Source: https://www.richfeenstra.com
in

ডানিং-ক্রুগার এফেক্টঃ অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী

একটা মানুষ যতটুকু জানেন, তার চেয়ে বেশি জানার আগ্রহ তার থাকা উচিত। আপনি যদি সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন, তাহলে আপনার সমাজবিজ্ঞানের যতটুকু পর্যন্ত আপনার কাজে লাগে ঠিক ততটুকু শিখলেই হবে না, আপনাকে এর আশেপাশেও যেতে হবে। আশেপাশেও যা আছে তা শেখার চেষ্টা করতে হবে।

আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কি জানেন? আমরা যখন একটা বিষয় জানি, তখন সেই বিষয় সম্পর্কে আমরা ‘পড়ি’ কিন্তু ‘শিখতে’ পারি না! তাহলে এখন জিজ্ঞেস করবেন, পরীক্ষা কীভাবে দিই, তাই না? পরীক্ষায় আমাদের যতটুকু দরকার ততটুকুই পড়ি, শিখি আর লিখে রেখে আসি।

কম্পিউটার সায়েন্সের একটা ক্লাসে ঢুকবেন। সেখান থেকে প্রথম দুই এক বেঞ্চের স্টুডেন্টদের জিজ্ঞেস করবেন যে, তারা কেউ বিজনেসে আগ্রহী কিনা! উত্তর কি আসবে জানেন? ‘আগ্রহী নয়!’ 
এখন তাদেররকেই আবার প্রশ্ন করুন, তারা টেক বিজনেসে আগ্রহী কি না! তাদের এবারের উত্তর আসবে, ‘আমাকে নিন! আমি আগ্রহী!’

কি বুঝলেন?

তারা এটা ভাববে না যে, ব্যবসা আর টেক ব্যবসা দুটোই ‘ব্যবসা’! আর দুটোতেই ব্যবসায়িক জ্ঞান লাগাতে হবে। যাদের কাছে টেক ব্যবসা আর ব্যবসা আলাদা মানে ধারণ করে, তারা কিভাবে জানবে যে ব্যবসা কিভাবে করতে হয়!

এর নাম অল্প জ্ঞান! আবার এর নাম হতে পারে, নিজের খাতে ভালো জ্ঞান!

ওয়েবসাইট তৈরি করার কাজকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগ ডিজাইন, দ্বিতীয় ভাগ ডেভেলপমেন্ট আর তৃতীয় ভাগ ব্যাসিক মার্কেটিং!

এখন আপনি নিজেকে ততক্ষণ পর্যন্ত ‘সফল’ ওয়েব ডেভেলপার বলতে পারবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি উপরের তিনটি ধাপ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখেন।

হ্যা, আপনি হয়তো ডিজাইন কিংবা মার্কেটিং জানেন না, শুধু ডেভেলপমেন্ট জানেন! বেশ ভালো ভালো কাজ পান। মাসে শুধু ডেভেলপমেন্ট করেই লাখের উপর টাকা কামান। কিন্তু তার মানে আপনি সফল নন। কারণ, আপনি যখন দশ হাজার টাকা কামানো একটা ডেভেলপারের সামনে দাঁড়াবেন, যে কি না উপরের সবগুলো ধাপ সম্পর্কেই জ্ঞানী; তখন আপনার সেই লাখ টাকাকে ঐ দশ হাজার টাকাই মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে দেবে।

বুঝতে পারছেন কি বলছি?

এখন বলবেন, ভাই টাকাই তো মূল কথা। আমি মনে করি আমি সফল! আমি বলবো, জ্বি অবশ্যই আপনি সফল। আপনি আপনার দিক থেকে সফল। আপনি পাঁচ বছরে ৫০ লাখ টাকা কামিয়েছেন আর যে দশ হাজারের সেই ব্যক্তি পাঁচ বছরে কামিয়েছে দশ লাখ টাকা। কিন্তু, আপনার কি মনে হয় না, যে আপনার ব্রেইনের কোথাও কিংবা অনুভুতির কোথাও একটু হলেও খোঁচা দিচ্ছে যে, সে সব জানে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের আর আপনি অর্ধেকটা জানেন। টাকায় সে আপনার থেকে বড় না হলেও জ্ঞানে সে আপনার চেয়ে অনেক এগিয়ে!

বিশ্বাস করুন, একটাবার হলেও দিন শেষে এই কথাটা আপনাকে খোঁচা দেবে!

কিন্তু কিছু মানুষ আছে, যারা অভিনয় করতে পছন্দ করে। যাদের কাছে একটা কিছু শিখে যাওয়ার মানে সেই বিষয়ে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করা। আপনাকে আমি শিখতে মানা করছি না। আর মানা করলেও আপনি কেনো আমার কথা শুনবেন, আমি কোন ছাড়?!

আমি শুধু বলছি যে, যতটুকু জানেন তার চেয়ে জানার আগ্রহ থাকা উচিত। সেজন্যে শিখতে হবে, পড়তে হবে। কিন্তু তাই বলে না জেনেই? না জেনেই বলে ফেলা কিছু একটা আর জেনে চুপ থাকার মধ্যেও অনেক পার্থক্য আছে!

এটাকে সাইকোলজিতে ডানিং-ক্রুগার এফেক্ট বলা হয়। এক্ষেত্রে কিছু মানুষ আছে যারা যতটুকু জানেন, তার চেয়ে বেশি জানার আগ্রহ এদের থাকে না। এরা শুধুমাত্র যতটুকু জানে, ততটুকু জেনেই ভাবে যে এরা সেই বিষয়ের সব শিখে গেছে। আর তারা বেশি জানার অভিনয় করতে পছন্দ করে।

এটা আসলে কগনিটিভ বায়াসে মজার একটা এফেক্ট। কারন, এরা নিজেরাই বুঝে না যে, এরা যেটা করছে সেটা করা উচিত নয়। এরা জানতে আগ্রহী না কিন্তু জানাতে আগ্রহী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বায়োলজি খাতের সেরা কিছু ক্যারিয়ার

স্কিন কেয়ার স্পেশালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ুন