Source: https://www.theverge.com
in

ফোকালাইজেশন অ্যাফেক্টঃ একটা চিন্তার রেশ যখন হাজারটা

ছেলেটার ব্রেকআপ হয়েছে বেশিদিন হয় নি! খুবই কষ্ট পেয়েছে সে। বন্ধুদের সাথে প্রতিদিন বিকেলে খেলতে যেতো। কিন্তু ব্রেকআপের কারণে এখন সেদিক থেকেও মন উঠে গিয়েছে। একা একা বিকেলবেলায় ছাদের এক কোনায় বসে থাকাটাই তার কাছে এখন সময় কাটানোর সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম হয়ে গিয়েছে।

সে যেদিকে তাকায় শুধু মেয়েটার চেহারাই ভেসে উঠে। পড়ার টেবিলে নিজের অজান্তেই মেয়েটার সাথে কথা বলে সে। ধোঁয়াউঠা চায়ের কাপেও চুমুক দিতে তার কাছে এখন অসহ্য লাগে। এই ভাল্লাগেনা রোগের শুরুটা তার এভাবেই হয়েছে!

সকালে ঘুম থেকে উঠে সে বাইরে যেতো। তারপরে কলেজ থেকে এসে, বিকেলের দিকে বন্ধুদের সাথে খেলতে যাওয়াটা তার কাছে সবচেয়ে অসাধারণ মনে হতো। তার সবচেয়ে পছন্দের দিন ছিলো সোমবার। সেদিন সে, জান্নাতকে নিয়ে ঘুরতে বেরোয়। কিন্তু এটাও আর সম্ভব না। তার কাছে এখন সব দিনই বাজে, সবকিছুই বিরক্তিকর।

অনেকদিন হয়ে গেছে সে বাসা থেকে বেরোয় না। বাসায় থাকতে থাকতে সে মানসিকভাবে ডিপ্রেসড হয়ে গিয়েছে। একা একাই কথা বলে। মোবাইল বের করে বারবার মেয়েটার ছবি দেখে। ধীরে ধীরে সে অ্যালকোহল আর ড্রাগসের সাথেও যুক্ত হয়ে গিয়েছে।

চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে তার। ফর্সা চেহারায় কালো দাগ বেশ ভালোই বোঝা যায়। সারাদিন শুয়ে থাকে। তার বাবা-মা তার এই সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ কয়েকজন ডাক্তার দেখিয়েছেন, সাইকিয়াট্রিস্ট দেখিয়েছেন। কিন্তু কেউই কিছু বলতে পারে নি।

তার চাচার অনুরোধে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হলো। মেয়ের সাথে তার বেশ ভালোই জমলো। বিয়ের দিন রাতে মেয়ে কাউকে কিছু না জানিয়েই তার বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো। মেয়ের পরিবার যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো। একে একে তিনজন মেয়েই একই কাজ করলো। 
শেষের জন শুধু বলে গিয়েছিলো, “আপনার ছেলেকে বলুন তার আগের জনকে ভুলতে!”

তার মা শেষমেষ স্ট্রোক করে বসলো। কিছুদিন পরেই মা মারা গেলো। মায়ের মৃত্যুতে সে অনেক কাঁদলো। তার বাবা বললেন, “তোর মায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী তুই! বাসা থেকে বেরিয়ে যেদিকে ইচ্ছে চলে যা! আমাদের আর কোনোদিন মুখ দেখাতে আসিস না!”

সে বেরিয়ে গেলো। 
এর পর থেকে কেউ আর তাকে কোনোদিন খুঁজে পায় নি!

উপরের ঘটনাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক! চরিত্র এবং ঘটনা কোনোটার সাথে যদি কারো মিল থাকে তাহলে সেটার জন্য আমি দায়ী নই!

উপরের ঘটনাটি কেনো বললাম, জানেন? 
উপরে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে! 
তার মধ্যে খেয়াল করলে দেখবেন যে, সমস্যার শুরু হয়েছে একটা বিশেষ জায়গা থেকে; জান্নাতের সাথে ছেলেটার ব্রেকআপ!

তারপর ছেলেটা যাই করে, সবকিছুতেই একই সমস্যা! ছেলেটা চেষ্টা করেছে, বিয়েও করেছে; একবার দুবার নয়, বরঞ্চ তিনবার বিয়ে করেছে কিন্তু সে জান্নাতকে ভুলতে পারে নি!

এটাকে কি বলে জানেন? এটাকে বলে ফোকালাইজেশন এফেক্ট বা ফোকালিজম বা অ্যাঙ্কোরজিম!

ডেনিয়্যাল ক্যাহনিমেন এই সমস্যাটাকে প্রথম সাইকোলজিতে কগনিটিভ বায়াসে যুক্ত করেন। তিনি দেখান যে, মানুষের যেকোনো একটা সিদ্ধান্ত, তার জীবনের বাকি সব সিদ্ধান্তেও সমানভাবে এফেক্ট করতে পারে। যার ফলে সে ঠিকমতো ডিসিশন নিতে পারে না, ঠিকমতো কোনো কাজ করতে পারে না!

এমনকি সে নতুন একটা পরিস্থিতিতে গেলেও সেটাকে মানিয়ে নিতে পারে না। কারণ সে মারাত্মক পরিমাণে কনফিউজড হয়ে যায়। এমনকি পুরোনো পরিস্থিতিকে সে এভোয়েডও করতে পারে না।

আর তার এই সমস্যার কারণে সে নিজের পাশাপাশি আশেপাশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার মারাত্মক পরিমাণে ব্যাঘাত ঘটাতে থাকে।

এর থেকে বের হওয়ার উপায়? 

তার মাইন্ড চেঞ্জ করতে হবে। সে নিজে করতে
না পারলে অন্য কাউকে দিয়ে করাতে হবে! তাকে অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিতে হবে। অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তি দিয়ে কিংবা অভিজ্ঞতা দিয়ে তাকে সামনে এগুনো শেখাতে হবে! তার পার্সোনালিটি ও আচার ব্যবহার সম্পূর্ণ পরিমাণে চেঞ্জ করতে হবে! তার জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এমন কোনো কাজে তাকে লিপ্ত হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

টেলিপ্যাথির আদি থেকে বর্তমান

বাটারফ্লাই এফেক্টঃ তুচ্ছ থেকে অবিশ্বাস্য