Source: https://www.youtube.com/watch?v=BEm8MzrdkJ0
in ,

ক্যারিয়ার গড়ুন ফটোগ্রাফিতে

নিজের শখকে চাকরিতে রূপান্তর করা অনেকের জন্যই স্বপ্নের মতো। অনেকেই শখের বশে ফটোগ্রাফি করে থাকেন। কিন্তু এতে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবতে পারেন না। চলুন জানা যাক, ফটোগ্রাফিতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত কিছু চাকরির ব্যাপারে।

একজন ফটোগ্রাফার অনলাইনে বেশ কিছু ভালো মার্কেটপ্লেসে নিজের একাউন্ট খুলে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন। ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারদের জন্যে বেশ ভালো কিছু মার্কেটপ্লেস হচ্ছে,  পিপল পার আওয়ার,  গেট ফটোগ্রাফি জবসফ্লেক্স জবসফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জবসজার্নালিজম জবসফটোগ্রাফি জবস অনলাইনআপওয়ার্কফটোগ্রাফি জবস ইউকেফ্রিল্যান্সারভার্চুয়াল ভোকেশনসফ্রিল্যান্স ফটো জবসগুরুফাইভারফটোগ্রাফি জবস ফাইন্ডার ইত্যাদি।

এছাড়াও চাইলে বিভিন্ন অনলাইন জব বোর্ডের মাধ্যমেও ফটোগ্রাফি নিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। কিছু অনলাইন জব বোর্ড হচ্ছে; মনস্টার, লিংকডিন, ক্রেইগলিস্ট, ক্যারিয়ার বিল্ডার, জব ডট কম, দ্য ল্যাডারস, সিমপ্লি হায়ার্ড ইত্যাদি। এগুলোতে একাউন্ট খুলে ও নিজের প্রোফাইল সেটআপ করে ফটোগ্রাফির উপর চাকরি খুঁজতে পারেন। ফটোগ্রাফিতে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে বেশ কিছু ভালো চাকরি খুঁজে পাবেন বিভিন্ন কোম্পানিতে। চলুন জেনে আসা যাক, ফটোগ্রাফি নিয়ে কিছু চাকরির তথ্য।

ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

এই ধরনের ফটোগ্রাফারদের মূলত বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি চাকরি দিয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হিসেবে চাকরি করতে চাইলে আপনার যেসকল দক্ষতা থাকতে হবে,

  • পণ্যের ছবি তোলার সময় এর প্রায়োরিটি বুঝতে হবে।
  • বিভিন্ন টাচআপ ছবি তোলার ক্ষমতা থাকতে হবে ও সেগুলোকে ব্র্যান্ডেড করার দক্ষতা থাকতে হবে।
  •  বেশিরভাগ সময় অনলাইনে থাকার মন মানসিকতা থাকতে হবে।

একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারের বেতন সাধারণত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। তাছাড়া কাজের পরিমাণভেদেও বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ফ্রিল্যান্স ফটো এডিটর

ফ্রিল্যান্স ফটো এডিটর হিসেবে চাকরি করতে চাইলে আপনার যেসকল দক্ষতা থাকতে হবে,

  • এডিটোরিয়াল ফটোগ্রাফি ইন্ড্রাস্ট্রিতে কমপক্ষে ১ থেকে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা লাগবে।
  • ফটোগ্রাফি, জার্নালিজম বা মিডিয়ার উপর ডিগ্রি থাকলে চাকরি পাওয়া সহজ হয়ে যাবে।
  • ডিজিটাল ইমেজিং, ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড এডিটিং টুলস, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ইত্যাদির উপর দক্ষ হতে হবে।
  • কালার কারেকশন, কন্ট্রাস্ট অ্যাডজাস্টমেন্ট, শার্পেনিং, ক্রপিং ইত্যাদির উপর জ্ঞান থাকতে হবে।
  • উইন্ডোজ এবং ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের এডিটর অ্যাপ্লিকেশনগুলোর উপর দক্ষতা থাকতে হবে।

একজন ফ্রিল্যান্স এডিটরের বেতন সাধারণত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। তাছাড়া কাজের পরিমাণভেদেও বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইন হাউস ফটোগ্রাফার

ইন হাউস ফটোগ্রাফার হিসেবে চাকরি করতে চাইলে আপনার যেসকল দক্ষতা থাকতে হবে,

  • কমার্শিয়াল ফটোগ্রাফার হিসেবে ৩ থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • স্টুডিও ও লাইফস্টাইল ফটোগ্রাফিতে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • লাইটিং, গিয়ার, এডিটিং, রিটাচিং এবং ডিজিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের উপর দক্ষতা থাকতে হবে।
  • সমস্যা সমাধান ও দলগত কাজ করার মন মানসিকতা থাকতে হবে।
  • যেকোনো ইন হাউস ক্যাটলগে ছবি তোলার দক্ষতা থাকতে হবে।

একজন ইন হাউস ফটোগ্রাফারের বাৎসরিক বেতন ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যদিও, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাভেদে বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

স্টাইলিস্ট

একজন স্টাইলিস্ট মূলত যেকোনো ফ্যাশন ডিজাইন কোম্পানির স্টাইলিং টিমে কাজ করে থাকেন। স্টাইলিস্ট হিসেবে চাকরি করতে চাইলে আপনার যেসকল দক্ষতা থাকতে হবে,

  • বিভিন্ন ড্রেসের মডেলের ছবি তোলার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • সংস্কৃতি, ট্রেন্ড ও ব্র্যান্ড সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।
  • বিভিন্ন ডিজাইনার ফটোগ্রাফির উপর গবেষণা করার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • লজিস্টিক সাপোর্ট প্রোডাকশন নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • ফ্যাশন রিলেটেড ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

একজন ইন হাউস ফটোগ্রাফারের বাৎসরিক বেতন ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাভেদে বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

রিপোর্টার ফটোগ্রাফার বা জার্নালিস্ট ফটোগ্রাফার

একজন রিপোর্টার ফটোগ্রাফার বা জার্নালিস্ট ফটোগ্রাফার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যেসকল দক্ষতার প্রয়োজন হবে,

  •  ফটোগ্রাফি কিংবা জার্নালিজমে ডিগ্রি থাকতে হবে।
  • সাংবাদিকতা ও ব্রডকাস্ট চ্যানেলে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • লেখালেখির অভ্যাস থাকলে ভালো হয়।
  • ট্রেন্ড ও ব্র্যান্ড ইমেজিং সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।

একজন রিপোর্টার ফটোগ্রাফার বা জার্নালিস্ট ফটোগ্রাফারের বাৎসরিক বেতন ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।  অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাভেদে এই বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

স্টুডিও অ্যাসিস্টেন্ট

একজন স্টুডিও অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যেসকল দক্ষতার প্রয়োজন হবে,

  • বিভিন্ন এজেন্ট এবং এজেন্সীর সাথে ভার্বাল কমিউনিকেশন করার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • ইমেজ রিশিডিউলিং ও স্কেচিং সম্পর্কে দক্ষতা থাকতে হবে।
  • স্টুডিও শট ও ওয়ার্কআউট শট নেয়ার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • ইক্যুইপমেন্ট এরিয়া ও মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে কাজ করার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • অফিস কম্পিউটার প্রোগ্রাম সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।
  • লাইটিং, ইনভেন্টরি, রিঅর্ডার, কাস্টিং সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।

একজন স্টুডিও অ্যাসিস্টেন্টের বাৎসরিক বেতন ৯০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।  অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাভেদে বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

লেআউট এডিটর

একজন লেআউট এডিটর মূলত যেকোনো ওরগানাইজেশনের আর্ট ডিরেক্টরের সাথে কাজ করেন। একজন লেআউট এডিটর হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যেসকল দক্ষতার প্রয়োজন হবে,

  • টেমপ্লেট, আর্ট, ইমেজিং, কাটলাইন এবং হেডলাইন নিয়ে দক্ষতা থাকতে হবে।
  • বিভিন্ন অবস্থার উপর রিকনফিগারেশন করার ও লেআউট এবং ফিট পরিবর্তন করার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • আর্ট লগিং ও ট্র্যাকিং সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।
  • বিভিন্ন ইমেজ কনটেন্ট ও প্রিন্টিং সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে।
  • ফটোশপ, ইনডিজাইন, ইলাস্ট্রেটর ও অ্যাক্রোব্যাট  সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে।

একজন লেআউট এডিটরের বাৎসরিক বেতন ৬০ হাজার টাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।


আপনি যদি মুক্তপেশায় আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং করেও আয় করতে পারবেন। এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা আপনাকে ছবি বিক্রি করার জন্য অর্থ প্রদান করবে। ছবি বিক্রি করে আয় করার সেরা ওয়েবসাইটগুলো দেখতে হলে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যে সকল কারণে মার্কেট রিসার্চ ব্যবসার জন্য জরুরী

যে ১০টি ফ্রিল্যান্সিং কাজে দ্রুত সফল হওয়া সম্ভব