Source: https://www.rbth.com
in

বাটারফ্লাই এফেক্টঃ তুচ্ছ থেকে অবিশ্বাস্য

আপনি রাস্তায় হাঁটছেন! একা! হাঁটার সময় রাস্তায় একটা এনার্জি ড্রিঙ্কের বোতল পেলেন। সেটাতে লাথি দিলেন। সেটা গিয়ে রাস্তার মাঝখানে পড়লো। আপনি হেঁটে সামনে চলে গেলেন। পেছনের দিকে, একটা গাড়ি এসে সেই বোতলের কোনায় চাপ দিলো। সেই বোতলের ক্যাপ সেখান থেকে উড়ে গিয়ে পড়লো ফুটপাতে হাটতে থাকা আরেকটা লোকের চোখে। সেই লোকের চোখে বোতলের ক্যাপটা লাগার পর লোকটা চিৎকার করে রাস্তায় বসে পড়লো। সেই গাড়ি চলে গেলো।

আশেপাশে থাকা প্রায় বিশ-পঁচিশজন মানুষ লোকটাকে ধরতে আসলো।লোকটা ক্লস্ট্রোফোবিক (যে বদ্ধ ঘরে থাকতে ভয় পায়, অন্ধকার ভয় পায়, অনেক মানুষ ভয় পায়) ছিলো। এত মানুষের ভিড় দেখে লোকটার শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। লোকটা ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো। আশেপাশের মানুষ লোকটাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলো। সরকারি হাসপাতাল থাকায় অনেক সহজেই (!) লোকটা জায়গা পেয়ে গেলো বেডে।

লোকটার জ্ঞান ফেরানো হলো। ডাক্তাররা লোকটার পরিচিত কাউকে ফোন করার জন্য বললেন। লোকটা পকেটে হাত দিয়ে দেখে লোকটার ফোন, মানিব্যাগ, ঘড়ি কিছুই নেই। লোকটা ডাক্তারকে তার ঠিকানা আর বাসার ফোন নাম্বার দিলো।

এদিকে লোকটার বাসায় তার মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিলো। লোকটা ব্যাংক থেকে ফিরছিলো। লোকটার মেয়ের বিয়ের জন্য খরচাপাতি সব সেই মানিব্যাগে রাখা ছিলো। লোকটার পরিবারকে সব জানানোর পর তার পরিবারের সদস্যরা কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতালে আসলো।

লোকটার চোখের অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে শুরু করলো। ডাক্তার বললেন, উনার কর্নিয়াল অ্যাবরেশন হয়েছে। অর্থাৎ চোখে আঘাত পাওয়ার কারণে চোখের কর্ণিয়ার মধ্যে বালুজাতীয় কিছু ঢুকেছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেটা বের করতে না পারলে চোখে ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দেবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লোকটার মেয়ের বিয়ে আটকে গিয়েছে, লোকটার পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছে, লোকটার এক চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে…!

কি ভাবছেন? উপরের ঘটনাটি সত্য কি না?

জ্বি না! সম্পূর্ণ মিথ্যা আর বানানো গল্প! কিন্তু সত্যিই কি বানানো গল্প?!

যাই হোক, আমি মূল কথায় আসি। উপরে যে ঘটনা ঘটেছে, এটাকে কি বলে জানেন? এটাকে বলে বাটারফ্লাই এফেক্ট। এডওয়ার্ড লরেঞ্জ, একজন মিটিয়োরোলজিস্ট ও ম্যাথমেটিশিয়ান। তিনি ১৯৫২ সালে ক্যাওস থিওরী অনুসারে দেখিয়েছেন যে, একটা ছোটো, অবাঞ্চিত ও তুচ্ছ ঘটনার মাধ্যমে সর্বোপরি একটি বড় ও ক্যাটেস্ট্রোফিক ঘটনার সূচনা হতে পারে। তিনি একটা কাল্পনিক ঘটনার মাধ্যমে এটি বুঝিয়েছেন।

যেখানে তিনি বলেছেন, প্রথমে একটা প্রজাপতির পাখার বাতাস, তারপরে দুটো প্রজাপতি, তারপরে তিনটি, এভাবে ধীরে ধীরে লাখ লাখ প্রজাপতির পাখা যদি একইসাথে বাতাস করতে শুরু করে তাহলে ধীরে ধীরে একটা টর্নেডোতে সেটা রূপ নিতে পারে।

আমি উপরে বুঝাতে চেয়েছি যে, আমাদের লাইফে আমরা ছোটো একটা কাজ করি। তারপরে ভাবি এই কাজটা করে কি লাভ হলো। কিন্তু প্রত্যেক কাজই যদি সঠিক ট্র্যাকে রেখে করা যায় তাহলে সেটা বিশাল বড় কোনো ফলাফল দিতে পারে।

ছোটো একটা প্ল্যান আপনার লাইফ পালটে দিতে সক্ষম, ছোটো একটা ব্যবসা কোনো একসময় হয়তো আপনাকে কোটি টাকাও লাভ দিতে পারে, অল্প কিছু জ্ঞান হয়তো কোনো বিপদ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে, একটু সতর্কতা হয়তো হাজার হাজার মানুষের জীবন বাচিঁয়ে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফোকালাইজেশন অ্যাফেক্টঃ একটা চিন্তার রেশ যখন হাজারটা

অনুপ্রেরণার গুরুত্ব কতটুকু?