্ত্রাদি যাতে পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ হয় সেদিকে খেয়াল রেখে তৈরি করতে হয়। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হতে হবে।

বায়োমেকানিক্স

মানবদেহের সাথে চলাচলের জন্য ও একটি অচল মানবদেহকে সচল করার জন্যে যেসব যন্ত্রাদি ব্যবহৃত হয় সেগুলোর ডিজাইন ও ডেভেলপের কাজ করা হয় এইউ ক্যারিয়ার খাতে। আর্টিফিশিয়াল হার্ট ভাল্ব থেকে শুরু করে জয়েন্ট রিপ্লেইসমেন্ট পর্যন্ত প্রায় যেকোনো ধরণের বায়োমেকানিক্যাল কাজ করে থাকেন এই ক্যারিয়ার খাতের ইঞ্জিনিয়াররা। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

সেলুলার, টিস্যু এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

মানবদেহের কোষ থেকে কোষে ও একেবারে মূল লেভেলের সমস্যা নির্ধারণের কাজ করে থাকেন এই খাতের ইঞ্জিনিয়াররা। বিভিন্ন ধরণের মহামারি রোগ ও সেগুলো নিরাময়ে একেবারে রুট লেভেলের সমাধানের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে থাকেন তারা। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্টিস্ট

একজন এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্টিস্ট মূলত প্রকৃতি ও মানুষের সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকেন। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োলজিতে ব্যাচেলরস ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

অক্যুপেশনাল হেলথ এন্ড সেইফটি স্পেশালিস্ট

বিভিন্ন ধরণের এনভায়রনমেন্টাল, ওয়ার্কপ্লেস এবং অক্যুপেশনাল ইনজুরি, সেইফটি, রোগ ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেন একজন অক্যুপেশনাল হেলথ এন্ড সেইফটি স্পেশালিস্ট। আর এই কাজের জন্য আপনাকে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োলজিতে কমপক্ষে ব্যাচেলরস ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

কন্সার্ভেশন সায়েন্টিস্ট

বিভিন্ন ধরণের ন্যাচারাল ও এনভায়রনমেন্টাল রিসোর্স নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণের কাজ করে থাকেন একজন কন্সার্ভেশন সায়েন্টিস্ট। আর এই কাজের জন্য আপনাকে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োলজিতে কমপক্ষে ব্যাচেলরস ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা মূলত স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন রোগের ক্লিনিক্যাল অবস্থায় দেখাশোনা করেন। তারা একইসাথে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য মেডিক্যাল অথোরিটি হিসেবে কাজ করে থাকেন। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

বায়োলজিক্যাল টেকনিশিয়ান বা রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট

বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে বায়োলজি স্যাম্পল, রিসার্চ স্যাম্পল, ডকুমেন্টিং রেজাল্ট, বায়োলজিক্যাল ইক্যুইপেম্নট কালেকশন ইত্যাদি করে থাকেন একজন বায়োলজিক্যাল টেকনিশিয়ান বা রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে ব্যাচেলরস ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

অক্যুপেশনাল থেরাপি অ্যাসিস্টেন্ট

মানুষকে বিভিন্ন সমস্যা, রোগ ও প্রতিবন্ধকতা থেকে সমাধান দেয়ার কাজ করে থাকেন একজন অক্যুপেশনাল থেরাপি অ্যাসিস্টেন্ট। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে অ্যাসোসিয়েটস ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

কার্ডিওভাস্কুলার টেকনোলজিস্ট

মানুষের হৃদপিণ্ডের স্ট্রাকচার, ফিজিওলজি, সার্কুলেটরি সিস্টেম এবং একইসাথে বিভিন্ন কার্ডিওভাস্কুলার টেস্ট, সিরাম ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে থাকেন একজন কার্ডিওভাস্কুলার টেকনোলজিস্ট। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

রেসপাইরেটরি থেরাপিস্ট

বিভিন্ন ডাক্তার ও ফিজিশিয়ানদের, ব্রেথিং ডিজিজ, ক্রনিক রেসপাইরেটরি ডিজিজ, অ্যাজমা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করায় সাহায্য করে থাকেন। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে ব্যাচেলরস ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

অর্থোপেডিক বায়োইঞ্জিনিয়ারিং

মানবদেহের হাড়, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, মাসল, জয়েন্ট, লিগামেন্ট ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে থাকেন একজন অর্থোপেডিক বায়ো-ইঞ্জিনিয়ার। মানবদেহের চলার পথে যাতে কোনো ধরণের সমস্যার সৃষ্টি নাহয় সেদিকে খেয়াল রেখেই কাজ করে থাকেন অর্থোপেডিক বায়ো-ইঞ্জিনিয়াররা। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

রিহ্যাবিলিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিং

যদি কখনো কারো শরীরের কোনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গতে সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে সেই অঙ্গ নিস্তেজ কিংবা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেটার মধ্যে এক ধরণের প্রস্থেটিক ইমপ্ল্যান্ট করা হয়। এই কাজ করার জন্যে যে ইমপ্ল্যান্ট ও প্রস্থেটিক ব্যবস্থা নেয়া হয় সেটা করে থাকেন একজন রিহ্যাবিলিয়েশন ইঞ্জিনিয়ার। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ার

বিভিন্ন রোগের জন্য ওষুধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্ক্যানার ও স্টেথস্কোপ পর্যন্ত প্রায় যেকোনো ধরণের মেডিক্যাল প্রোডাক্ট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজ করে থাকেন একজন ম্যানুফ্যাকচার ইঞ্জিনিয়ার। 
আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অ্যাসোসিয়েটস ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

রিসার্চার

বিভিন্ন ধরণের মেডিক্যাল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিয়ে রিসার্চ করে থাকেন রিসার্চাররা। মেডিক্যাল প্রোডাক্টের সঠিক ব্যবহার ও এর উপযুক্ত অবস্থা নিয়ে রিসার্চ করে থাকেন একজন বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রিসার্চার। আর এই কাজের জন্য আপনাকে কমপক্ষে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আইকিউ টেস্ট | মেনসা টেস্ট

সেরা সাত টাইপিং জব