Source: standardmedia.co.ke
in ,

উদ্যোক্তা টিপসঃ কেন দলগত ভাবে কাজ করবেন?

বাংলার দুটো বিখ্যাত প্রবাদ হচ্ছে,

দশের লাঠি, একের বোঝা।

একতাই বল।


দশজন সামান্য করে কাজ করলে যত সহজে কাজ করা যায় সেই কাজ একজনকে করতে হলে বোঝা হয়ে দাড়ায়। যেকোনো নতুন উদ্যোগ এমনই যেখানে সাধারনত বেশির ভাগ উদ্যোক্তারা পুরো কাজ একাই করেন। যদি সেখানে অন্য কারো হাত পাওয়া যায় তাহলে কাজের কি সুবিধে হতে পারে ? নাকি সেটা সমস্যা হয়ে দাড়ায় ? বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিষয়টি দেখা যাক।

দলগত কাজ করার ভালো দিকগুলো হচ্ছে,

দক্ষতা বৃদ্ধি পায়: ম্যাকডোনাল্ডস এর মত কোম্পানী বিশ্বরসেরা হওয়ার মুল সুত্র কি জানেন? সেখানে যারা কাজ করেন তারা বিশেষ একটি কাজে দক্ষতা অর্জন করেন। যেমন কারো কাজ যদি পেয়াজ কাটা হয় তাকে সবসময় পেয়াজই কাটতে হয়। এভাবে প্রত্যেকে একটু একটু করে কাজ করে ছোট্ট একটি বিষয়ে দক্ষতা লাভ করে। যেকোনো উদ্যোগরেই পুরোপুরি স্পষ্ট কয়েকটি ভাগ রয়েছে। একই ব্যক্তির পক্ষে সবগুলি না করে একাধিক ব্যক্তি যদি বিশেষ কাজগুলি করেন তাহলে প্রত্যেকের পক্ষে নিজের নিজের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়ার কথা। যিনি মুল কাজ করবেন তিনি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, কাজের তথ্য রাখবেন একজন এবং ব্যাংকের কাজগুলি করবেন আরেকজন। এর ফলে অল্প সময়ে বেশি কাজ করা সহজ হয়।

বড় কাজ করা যায়: উদ্যোগ বলতে ক্রিয়েটিভ যেকোনো কিছুই হতে পারে। মাইক্রোসফট এর মত কোম্পানীর বড় আয় আসে অন্য কোম্পানীর কাজ করে দিয়ে। এটা একটা টেকনিক। দলবদ্ধভাবে কাজ করলে বড় কাজের দিকে যাওয়া সম্ভব যা একা করার কথা ভাবাও যায় না।

বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায়: একজন ব্যক্তি এক বিষয়ে বেশি জানবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে একই কাজের মধ্যে অনেকগুলি ভিন্নভিন্ন বিষয় থাকে। একটি ওয়েবসাইট তৈরীর সময় এইচটিএমল প্রোগ্রামার যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন গ্রাফিক ডিজাইনার কিংবা ভাল ইংরেজি জানা কেউ। দল হিসেবে কাজ করলে তবেই এধরনের কাজে হাত দেয়া যায়।

কাজ পাওয়া সহজ হয়: কাজ করার সময় বিশেষ একটি অংশ করার মত ব্যক্তি যদি না থাকে তাহলে সেই কাজ পাওয়া যায় না। এমন অবস্থায় দল কাজ পেতে সহায়তা করে। আবার একজন ক্লায়েন্টের বিভিন্ন ধরনের কাজ থাকতে পারে। তারাও সবগুলি কাজ এক যায়গায় করার ব্যবস্থা পেলে খুশি হন। কাজেই সহজে কাজ পাওয়ার জন্য দল বড় ভুমিকা রাখে।

দলগত কাজের সমস্যাগুলো হচ্ছে,

দলবদ্ধভাবে কাজ করার মানষিকতা না থাকা: দলবদ্ধভাবে কাজ করার প্রথম যোগ্যতা নিজেকে দলের অংশ মনে করা। অন্তত বাংলাদেশে এ বিষয়ে সুনাম নেই। প্রত্যেকেই নিজের স্বার্থ আগে দেখেন বলে অভিযোগ শোনা যায় প্রায়ই। যে কারনে ভালভাবে শুরু করলেও কিছুদিনের মধ্যে দল ভেঙে যায়। আমেরিকানরা অর্থনৈতিক খারাপ অবস্থায় একাধিক কোম্পানী একসাথে হয়, বাংলাদেশে এক কোম্পানী ভেঙে একাধিক হয়।

দলের সমম্বয় না থাকাঃ দলে কার কাজ কি এটা যদি ভালভাবে ঠিক করা না থাকে তাহলে একজন আশা করেন কাজটি অন্য কেউ করবেন। এর ফলে কাজ সময়মত শেষ হয় না। কাউকে একা বেশি কাজ করতে হয় এবং একসময় তিনি একাই কাজ করতে পছন্দ করেন।

নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানোর প্রবনতা: বিভিন্ন কারনে কাজে সমস্যা তৈরী হতে পারে। দলগতভাবে কাজের সময় কারো ভুল হলে সেটা স্বীকার করার মানষিকতা যদি না থাকে তাহলে কাজ বাধাগ্রস্থ হয়। দলে এমন কারো উপস্থিতি থাকতে পারে যা পুরো দলের জন্য ক্ষতিকর। এ কারনে একসময় দল ভেঙে যায়।

আয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম না মানা: দলে আয় যত বেশি সদস্যদের প্রত্যেকের আয় তত বেশি। কার শেয়ার কত সেটা আগেই ঠিক না করলে কোন সদস্য মনে করতে পারেন তাকে ঠকানো হচ্ছে। একবার এই ধরনের মনোভাব তৈরী হলে সেই দল টেকে না।

খরচ বেশি হওয়া: দল হিসেবে কাজ করলে নিয়মিত কিছু খরচ হয়। যদি হাতে কাজ না থাকে তাহলে আয় থাকে না অথচ ব্যয় করতেই হয়। দলগতভাবে কাজ করার সুফল অনেক এবং সেটা প্রত্যেকেই বোঝেন।

বাস্তবে দলের প্রত্যেকের যোগ্যতা সমান হয় না অথচ সবাই সমান ফল পেতে আগ্রহী। কেউ যখন নিজের যোগ্যতার থেকে বেশি শেয়ার আশা করেন তখন দ্বন্দ শুরু হয়। কাজেই যদি দলগতভাবে কাজ করতেই হয় তাহলে প্রত্যেকের অবস্থান আগে নিশ্চিত করে নেয়াই ভাল কার। উদাহরন দেয়ার প্রয়োজন আছে কি? মাইক্রোসফট, অ্যাপল, ফেসবুক, গুগল সবগুলি কোম্পানী তৈরী হয়েছে কয়েকজনের দল থেকে। আর যদি এমন কাউকে দলে পান যিনি এই নিয়ম মানতে রাজী নন তাহলেও বাংলায় প্রবাদ আছে,

দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল।

আইটি খাতে সেরা সাতটি বিষয়ে ডিগ্রি

ব্যবসার জন্যে ওয়েবসাইট তৈরি করার ৮ টি উপকারিতা