in ,

মিথোলজি: বিশদ বর্ণনা ও কিছু প্রশ্ন

মিথোলজি বা মাইথোলজি! অনেকেই শব্দটাকে মাইথোলজিও বলে থাকেন। মিথোলজি মূলত কী, এর প্রকারভেদ, মিথোলজির বর্তমান অবস্থা, কত ধরণের মিথোলজি আমাদের মধ্যে (বর্তমানে) বিদ্যমান, সেসব মিথলোজির বিভাগ নিয়ে এই আর্টিকেলে কিছুটা বলার চেষ্টা করেছি। এছাড়াও এখানে আপনি মিথোলজির সাথে ধর্ম, সংস্কৃতি ও এলাকা বা প্রদেশের সম্পর্ক এবং পার্থক্য নিয়েও জানতে পারবেন।

মিথোলজি নিয়ে বাংলাদেশে অনেক মানুষের মাঝেই আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে গ্রীক, রোমান ও হিন্দু মিথোলজি নিয়ে আমাদের মাঝে আগ্রহের সীমা নেই। জিউস, আফ্রোদিতি, ভেনাস ইত্যাদি নিয়ে অনেক প্রশ্নেরই সম্মুখীন আমাকে হতে হয়েছে। এসব প্রশ্নের জবাবের কিছুটা হয়তো আপনারা এখানে পাবেন। যদিও এখানে আমি আলাদা করে কোনো নির্দিষ্ট মিথোলজির বর্ণনা দেবো না। এর মানে হচ্ছে, গ্রীক মিথোলজি কিংবা রোমান দেব দেবীদের নিয়ে তৈরি হওয়ার মিথোলজি সম্পর্কে জানার জন্য আমি সামনে হয়তো আলাদা কোনো আর্টিকেল কিংবা বই লিখতে পারি। প্রত্যেক মিথোলজি নিয়ে বিশদভাবে আপনারা সেখান থেকে জানতে পারবেন। এখানে শুধুমাত্র উপরে বর্ণিত তথ্যগুলোই জানতে পারবেন।

উইজা বোর্ডের ইতিহাস: দ্যা ম্যাজিকাল ডিভাইস

নির্দিষ্ট কোনো মিথোলজি নিয়ে জানার বা পড়ার আগে আমাদের সবারই ‘মিথোলজি’ শব্দটার সাথে পরিচিত হওয়া উচিত। আর সে লক্ষ্য পূরণেই আমার এই আর্টিকেল লেখার ইচ্ছা জেগেছে। তাছাড়া, বেশ কিছু মানুষ মিথোলজির সাথে ধর্মের মিল করে দিয়ে উল্টোপাল্টা যা ইচ্ছা বলে যায়। তখন একটা ধর্ম সম্পর্কে আমরা ভুল ধারণা পাই। যেটা উচিত নয়। আর তাই এখানে কিছুটা সে সম্পর্কেও বলার ইচ্ছা আছে।

মিথোলজি কী?

বর্তমানে মিথোলজি শব্দটাকে আমরা ব্যবহার করে থাকি ‘ভুল’ বা ‘কুসংস্কার’ জাতীয় কিছু বোঝানোর জন্য। আসলেই কি তাই? একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হতে পারে। যেমন: হয়তো আপনি কাউকে প্রশ্ন করেছেন, ‘সাইকেলের বা গাড়ির সামনের চাকায় পা লাগালে কি ক্ষতি হবে?’ এই প্রশ্নের উত্তরে আপনার বন্ধু (যদিও বর্তমানে আমরা প্রায় সবাই-ই বলে থাকি), ‘আরে না! এসব কিছু নয়। এ সব কুসংস্কার। এগুলো মিথ!’

কিন্তু আমরা কি মিথ শব্দটাকে আসলেই এভাবে বর্ণনা করতে পারি বা বর্ণনা করা কি উচিত?  মিথ শব্দটার ভেতরে পৌঁছাতে পারলে হয়তো আরো কিছু জানা যাবে।

ইলুমিনাতি বা দ্যা ইলিউমিনাটিঃ বিশ্ব যাদের নিয়ন্ত্রণে

দুটো গ্রীক শব্দ মিলে এই মিথোলজি শব্দটি এসেছে। গ্রীক ‘মিথোস বা মাইথোস’ শব্দ থেকে এই মিথ শব্দটি এসেছে, যার মানে দাঁড়ায় ‘স্টোরি বা গল্প’। গল্পটা সত্য না মিথ্যা সে সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নি কিন্তু। গ্রীকরা এই মিথ শব্দটাকে ব্যবহার করে থাকে শুধুমাত্র গল্প হিসেবে। কিন্তু আমরা বর্তমানে এটাকে ব্যবহার করি মিথ্যা বা কুসংস্কার জাতীয় গল্প বোঝানোর জন্য। একইভাবে গ্রীক শব্দ ‘লোগোস’ থেকে এসেছে এই লোজি শব্দটি, যার মানে দাঁড়ায় ‘অ্যানালিটিক্যাল স্টেটমেন্ট বা বিশ্লেষণাত্মক বিবৃতি’। সুতরাং, এই ‘মিথোস’ ও ‘লোগোস’ শব্দদুটোকে একত্র করলে মিথোলজি শব্দটি পাওয়া যায়, যার সম্পূর্ণ মানে দাঁড়ায় ‘গল্পের বিশ্লেষণাত্মক বিবৃতি’। সুতরাং, মিথোলজি শুধুমাত্র গল্প হতে পারে, সেটা সত্য না মিথ্যা সেটার উপর মিথোলজি ডিপেন্ড করে না।

মিথোলজির প্রকারভেদ

মিথোলজির অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। যদি আরো সুন্দর করে বলতে হয় তাহলে বলা যায় যে, মিথোলজির অসংখ্য প্রকারভেদ রয়েছে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট মিথোলজির বিভিন্ন ধরণের মতবাদ রয়েছে। যদি সেই মতবাদ সম্পর্কে লিখতে হয় তাহলে পুরো একটি বই লেখা সম্ভব শুধুমাত্র এই মিথোলজির মতবাদগুলোকে একত্র করে। যদিও মিথোলজির এই শতশত থিওরি বা মতবাদের মাঝে শুধুমাত্র তিন ধরণের মতবাদই আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে ও স্পষ্টভাবে মিথোলজি নিয়ে বর্ণনা করতে সক্ষম। বাকি সব তত্ত্বগুলোকে আমরা তাই এই লেখায় জানবো না। মিথোলজির জটিলতা কাটানোর জন্য এখানে আমি শুধুমাত্র তিন ধরনের মিথোলজিক্যাল থিওরি নিয়ে আলোচনা করবো। এই তিন ধরণের মিথোলজি হচ্ছে,

অ্যাইটিওলজিক্যাল বা এটিওলজিক্যাল মিথস: এই শব্দটি মূলত এসেছে গ্রীক শব্দ ‘অ্যাটিওন’ থেকে, যার মানে হচ্ছে ‘কারণ বা ব্যাখ্যা’। অর্থাৎ এই ধরণের থিওরি বা তত্ত্ব অথবা মতবাদ আমাদেরকে জানায় যে, বর্তমানে আমরা যেসব গল্প বা মিথ সম্পর্কে পড়ছি বা শুনছি সেগুলো কেনো হয়েছে বা কেনো ঘটেছে, এর ব্যাখ্যাই বা কি! উল্লেখ্য যে, এই ধরণের মতবাদ যে বৈজ্ঞানিকভাবে কিংবা সত্যিকার অর্থেই ঘটেছে সে সম্পর্কে আমাদের জানায় না। শুধুমাত্র একজন শ্রোতা বা পাঠক হিসেবে এসব মিথোলজির মানে বুঝতে সহায়তা করে। এই মতবাদের তিনটি উপবিভাগ রয়েছে:

ন্যাচারাল অ্যাইটিওলজিক্যাল মিথ: এই ধরণের মতবাদ বিভিন্ন মিথের সাথে এর প্রাকৃতিক অবস্থার সম্পৃক্ততা বোঝায়। যেমন: যদি বিদ্যুত চমকায় ও বজ্রপাত পড়ে, তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে, জিউস রেগে আছে।

অ্যাটিমোলজিক্যাল অ্যাইটিওলজিক্যাল মিথ: এই ধরণের মতবাদ একটি শব্দের উৎপত্তি ও এর কারণ সম্পর্কে জানায়। যেমন: দেবী আফ্রোদিতির নাম শুনে আপনি বুঝতে পারবেন যে, সে সাগরের ফেনা থেকে তৈরি। কারণ, গ্রীক শব্দ ‘আফ্রোস’-এর  মানে হচ্ছে ‘সী ফোম বা সাগরের ফেনা বা বুদবুদ’।

রিলিজিয়াস অ্যাইটিওলজিক্যাল মিথ: এই ধরণের মতবাদ আমাদেরকে বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে জানায়। যেমন: গ্রীসের একটি শহর এলিউসিসে, এলিউসিনিয়ানরা কীভাবে তাদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে জানতে পারলো! এক্ষেত্রে হয়তোবা গ্রীক দেবী ডিমিটার বা দিমিতার নিজে এসে তাকে উপাসনা করার পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা করে দিয়ে গেছেন।

খেয়াল করলে দেখবেন, উপরে আমি ‘হয়তোবা’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। কারণ এই ধরণের মতবাদের সাথে সত্যিকার অর্থেই সম্পর্ক আছে কি না সেটা সম্পর্কে আমরা জানি না। এমনকি এই ধরনের মতবাদের সাথে বৈজ্ঞানিক কোনো তত্ত্বেরও মিল পাওয়া যায় না।

হিস্টোরিক্যাল মিথস:  কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার উপর নির্ভর করে এই ধরণের মিথের বর্ণনা দেয়া হয় আর সেই ঐতিহাসিক ঘটনাটিকে মনে রাখার জন্যেই এই ধরনের মতবাদের উৎপত্তি হয়েছে। অ্যাইটিওলজিক্যাল মতবাদের মতোই এই ধরণের ঐতিহাসিক মতবাদও মূলত শুধুমাত্রই ঘটনাটির অর্থোদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর সত্যতা সম্পর্কে জানার কোনো উপায় আমাদের নেই। যেমন: ট্রোজান যুদ্ধ, ইলিয়াড ও ওডেসির মিথগুলো আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও মনে রাখতে সহায়তা করে। ট্রোজানের যুদ্ধ সত্যিকার অর্থেই হয়েছিলো কিন্তু বিখ্যাত সব চরিত্র (অ্যাগামেমনন, অ্যাকাইলিস, হেক্টর ইত্যাদি) সম্ভবত উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ, এই ধরণের চরিত্রের কোনো সত্যতা সম্পর্কে আমাদের জানার কোনোই উপায় নেই।

সাইকোলজিক্যাল মিথস: সাইকোলজিক্যাল মিথ নামক এই মতবাদ মূলত আমাদের বুঝতে সাহায্য করে মিথ নিয়ে আমাদের ভাবনাগুলোকে এবং এর সাথে আমাদের অনুভূতির সম্পর্কগুলোকে। যেমন: বিদ্যুৎ চমকালে আমরা ভাবি এটা হয়তো জিউসের ক্ষমতা কিংবা যখন কেউ রোমান্টিক ভালোবাসায় মগ্ন হয় তখন সেটাকে হয়তো আমরা ভাবি দেবী আফ্রোদিতির ক্ষমতা। এই মতবাদ আমাদের দেখায় যে, আমরা যা ভাবছি তার সাথে মিথের সত্যিকার সম্পর্ক।

মিথোলজির সাথে ধর্মের সম্পর্ক কী? আদৌ কি মিথোলজি ও ধর্ম একই জিনিস?

মিথ মূলত যেকোনো ধর্মের মূল উপাদান। এই দুটোর সম্পর্ক খুবই কাছাকাছি। অনেক স্কলারের মতে মিথ আর ধর্ম একই জিনিস। তবে আমরা যখন বিভিন্ন মিথোলজি সম্পর্কে জানবো তখন দেখবো যে, মিথোলজিকে বেশ কিছু ভাগে ভাগ করা যায়। এলাকা, প্রদেশ, ধর্ম, সংস্কৃতি ইত্যাদির উপর নির্ভর করে মিথোলজি তৈরি হয়। ধর্ম এবং বিশ্বাসের সবচেয়ে মূল বিষয় হিসেবে মিথকে ধরা যায়। স্কলারদের মধ্যেও মিথ ও ধর্ম নিয়ে অনেক মতবাদ দেখা যায়।

প্রখ্যাত অ্যান্থ্রোপলোজিস্ট এডওয়ার্ড বার্নেট টেইলর বা ই.বি টেইলরের মতে,

“মিথ মূলত পৃথিবীর অবস্থান ও এর ধারণা সম্পর্কে আমাদের বর্ণনা করে আর ধর্ম আমাদের এই পৃথিবী নিয়ন্ত্রণের অবস্থা সম্পর্কে জানায়”।

একইভাবে, প্রখ্যাত বাইবেল স্কলার উইলিয়াম রবার্ট স্মিথের ধারণা,

“বর্তমান ধর্মগুলোতে মতবাদ বা ধর্মগ্রন্থ, মূল অবস্থানে রয়েছে কিন্তু পুরনো ধর্মগুলোতে রিচুয়াল বা আনুষ্ঠানিকতা মূল অবস্থানে ছিলো। আগের মিথগুলো আমাদের কাছে গল্প আকারে চলে এসেছে কিন্তু এর আনুষ্ঠানিকতা ভিন্ন কারণে পৌঁছাতে পারে নি”।

তবে আমরা ধারণা করতে পারি যে, মিথ মূলত আমাদের যেকোনো গোষ্ঠি বা ধর্মের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ বা ইশ্বর কর্তৃক পৃথিবী চালানোর সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা দেয়। ধর্ম এক্ষেত্রে অনেক বড় একটি অবস্থান। ধর্মের মধ্যে মিথোলজি অবস্থান করতে পারে কিন্তু মিথোলজির মধ্যে ধর্মের অবস্থান সম্ভব নয়। ধর্ম অনেক বড় একটি পরিভাষা। ধর্মে রিচুয়াল সংযুক্ত থাকতেও পারে আবার নাও  থাকতে পারে। কিন্তু মিথোলজিতে রিচুয়াল ও সুপারন্যাচারাল বিশ্বাস জড়িত থাকতে হবে।

আগেও বলেছি, মিথোলজি বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। অর্থাৎ এলাকা, প্রদেশ, সময়, ধর্ম, সংস্কৃতি ইত্যাদির উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরণের মিথোলজি রয়েছে। এখন সেগুলো সম্পর্কেই সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়ার চেষ্টা করবো।

ধর্মের প্রকৃতি অনুসারে মিথোলজি

এখানে সম্পূর্ণভাবে কোনো নির্দিষ্ট মিথোলজির বর্ণনা লিখবো না। কিছুটা আঁচ দেয়ার চেষ্টা করবো। উল্লেখ্য যে, মিথোলজি, থিওলজি ও মিস্টিসিজম; এ তিনটি শব্দ সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে আমি শুধুমাত্র মিথোলজি নিয়ে বলবো। থিওলজি বা মিস্টিসিজম নিয়ে কখনো লেখার সৌভাগ্য হলে লেখা যাবে।

ধর্মের প্রকৃতি বা ভাগ অনুসারে বেশ কিছু মিথোলজি রয়েছে। তার মাঝে,

(১) খ্রিস্টান মিথোলজি মূলত যীশু খ্রিস্ট, ফলেন অ্যাঞ্জেল লুসিফার, প্রফেটস অফ গড, গ্যাব্রিয়েল, অ্যাবাডন, অ্যাডাম ও ইভ, সার্পেন্ট অফ ইডেন গার্ডেন, অ্যারিয়েল, অ্যাড্রিয়েল, অ্যাজাজিল, অ্যাজরায়েল, বারখায়েল, বেন এলোহিম, খামায়েল, ক্যাসিয়েল, বাইবেল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে। ঈশ্বরের মানব সৃষ্টি থেকে শুরু করে সব ধরণের কাহিনীই এখানে বর্ণিত হয়।

(২) ইসলামিক মিথোলজি মূলত আল্লাহ, বিভিন্ন নবী ও তাদের কাহিনী, বিভিন্ন ফেরেশতার ঘটনা, কোরআন, শয়তানের কাহিনী ইত্যাদি বিষয় নিয়েই তৈরি হয়েছে। আল্লাহ্‌র মানব সৃষ্টির শুরু থেকে শুরু করে প্রায় সব কাহিনীই এই ধরণের মিথোলজি মধ্যে বর্ণিত হয়।

(৩) হিন্দু মিথোলজি মূলত ঈশ্বরের সৃষ্টি, তার বিভিন্ন রূপ, অবতার, বিভিন্ন ধরণের ক্রিয়েচার, রামায়ন, মহাভারত, গীতা ইত্যাদি নিয়েই তৈরি হয়েছে। হিন্দু মিথোলজিতে প্রায় ৩৩ ধরণের ঈশ্বরের বর্ণনাও এর সাথেই সম্পৃক্ত। ঈশ্বরের সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল ঘটনাই এই হিন্দু মিথোলজির মধ্যে বর্ণিত হয়েছে।

(৪) বুদ্ধিস্ট মিথোলজি মূলত গৌতম বুদ্ধের কাহিনী, উনার জীবনযাপনের গল্প, শিক্ষা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও উনার ক্ষমতা নিয়েই বর্ণিত হয়েছে।

(৫) ইহুদী/ জিউইশ মিথোলজি মূলত ঈশ্বর (যেহোভা), উনার দেয়া প্রফেট, প্রথম মানবমানবীর সৃষ্টি কথা, কিং সলোমনের কাহিনী, তাওরাতের ঘটনা, জীবনযাত্রা, কর্মব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে বর্ণিত হয়েছে।  এখানে ইহুদীদের জন্য সম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থারও বর্ণনা করা হয়েছে।

ধর্ম নিয়ে তৈরি হওয়া মিথোলজিগুলো মূলত বিভিন্ন স্থান, কাল ও পাত্রের সাথেও সম্পৃক্ত। যেমন:  ইসলামিক, জিউইশ ও খ্রিস্টান মিথোলজি মূলত অ্যাব্রাহামিক মিথোলজির মধ্যে পড়ে। একইভাবে অ্যাব্রাহামিক মিথোলজি মিডল ইস্টার্ন মিথোলজির মধ্যে অবস্থান করে। অন্যদিকে বুদ্ধিস্ট ও হিন্দু মিথোলজি মূলত সাউথ অ্যাশিয়ান মিথোলজির অন্তর্ভুক্ত। হিন্দু মিথোলজির দুটো ভাগও রয়েছে, তামিল ও ভেদিক/বৈদিক মিথোলজি। উপরে আমি ৫টি ধর্মের মিথোলজির কথা বললাম। বর্তমানে পৃথিবীতে ৪২০০ ধর্ম রয়েছে। তার মধ্যে এই পাঁচটি ধর্মই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত আর তাই এগুলো নিয়েই লিখেছি। একইভাবে বাকি ৪১৯৫ টি ধর্মও মিথোলজির মাধ্যমে বর্ণনা করা যায়।

সময়, কাল ও যুগভেদে মিথোলজির প্রকৃতি

এই ভাগে আমি কিছুই বর্ণনা করবো না। এই ভাগে ব্রোঞ্জ যুগ থেকে লৌহ যুগ হয়ে সমাপ্তির অনাদিকাল পর্যন্ত মিথোলজিগুলো বর্ণিত হয়েছে।

ব্রোঞ্জ যুগের মিথোলজিগুলো হচ্ছে (১) ক্যানানাইট মিথোলজি (২) চাইনিজ মিথোলজি (৩) ইজিপশিয়ান মিথোলজি (৪) হিটিট মিথোলজি (৫) হারিয়ান মিথোলজি (৬) পার্সিয়ান মিথোলজি (৭) প্রটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান মিথোলজি।

লৌহ যুগের মিথোলজিগুলো হচ্ছে (১) সেল্টিক মিথোলজি (২) ক্ল্যাসিকাল মিথোলজি (২.১) গ্রীক মিথোলজি (২.২) রোমান মিথোলজি (৩) এট্রুস্কান মিথোলজি (৪) জার্মানিক মিথোলজি (৪.১) অ্যাঙ্গলো-সেক্সন মিথোলজি (৪.২) নর্স মিথোলজি।

লেইট অ্যান্টিকুইটির মিথোলজিগুলো হচ্ছে (১) অ্যারাবিয়ান মিথোলজি (২) স্ল্যাভিক মিথোলজি।

এলাকা বা প্রদেশভেদে মিথোলজির প্রকৃতি

(১) মিডল ইস্টার্ন মিথোলজিঃ

  • অ্যাব্রাহামিক মিথোলজিঃ ক্রিস্টিয়ান মিথোলজি, ইসলামিক মিথোলজি, জিউইশ মিথোলজি।
  • এলামাইট মিথোলজি
  • হিটিট মিথোলজি
  • ইরানিয়ান মিথোলজিঃ কুর্দিশ মিথোলজি, ওসেটিয়ান মিথোলজি, পার্সিয়ান মিথোলজি।
  • মেসোপটেমিয়ান মিথোলজিঃ সুমেরিয়ান মিথোলজি।
  • সেমিটিক মিথোলজিঃ অ্যারাবিয়ান মিথোলজি, ব্যাবিলনিয়ান মিথোলজি, ক্যানানাইট মিথোলজি।

(২) নর্থ অ্যাফ্রিকান মিথোলজিঃ

  • বারবার মিথোলজি
  • ইজিপশিয়ান মিথোলজি

(৩) সেন্ট্রাল এশিয়ান মিথোলজিঃ

  • মঙ্গোল মিথোলজি
  • সিথিয়ান মিথোলজি
  • তুর্কিচ মিথোলজি

(৪) ইস্টার্ন ইউরোপিয়ান মিথোলজিঃ

  • অ্যালবানিয়ান মিথোলজি
  • আর্মেনিয়ান মিথোলজি
  • ব্যাল্টিক মিথোলজিঃ লাতভিয়ান মিথোলজি, লিথুনিয়ান মিথোলজি, প্রুসিয়ান মিথোলজি।
  • সির্কাশিয়ান মিথোলজি
  • জর্জিয়ান মিথোলজি
  • হাঙ্গেরিয়ান মিথোলজি
  • প্যালিও-ব্যালকান মিথোলজি
  • স্ল্যাভিক মিথোলজি
  • ভাইনাখ মিথোলজি

(৫) নর্দার্ন ইউরোপিয়ান মিথোলজিঃ

  • ফিনিচ মিথোলজিঃ এস্টোনিয়ান মিথোলজি, ফিনিশ মিথোলজি, স্যামি মিথোলজি।
  • জার্মানিক মিথোলজিঃ অ্যাঙ্গলো – সেক্সন মিথোলজি, ফ্র্যাঙ্কিশ মিথোলজি, নর্স মিথোলজি।

(৬) সাউদার্ন ইউরোপিয়ান মিথোলজিঃ

  • ক্ল্যাসিকাল মিথোলজিঃ এট্রুস্কান মিথোলজি, গ্রীক মিথোলজি, রোমান মিথোলজি।

(৭) ওয়েস্টার্ন ইউরোপিয়ান মিথোলজিঃ

  • সেল্টিক মিথোলজি
  • ব্র্যায়থোনিক মিথোলজিঃ ব্রেটন মিথোলজি, কর্নিশ মিথোলজি, ওয়েলশ মিথোলজি।
  • গইডেলিক বা গাইলিক মিথোলজিঃ আইরিশ মিথোলজি, ম্যাঙ্কশ মিথোলজি, স্কটিশ মিথোলজি।
  • ইংলিশ মিথোলজি
  • ফ্রেঞ্চ মিথোলজি
  • স্প্যানিশ মিথোলজিঃ বাস্ক মিথোলজি, ক্যান্টাব্রিয়ান মিথোলজি, ক্যাটালান মিথোলজি, লুসিটানিয়ান মিথোলজি।

(৮) সেন্ট্রাল অ্যাফ্রিকান মিথোলজিঃ

  • বান্তু মিথোলজি
  • বুশোঙ্গো মিথোলজি
  • বালুবা মিথোলজি
  • লুগাবারা মিথোলজি
  • উম্বুটি মিথোলজি

(৯) ইস্টার্ন অ্যাফ্রিকান মিথোলজিঃ

  • দিঙ্কা মিথোলজি
  • লুটোকো মিথোলজি
  • মাসাই মিথোলজি
  • সোমালি মিথোলজি

(১০) ওয়েস্ট অ্যাফ্রিকান মিথোলজিঃ

  • অ্যাকান মিথোলজি
  • দাহোমিয়ান মিথোলজি
  • এফিক মিথোলজি
  • ইগবো মিথোলজি
  • উরহবো মিথোলজি
  • ইওরুবা মিথোলজি

(১১) সাউদার্ন অ্যাফ্রিকান মিথোলজিঃ

  • লোজি মিথোলজি
  • মালাগাসাই মিথোলজি
  • স্যান মিথোলজি
  • তুম্বুকা মিথোলজি
  • জুলু মিথোলজি

(১২) অ্যাফ্রিকান ডায়াসপরিক মিথোলজিঃ

  • ক্যানডোম্বলে মিথোলজি
  • হুডু মিথোলজি
  • কুমিনা মিথোলজি
  • ওবেহ মিথোলজি
  • পালো মিথোলজি
  • কুইমবান্ডা মিথোলজি
  • সান্তেরা মিথোলজি
  • উম্বান্ডা মিথোলজি
  • ভোডউ মিথোলজি

(১৩) সাউথ এশিয়ান মিথোলজিঃ

  • বুদ্ধিস্ট মিথোলজি
  • হিন্দু মিথোলজিঃ তামিল মিথোলজি, ভেদিক/বৈদিক মিথোলজি
  • রোমানি মিথোলজি

(১৪) ইস্ট এশিয়ান মিথোলজিঃ

  • আইনু মিথোলজি
  • বাই মিথোলজি
  • চাইনিজ মিথোলজি
  • জাপানিজ মিথোলজি
  • কোরিয়ান মিথোলজি
  • মানচু মিথোলজি
  • মঙ্গোলয়ান মিথোলজি
  • কিয়াং মিথোলজি
  • রাইয়ুকাইয়ুয়ান মিথোলজি
  • তিব্বেতিয়ান মিথোলজি

(১৫) সাউথ-ইস্ট এশিয়ান মিথোলজিঃ

  • বার্মিজ মিথোলজি
  • ইন্দোনেশিয়ান মিথোলজিঃ বালিনিজ মিথোলজি
  • মালয়শিয়ান মিথোলজি
  • ফিলিপাইন মিথোলজি
  • ভিয়েতনামিজ মিথোলজি

(১৬) ওশেনিয়ান মিথোলজিঃ

  • অস্ট্রেলিয়ান অ্যাবরিজিনাল মিথোলজি
  • মেলানিশিয়ান মিথোলজিঃ ফিজিয়ান মিথোলজি, পাপুয়ান মিথোলজি।
  • মাইক্রোনেশিয়ান মিথোলজি
  • পলিনেশিয়ান মিথোলজিঃ হাওয়াইয়ান মিথোলজি, মাঙ্গারিভান মিথোলজি, মাওরি মিথোলজি, রাপা নুই মিথোলজি, সামোয়ান মিথোলজি, তাহিতিয়ান মিথোলজি, তোংগান মিথোলজি, তুভালিয়ান মিথোলজি।

(১৭) নর্থ আমেরিকান মিথোলজিঃ

  • অ্যাবেনাকি মিথোলজি
  • ব্ল্যাকফুট মিথোলজি
  • শেরোকি মিথোলজি
  • শকটাও মিথোলজি
  • ক্রিক মিথোলজি
  • ক্রো মিথোলজি
  • হাইডা মিথোলজি
  • হোপি মিথোলজি
  • ইনুইট মিথোলজি
  • ইরোকুইস মিথোলজি
  • লাকোটা মিথোলজি
  • নু-শা-নুথ মিথোলজি
  • ওহলোন মিথোলজি
  • পোনি মিথোলজি
  • সিমশিয়ান মিথোলজি
  • জুনি মিথোলজি

(১৮) সেন্ট্রাল অ্যামেরিকান মিথোলজিঃ

  • অ্যাজটেক মিথোলজি
  • মায়া মিথোলজি
  • ওলমেক মিথোলজি

(১৯) সাউথ অ্যামেরিকান মিথোলজিঃ

  • শিলোট মিথোলজি
  • গুয়ারানি মিথোলজি
  • ইনকা মিথোলজি
  • মাপুচে মিথোলজি
  • মুইজকা মিথোলজি

উপন্যাসভেদে মিথোলজির প্রকৃতি

(১) থুলহু মিথোলজি

(২) উইলিয়াম ব্লেইকস মিথোলজি


আশা করি মিথোলজি সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নেরই জবাব এখানে পেয়ে যাবেন। যদিও স্পেশিফিক্যালি প্রত্যেকটা মিথলোজি নিয়েই লেখার ইচ্ছা আছে। দেখি সময় পেলে লিখবো। কমেন্ট করে জানাবেন অবশ্যই লেখাটা কেমন লেগেছে আর যদি প্রশ্ন থাকে তবে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

ভালো থাকবেন, ভালো রাখবেন!

9 Comments

Leave a Reply
  1. Thank you for all your work on this web site. My daughter delights in working on investigation and it is easy to see why. Most of us learn all relating to the lively form you produce valuable suggestions via this blog and even recommend response from other people on that point then our child has always been learning a whole lot. Enjoy the rest of the new year. You are always performing a brilliant job.

  2. I want to express my thanks to this writer just for bailing me out of this type of crisis. After researching throughout the the web and obtaining tricks which are not pleasant, I thought my entire life was well over. Living devoid of the strategies to the problems you have sorted out as a result of your main review is a serious case, and the ones which could have in a wrong way affected my career if I hadn’t come across your blog post. That skills and kindness in maneuvering all the details was vital. I don’t know what I would have done if I had not encountered such a step like this. I can at this time relish my future. Thanks so much for this skilled and results-oriented help. I will not hesitate to propose your web sites to any person who should have recommendations about this situation.

  3. I simply wished to thank you so much yet again. I’m not certain what I would have carried out without the entire ideas discussed by you over such subject matter. This was a real horrifying problem in my circumstances, however , encountering the professional technique you solved the issue forced me to weep for fulfillment. Extremely happy for your information and thus pray you recognize what a great job you were undertaking educating the mediocre ones using your web site. More than likely you’ve never got to know any of us.

  4. I intended to write you that little remark in order to give thanks again just for the unique tips you have documented in this case. This is certainly wonderfully open-handed of people like you to deliver without restraint all a number of people would have offered for an e book to help make some bucks for themselves, mostly since you could possibly have done it in case you wanted. These solutions in addition worked to be the great way to recognize that some people have the same desire like my personal own to find out a whole lot more concerning this condition. Certainly there are millions of more enjoyable times up front for individuals that looked over your blog post.

  5. I truly wanted to construct a small message to be able to thank you for these wonderful recommendations you are showing on this site. My considerable internet investigation has at the end been compensated with pleasant information to talk about with my family. I ‘d declare that many of us visitors are truly lucky to live in a fantastic site with so many awesome professionals with beneficial strategies. I feel truly happy to have encountered your site and look forward to many more entertaining moments reading here. Thanks once more for all the details.

  6. A lot of thanks for your own efforts on this web site. Gloria take interest in carrying out investigations and it’s really easy to see why. We learn all concerning the compelling ways you render both useful and interesting information via the blog and even welcome participation from website visitors about this area so our own child is without question understanding so much. Take advantage of the rest of the year. Your performing a brilliant job.

  7. My spouse and i have been delighted Ervin could conclude his researching because of the ideas he came across from your weblog. It is now and again perplexing to simply continually be making a gift of information and facts which usually the rest could have been selling. We understand we need the writer to appreciate because of that. Those explanations you made, the easy web site menu, the friendships you can assist to engender – it’s mostly unbelievable, and it’s leading our son in addition to our family understand the concept is brilliant, and that’s truly indispensable. Many thanks for all the pieces!

  8. I simply needed to say thanks once again. I am not sure the things that I would have implemented without the entire tips and hints documented by you about that area of interest. It seemed to be a real difficult setting for me personally, however , noticing your professional way you solved the issue made me to leap over joy. Now i’m grateful for this assistance and sincerely hope you know what an amazing job you are always carrying out training others using your web page. I’m certain you’ve never encountered any of us.

  9. My husband and i ended up being so joyous Raymond managed to complete his analysis through your ideas he gained through the blog. It’s not at all simplistic to just happen to be freely giving guidance which men and women have been making money from. And now we acknowledge we have the blog owner to appreciate for that. The most important explanations you made, the easy site menu, the relationships you can make it possible to foster – it’s many superb, and it is aiding our son and us feel that the topic is exciting, and that’s rather mandatory. Many thanks for everything!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একজন উদ্যোক্তার সফল ও ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলো কী?

কীভাবে অনলাইনেই বইয়ের ব্যবসা শুরু করবেন