Source: https://www.middleeastmonitor.com/
in ,

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পেশার শ্রেণিবিন্যাস

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেশার বিস্তৃতি অনেক বড় হওয়ার আমরা বিভিন্ন পেশার মধ্যে পার্থক্য করতে পারি না। কিন্তু মূল অর্থে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে দেখা যায় যে, বিভিন্ন ধরণের পেশা রয়েছে আমাদের মাঝে। যেমন: চিকিৎসকের পেশার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের পেশা রয়েছে। নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ, আবার এর চেয়ে বৃহৎ অর্থে দেখলে পশু চিকিৎসক, মানুষের চিকিৎসক ইত্যাদি। আবার কাজের ক্ষেত্র ও পদের ভিত্তিতেও সিভিল সার্জন, মেডিক্যাল অফিসার, জেলা মেডিক্যাল অফিসার ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা যায়।

পেশা হচ্ছে একটি সাধারণ কাজের নাম যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার জীবিকা নির্ধারণ করে থাকে। আর জীবিকা হচ্ছে একজনের নিজস্ব সত্তার সাথে যুক্ত এবং কাজ ও অভিজ্ঞতার মিলিত রুপ। জীবিকা অর্জনের জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের পেশা গ্রহণ করে থাকে। সেদিক থেকে দেখলে পেশাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেগুলো হচ্ছে,

বেতনভিত্তিক কর্মসংস্থান

কোনো কোম্পানি বা অর্গানাইজেশনে কিংবা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট বেতন বা পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য সুবিধা বিনিময়ে চাকরী করাকে বলে বেতনভিত্তিক কর্মসংস্থান। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ লেভেলে অনেক কর্মচারি ও কর্মকর্তার নিয়োগ দিতে হয়। তখন চাকরীর জন্য অনেকেই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থানের জন্য বেতনভিত্তিতে কাজ করে থাকে। সুতরাং, চাকরী হচ্ছে কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। চাকরী অনেকটাই সিকিউর। আর সেজন্যে স্বাভাবিকভাবেই আমরা চাকরিকে প্রধান কর্মসংস্থানের খাত হিসেবে দেখি। চাকরি থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য আপনাকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। চাকরীতে নির্দিষ্ট নিয়মে কাজ করতে থাকলে মাসশেষে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই অর্থ হাতে পাওয়া যায়।

চাকরির ক্ষেত্রে শুরু থেকেই অতিরিক্ত কাজ করার দরকার পড়ে না। অন্যান্য কর্মসংস্থানের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, অনেক্ষণধরে একটানা কাজ করে যেতে হয় কিংবা প্রায় সারাদিনই কাজ করতে হয়। কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রে এই সমস্যা নেই। যার ফলে সময়মতো কাজ শুরু হয় ও সময়মতোই কাজ শেষ হয়। অনেক চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ করে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সরকার আপনাকে অনেক ক্ষেত্রেই বাসস্থানের বন্দোবস্তও করে দেয়। যার ফলে আপনাকে থাকার জায়গা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে শিল্পের উন্নতি না হওয়ার কারণে বেতনভিত্তিক চাকরির জন্য বেসরকারি খাত ততটা আশাব্যঞ্জক নয়।

আত্মকর্মসংস্থান

নিজে উদ্যোগী হয়ে নিজের কাজ নিজে করে অর্থ উপার্জন করাকে বলে আত্মকর্মসংস্থান। কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানি অথবা অর্গানাইজেশনের হয়ে চাকরী না করে, নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে বিভিন্ন সেবা প্রদানের মাধ্যমে জীবিকা উপার্জন করে তাহলে সেটাকে বলে আত্মকর্মসংস্থান। যেমন: একজন রিকশাওয়ালা যদি নিজের কেনা রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করে তাহলে সেটাকে বলা যাবে আত্মকর্মসংস্থান। কিন্তু যদি অন্যের রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করে তাহলে আবার সেটা বেতনভিত্তিক চাকরির অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।

আত্মকর্মসংস্থানের আধুনিক রুপ হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আউটসোর্সিংয়ের দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। এসব আউটসোর্সিং সার্ভিসগুলো মূলত পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। যথা: প্রফেশনাল প্রসেস, ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রসেস স্পেসিফিক, অপারেশনাল এবং প্রজেক্ট আউটসোর্সিং। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে বেশিরভাগ কোম্পানিই ফিজিক্যালি ও ভার্চুয়ালি আউটসোর্সার নিয়োগ দিয়ে থাকে। যাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন খাতে ভাগ করে কাজ করানো হয়। এসব খাতে একজন ব্যক্তি নিজের স্বাধীনমতো কাজ করতে পারের বলেই এটা আত্মকর্ম সংস্থানের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, যদি আপনি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটরের মতো সফটওয়্যারগুলোতে দক্ষ হয়ে থাকেন ও ডিজাইনিংয়ে ক্রিয়েটিভ হয়ে থাকেন, তাহলে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আয় করা শুরু করতে পারেন। অনলাইন বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনার ডিজাইনগুলো বিক্রি করে খুবই সহজে আয় করা শুরু করতে পারেন। এসব ডিজাইনের মধ্যে লোগো, বিজনেস কার্ড, আইডি কার্ড, টেমপ্লেট, সিভি, রিজ্যুইমি ইত্যাদি রয়েছে। এই ধরণের কাজকেও স্বাধীনচেতাদের কর্ম বলা হয়, যার ফলে এটাও আত্মকর্মসংস্থানের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যবসায় উদ্যোগ

কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে আরেকটি ভাগ হচ্ছে ব্যবসায় উদ্যোগ। এক্ষেত্রে আপনি যেকোনো সেবা কিংবা পণ্য অনলাইন কিংবা সরাসরি, বিক্রি করে একজন উদ্যোক্তা কিংবা ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মসংস্থান করবেন। আর এটাকেই বলে ব্যবসায় উদ্যোগ। সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের যে মাধ্যমটি পরিচালিত, সেটা হচ্ছে ব্যবসায় উদ্যোগ। বাংলাদেশেও ব্যবসার মাধ্যমে অনেক সহজেই জীবিকা উপার্জন করা যায়। সফল উদ্যোক্তারা কর্মঠ ও বুদ্ধিমান হয়ে থাকেন। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে একটি উদ্যোগ নেয়া, একটি ব্যবসা শুরু করাটা অনেক সহজ। স্মার্টফোনের মাধ্যমে কয়েক ক্লিকেই একটি ব্যবসা শুরু করা যায়।

আপনি যদি ভেবে থাকেন, ব্যবসায় ক্যারিয়ার গড়া অনেক সহজ, তাহলে আপনার সে ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। একটি ব্যবসাকে শূন্য থেকে গড়ে তোলা অনেক কষ্টকর, সময়সাপেক্ষ আর গতানুগতিক চাকরির চেয়ে বেশি জটিল। সফল উদ্যোক্তারা জানেন যে, তারাই নিজেদের বস। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নতুন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে চিন্তা করা, নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে থাকা, কাস্টমারদের জন্যে নতুন কিছু তৈরি করার স্বপ্ন দেখা, এ সবকিছু সহজ কথা নয়। একটি মার্কেটে শত শত প্রতিযোগীর সাথে লড়াই করে ক্রেতাদের ধরে রাখাও সহজ কথা নয়। 

আর সেই ক্রেতাদের জন্য নতুন পণ্যকে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতেও হয়। যারা সফল, তারা হাজারটা কষ্ট সহ্য করে, হাজারটা পতন সহ্য করেও ব্যবসায় টিকে থাকে। আর তাই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে সহনশীল হতে হবে, টিকে থাকা শিখতে হবে। ব্যবসা মানে সপ্তাহের দিনগুলোতে কয়েক ঘন্টা কাজ করা বা কিংবা পকেট ভর্তি টাকা আয় করা নয়। উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য লাভের জন্য আপনাকে জীবনের অনেক আরাম আয়েশ ত্যাগ করতে হবে। মাঝে মাঝে নিজের জীবনের সুখশান্তি বিসর্জন দিয়ে হলেও কাস্টমারের জন্যে সুখবর এনে দিতে হবে।

8 Comments

Leave a Reply
  1. I enjoy you because of all your efforts on this site. Kate really loves going through research and it is obvious why. My partner and i know all of the lively tactic you convey helpful tricks via this website and as well boost contribution from others on this area and my simple princess is truly studying a lot. Take advantage of the remaining portion of the new year. You’re the one conducting a really good job.

  2. I want to express thanks to this writer for rescuing me from this circumstance. After researching through the world wide web and seeing views that were not helpful, I was thinking my entire life was over. Living minus the solutions to the problems you have solved all through your main review is a crucial case, and the ones which might have in a negative way affected my entire career if I had not come across your blog. The ability and kindness in maneuvering all areas was useful. I don’t know what I would have done if I hadn’t encountered such a stuff like this. I am able to at this moment relish my future. Thanks a lot so much for the expert and effective guide. I will not think twice to propose your blog post to anyone who would need tips on this matter.

  3. Thank you a lot for giving everyone an exceptionally nice possiblity to check tips from here. It’s usually so lovely and also full of a good time for me personally and my office mates to search your website really 3 times a week to see the latest issues you have. And definitely, we are at all times pleased for the striking methods served by you. Certain two ideas on this page are essentially the most efficient we’ve ever had.

  4. Thank you for your entire hard work on this site. Kim take interest in managing investigation and it’s easy to understand why. My spouse and i hear all concerning the lively way you give functional information on the website and therefore improve participation from others on this situation so our own child has always been being taught so much. Take pleasure in the remaining portion of the new year. You have been conducting a superb job.

  5. Thanks a lot for giving everyone an extraordinarily memorable opportunity to check tips from here. It really is very amazing and also jam-packed with a good time for me and my office peers to visit the blog on the least 3 times a week to see the latest items you have got. And definitely, I’m just at all times amazed concerning the powerful knowledge you give. Certain 4 tips in this post are particularly the most efficient I’ve had.

  6. I wish to show appreciation to this writer just for rescuing me from such a setting. Just after surfing around throughout the online world and obtaining advice that were not pleasant, I was thinking my life was done. Existing minus the answers to the issues you have fixed all through the report is a critical case, as well as ones which may have in a wrong way damaged my entire career if I hadn’t come across your blog. Your knowledge and kindness in taking care of all the stuff was invaluable. I am not sure what I would’ve done if I hadn’t discovered such a solution like this. I can also at this point look forward to my future. Thanks for your time very much for the impressive and results-oriented guide. I won’t hesitate to endorse your web blog to anyone who ought to have direction on this issue.

  7. I wanted to construct a simple word in order to say thanks to you for those lovely hints you are giving on this site. My considerable internet lookup has finally been recognized with wonderful concept to write about with my two friends. I would state that that many of us website visitors actually are quite lucky to live in a good network with many special individuals with helpful tips. I feel quite happy to have discovered the webpage and look forward to so many more cool times reading here. Thank you once more for all the details.

  8. I would like to convey my respect for your generosity for folks that have the need for help with this one topic. Your very own commitment to passing the message all-around came to be astonishingly helpful and have frequently helped many people like me to achieve their targets. Your entire useful guidelines entails so much a person like me and even further to my fellow workers. Best wishes; from each one of us.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কম্পিউটার খাতের সেরা কিছু ক্যারিয়ার

কু-নজরঃ কতটা সত্য, কতটা মিথ্যা?