Source: http://prize8270.cmcgates96.life/?utm_campaign=oxxGrJ1EO8rl_lkgHhDHtdaJe-6y3ml38Z-1ZX9QaLo1&t=main9_1c5a416ef9
in ,

ইকমার্স বিজনেস মডেলের প্রকারভেদ

বিজনেস মডেল হচ্ছে একটি ব্যবসার মূল পরিকল্পনা। অর্থাৎ, একটি ব্যবসা তাদের সেবা দিয়ে কিভাবে লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে ও অর্থ উপার্জন করবে, তাই হচ্ছে বিজনেস মডেল। বিজনেস মডেল ছাড়া ব্যবসার প্রসার সম্পর্কিত কোনো ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া এটি ব্যতীত ব্যবসার একটি সুস্পষ্ট স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করাও কঠিন ব্যাপার। আর ইকমার্স বা ইলেকট্রনিক কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে বিজনেস মডেল, সেই ব্যবসার ভবিষ্যতের সময়গুলো কি রকম হওয়া উচিত কিংবা কোন ক্যাটাগরিতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া উচিত তার দিকনির্দেশনা দেয়।

প্রতিটি ব্যবসার নিজস্ব ধরণ ও প্রকৃতি রয়েছে, আর উক্ত ব্যবসার বিনিয়োগ ও লাভের পরিমান, সেই প্রকৃতি ও ধরণের উপর নির্ভর করে। আজকে আমরা জানবো ইকমার্স ব্যবসার সাতটি মডেল সম্পর্কে।

বি টু বি (বিজনেস টু বিজনেস)

বি টু বি পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একজন বিক্রেতা কোনো পণ্য প্রাথমিকভাবে বিক্রি করেন একজন ক্রেতার কাছে, যিনি পরবর্তীতে সেই পণ্যটি সরাসরি বিক্রি করেন অন্যান্য সাধারণ ক্রেতাদের কাছে। অর্থাৎ, একজন পাইকারি বিক্রেতার থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আরেকজন ব্যবসায়ী কিছু পণ্য কেনাকাটা করলো এবং সবশেষে সেই পণ্যটি বিক্রি করা হলো একজন সাধারণ ক্রেতার কাছে।

বি টু সি (বিজনেস টু কনজ্যুমার)

বি টু সি পদ্ধতিতে কোনো পণ্য, সরাসরি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়। একজন ক্রেতা ইচ্ছে করলেই ওয়েবসাইটে তার পছন্দের পণ্যটি অনলাইনে দেখতে পারেন। প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মডেলের পণ্যের ছবি ও পণ্যের বৈশিষ্ট্যসহ, বিক্রির জন্য ওয়েবসাইটে দেয়া থাকে। একজন ক্রেতা সে পণ্য দেখে কেনার সিদ্ধান্ত নেয় কিংবা অনলাইনে সেই ওয়েবসাইট থেকে পণ্যটি অর্ডার করে। এ পদ্ধতিতে উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্রেতার নিকট কোনো পণ্য খুচরা হিসেবে বিক্রি করে থাকে।

সি টু সি (কনজ্যুমার টু কনজ্যুমার)

সি টু সি পদ্ধতিতে একজন ক্রেতা ইচ্ছে করলেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সকল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারেন। এমনকি ইচ্ছে করলে বাড়ি বিক্রি কিংবা বাড়ি ভাড়া দেয়ার তথ্যও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারেন।

ওয়েবসাইটটি যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে, তারা তাদের সেবার জন্যে ইচ্ছে করলে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের থেকে চার্জ নিতেও পারে আবার নাও নিতে পারে, বিষয়টা ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মকানুন ও নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে যেকোনো ক্রেতা এই ধরনের ওয়েবসাইটের সাহায্যে বিভিন্ন পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দেখে বিভিন্ন সেবা বা পণ্য ক্রয় করে।  

সি টু বি (কনজ্যুমার টু বিজনেস)

সি টু বি পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তি ওয়েবসাইটে তার নিজের পণ্য বা সেবা নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনাসহ পোস্ট দেয় এবং ঐধরনের পণ্য বা সেবা, যেসকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন সেসকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তা ক্রয় করে। এই পদ্ধতিতে যে ব্যক্তি সেবা দেয় এবং যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেবা নেয়, তারা একটি নির্দিষ্ট অর্থ বিনিময়ে এই সেবা আদানপ্রদান করে।

বি টু জি (বিজনেস টু গভর্নমেন্ট)

বি টু জি পদ্ধতি একটি ওয়েবসাইট দ্বারা পরিচালিত হয়, যা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এর মাধ্যমে সরকার  বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও তথ্য আদানপ্রদান করে। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ব্যবসা সম্পর্কিত কাজের আবেদনপত্র গ্রহণ করে থাকে অর্থাৎ সরকারের কোনো কাজ যদি কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি করতে চায়, তাহলে সরকার থেকে আবেদনপত্র নিতে পারে।

জি টু বি (গভর্নমেন্ট টু বিজনেস)

জি টু বি পদ্ধতিতে সরকার একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে এবং নিলামের মাধ্যমে নিজেদের সেবা বা বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে থাকে। এক্ষেত্রে ক্রেতা হচ্ছে সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা সরাসরি আনুষ্ঠানিক ধাপ পেরিয়ে সরকার থেকে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করে থাকে এবং বিক্রেতা হচ্ছে স্বয়ং সরকার।

জি টু সি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন)

জি টু সি পদ্ধতির প্রধান উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা যতটুকু সম্ভব অল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেয়া। জি টু সি পদ্ধতি মূলত সরকার, দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্যে ব্যবহার করে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে একজন নাগরিক, সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজস্ব যানবাহন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া এ সেবার আওতায় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন, বিবাহ বা মৃত্যুর সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন করার মতন বিভিন্ন সেবাও একজন নাগরিক পেয়ে থাকে।

ইকমার্স ব্যবসা শুরু করার পর একটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরণের কাজ সম্পাদন করে তারপরেই প্রতিষ্ঠিত হতে হয়। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের কাজের মধ্যে পণ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে পণ্য সংরক্ষণ করা পর্যন্ত বোঝায়। কাস্টমার কেয়ারের ব্যবস্থা রাখতে হয় যাতে করে ক্রেতাদের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে সেই ব্যাপারে তারা সরাসরি সেবা পেতে পারে। তাছাড়া প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে, কিভাবে ক্রেতার কাছ থেকে পণ্যের অর্থ আদায় করা যায় এবং সেই পণ্য ক্রেতার কাছে কিভাবে পৌঁছে দেয়া যায় সেটা নিয়েও কাজ করতে হয়।

ইকমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার প্রসারের জন্যে ও ক্রেতার নিকট পৌঁছানোর একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বিজ্ঞাপন। অনলাইন ও অফলাইন বিজ্ঞাপন, পণ্যের প্রচারণা ও প্রতিষ্ঠানের প্রসারের জন্যে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

কোনো পণ্য কেনার আগে কিংবা কোনো পণ্য কেনার পর, ক্রেতার অনেক ধরনের জিজ্ঞাসা থাকতে পারে। এতে করে প্রতিষ্ঠান যেমন সচেতন হয় একজন ক্রেতাকে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে , ঠিক একইভাবে একজন ক্রেতাও নিজের মতামত জানাতে সক্ষম হন। যার ফলে ক্রেতা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগের একটা মাধ্যম তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একজন শেফ হিসেবে যেভাবে ক্যারিয়ার গড়বেন