Source: http://mec-dubai.com/miss-continental-europe-in-spoleto-the-final-is-already-sold-out-test/
in

ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়ুন

ইউরোপের সৌন্দর্য্য, শিক্ষা ও কর্মজীবনের গুণগান বহু আগে থেকেই মানুষের মুখে মুখে। একজন মানুষ যদি ইউরোপে ২ থেকে ৩ বছর বাস করে, তাহলে সে বেশ কয়েক ধরনের চাকরি করতে পারে। আইটি এবং প্রযুক্তিতেও ইউরোপের দেশগুলো অনেক এগিয়ে। যত দ্রুত ইউরোপের দেশগুলো আইটি খাতে এগিয়ে যাচ্ছে, তত দ্রুতই আইটি খাতে চাকরির সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি যদি ইউরোপের যেকোনো দেশে বসবাস করে চাকরি করতে চান, তাহলে এই আর্টিকেল আপনার জন্য। চলুন জেনে আসি, ইউরোপের আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়া সম্পর্কে।

ইউরোপের যেকোনো দেশে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য প্রথমে আপনাকে ভেবে দেখতে হবে যে,  কাজ করার জন্য আপনার বিশেষ কোনো পারমিটের দরকার পড়বে কিনা। চাকরি করতে গেলে অনেকেই এই সমস্যায় পড়ে থাকেন। তাদের জন্য সহজ উত্তর হচ্ছে, আপনি যদি ইউরোপিয়ান যে কোনো দেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে অন্য কোনো ধরনের পারমিটের দরকার পড়বে না।

জাপানের আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার আর্টিকেলটি না পড়ে থাকলে এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন!

ইউরোপের আইনানুসারে, ইউরোপিয়ান যেকোনো দেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তির জন্য ইউরোপিয়ান যেকোনো দেশে চাকরি করা ও বসবাস সম্পূর্ণ আইনসংগত। কিন্তু আপনি যদি ইউরোপিয়ান কোনো দেশের পাসপোর্টধারী না হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে প্রথমত এন্ট্রি ভিসা নেয়া লাগবে। তারপর, অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করে ও তা জমা দিয়ে ইউরোপের যেকোনো দেশে চাকরি খুঁজতে পারেন।

সাধারণত ইউরোপে যেকোনো খাতেই চাকরি করতে হলে দু’ধরণের ডকুমেন্টের প্রয়োজন হবে। প্রথম ডকুমেন্টটি হচ্ছে, আপনার আইডেন্টিফকেশন নাম্বার। এক থেকে দুই হাজার টাকা খরচ করেই এনআইই অফিস থেকে এই আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার সংগ্রহ করতে পারবেন। দ্বিতীয় ডকুমেন্টটি হচ্ছে, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর। যেখান থেকে এনআইই নাম্বার সংগ্রহ করেছেন, সেখান থেকেই এই নম্বরটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

দুবাইয়ে আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার আর্টিকেলটি না পড়ে থাকলে এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন!

ইউরোপের যেকোনো দেশের আইটি খাত অনেক উন্নত। আর তাই সেসব দেশের চাকরির সুবিধাও অনেক বেশি। প্রায় প্রতিদিনই অনেক মানুষ ইউরোপের আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। আইটি খাতে যেসকল পদে আপনি ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন, চলুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

আইটি সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার

একজন আইটি সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, উইন্ডোজ, ম্যাক, লিনাক্স ইত্যাদি অপারেটিং সিস্টেমে দক্ষতা থাকা লাগবে। এছাড়াও ইউজার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, পেরিফেরাল সাপোর্ট, ল্যান ট্রাবলশ্যুটিং, টিসিপি, আইপি প্রটোকল, ডিএনএস ও এসএসএইচ সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষতা থাকা লাগবে।

ইউরোপে একজন আইটি সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারের বেতন দিন হিসেবে ২০০ থেকে ৩০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। আইটি সাপোর্ট ক্যারিয়ারে ২ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত যোগাযোগ দক্ষতা থাকলে আপনার জন্য এই পদে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এন্ড ইন্টারফেস প্রজেক্ট ম্যানেজার

একজন ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এন্ড ইন্টারফেস প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ডিজিটাল সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, ইকমার্স অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, সিএমএস, এপিআই ইত্যাদির উপর গভীর দক্ষতা থাকা লাগবে। এছাড়াও বাজেট ম্যানেজমেন্ট, রিসোর্স, স্কোপ, এক্সএমএল, জেসন ইত্যাদি সম্পর্কেও যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।

ইউরোপে একজন ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এন্ড ইন্টারফেস প্রজেক্ট ম্যানেজারের বাৎসরিক বেতন ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ও ইউজার ইন্টারফেসের উপর ১ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত যোগাযোগ দক্ষতা থাকলে আপনার জন্য এই পদে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ডেটা ইঞ্জিনিয়ার

একজন ডেটা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে রেইনশিফট ও স্পার্কের ডেটা পাইপলাইন এবং মাইএসকিউএল ডেটাবেজ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা লাগবে। এছাড়াও পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট, ডেটা প্রসেসিং ও আর্কিটেকচার সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে।

ইউরোপে ডেটা ইঞ্জিনিয়ারদের মূলত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে বেতন দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে আপনার ডেটাবেজ ও নেটওয়ার্কিংয়ের উপর কমপক্ষে ৩ থেকে ৭ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা লাগবে। ডেটাবেজ ও প্রোগ্রামিংয়ের উপর ১ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত যোগাযোগ দক্ষতা থাকলে আপনার জন্য এই পদে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

আইটি অডিট ম্যানেজার

একজন আইটি অডিট ম্যানেজার পদে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনার আইটির বিভিন্ন পরিবেশ ও সিস্টেমের উপর গভীর দক্ষতা থাকা লাগবে। এছাড়াও অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা, সিকিউরিটি দক্ষতা ও পেরিফেরাল দক্ষতাও যথেষ্ট প্রয়োজন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই পদে চাকরি করতে চাইলে অবশ্যই আপনার ট্রাভেল করার মনমানসিকতা থাকতে হবে।

ইউরোপে একজন আইটি অডিট ম্যানেজারের বাৎসরিক বেতন ৫০ হাজার ইউরো থেকে শুরু করে ১ লক্ষ ২০ হাজার ইউরো পর্যন্তও হতে পারে।  বিভিন্ন প্রযুক্তি ও আর্কিটেকচারের উপর ৪ থেকে ৭ বছরের অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত যোগাযোগ দক্ষতা থাকলে, আপনার জন্য এই পদে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ইনফ্রস্ট্রাকচার স্পেশালিষ্ট

একজন ইনফ্রস্ট্রাকচার স্পেশালিষ্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে বিভিন্ন ভেন্ডরের স্টোরেজ ডিভাইস, সাউন্ড ড্রাইভার ও অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা লাগবে। এছাড়াও মাল্টি পাথিং, ফাইবার চ্যানেল, এসসিপিআই, সিসকো ফ্যাব্রিক্স, হার্ডওয়্যার ট্রাবলশ্যুটিং, নেটওয়ার্কিং ও থার্ড লেভেল প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে।

ইউরোপে একজন ইনফ্রস্ট্রাকচার স্পেশালিষ্টের বাৎসরিক বেতন ৫০ হাজার ইউরো থেকে শুরু করে দেড় লক্ষ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। নেটওয়ার্কিং ও বিভিন্ন ভেন্ডরের উপর ২ থেকে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত যোগাযোগ দক্ষতা থাকলে আপনার জন্য এই পদে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ফুলস্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার

একজন ফুলস্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ওয়েব প্রোগ্রামিং, সি প্লাস প্লাস, ডেটাবেজ, এসএএস, জাভাস্ক্রিপ্ট ও পিএইচপির উপর গভীর জ্ঞান থাকা লাগবে। এছাড়াও অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা, পাইথন, গ্রাফিক্স, এসভিএন ও ইউনিট টেস্ট টুলস সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে।

ইউরোপে একজন ফুলস্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপারের বাৎসরিক বেতন ৩০ হাজার ইউরো থেকে শুরু করে ৮০ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। গ্রাফিক্স ও বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার উপর ১ থেকে ২ বছরের অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত যোগাযোগ দক্ষতা থাকলে আপনার জন্য এই পদে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জাপানে আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়ুন

ইলুমিনাতি বা দ্যা ইলিউমিনাটিঃ বিশ্ব যাদের নিয়ন্ত্রণে