Jobs & CareerParapsychology

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

সাইকোলজির একটি বিশেষ বিভাগ হচ্ছে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি। একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মূলত বিভিন্ন মানসিক সমস্যা ও জনসংখ্যার সমস্যা নিয়ে কাজ করে থাকেন। এই ধরণের সাইকোলজিস্টরা মূলত রোগীর সাথে কথা বলে তার সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করে থাকেন। বর্তমানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা পার্সোনালিও অফিসের মাধ্যমে সাইকোলজিক্যাল কনসালটেন্সি সার্ভিস দিয়ে থাকেন। চলুন জেনে আসা যাক, কীভাবে একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন।

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট কী কী কাজ করে থাকেন?

স্বাস্থ্যখাতে মূলত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টকে সাইকোলজির একটি বিশেষ ভাগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের কাজ প্রায় কাছাকাছিই। চলুন জেনে নেওয়া যাক একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কাজগুলো,

১. সেন্টার অ্যারাউন্ড রোগীর দেখাশোনা করা।

২. নিত্যনতুন সাইকোলজিক্যাল রোগ ও ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে গবেষণা ও রিসার্চ করা।

৩. প্র্যাকটিসের জন্য প্র্যাকটিসের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা।

৪. অন্যান্য সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেয়া।

৫. প্যাশেন্ট কেয়ার এক্টিভিটিস পালন করা।

৬. অ্যাম্বুলেটরি ও অফিস বেইজড কনসালটেন্সি করা।

৭. মেডিক্যাল রিসার্চ ও রোগী দেখার পাশাপাশি ট্রেইনিং প্রদান করা।

৮. বিভিন্ন মেন্টাল থেরাপি ও ট্রিটমেন্টের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।

৯. হেলথ কেয়ার কাভারেজ, ম্যাল-প্র্যাকটিস ইনস্যুরেন্স ও রিটায়ারমেন্ট সেভিং প্রোগ্রামে যোগদান করা।

১০. সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় অন্যান্য ফিজিশিয়ানদের সাহায্য নেয়া।

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

স্বাস্থ্য খাতে একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্বে আপনি, ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্টেন্ট, হিস্টোটেক, মেন্টাল থেরাপিস্ট অথবা পার্সোনাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। উপরোক্ত পদগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। একজন সিনিয়র লেভেলের অর্থাৎ হেড অফ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হওয়ার পুর্বে আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে স্বাস্থ্য খাতের অন্য রকমের কিছু পেশার দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকলে, তাতে আপনার জন্য সার্জন হওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, আপনাকে যে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে তা হচ্ছে,

১. হাই একুইটি ইথিওলজিস ও কমপ্লেক্সিটিস সম্পর্কে গভীর দক্ষতা থাকতে হবে।

২. ওন্ড ম্যানেজমেন্টের উপর যথেষ্ট পারদর্শী হতে হবে।

৩. রিডিউস অ্যাম্পিটিশনে দক্ষ হতে হবে।

৪. ক্লিনিক্যাল স্যাটিসফেকশন, সাইকোলজি ও মেডিক্যাল প্রসিডিউরে দক্ষতা থাকতে হবে।

৫. মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টির অধীনে ইন্টারডিসিপ্লিনারি টিমের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৬. বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল কনসালটেন্সি মেথড, ট্রিটমেন্ট স্ট্র্যাটেজি ও রোগের গবেষণা ও অ্যানালাইসিস করে সেগুলো ডায়াগনাইজ করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৭. জেনারেল ট্রিটমেন্ট, মেডিটেক মেন্টাল সিস্টেম, ট্রমা স্কোপ এবং লোকাম টেনেন্স সম্পর্কে জানতে হবে।

৮. ভিন্ন ভিন্ন হেলথ কেয়ার প্যাকেজের উপর যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে (মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও ভিশন)।

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে?

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার পূর্বে মেডিসিন, প্রি মেড প্রোগ্রাম, কেমিস্ট্রি, সাইকোলজি, বায়োলজি, ফিজিক্স অথবা ভলানটিয়ারিং উপর কমপক্ষে দুই থেকে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা যায়। তারপর, মেডিক্যাল স্কুল অথবা ইউনিভার্সিটি থেকে বিভিন্ন ধরণের সাইকোলজির উপর ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। অতঃপর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের ক্যাটাগরিতে পিএইচডি অথবা পিএসওয়াইডির মতো ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে। তারপর ক্লিনিক্যাল ট্রেইনিং কমপ্লিট করে বিভিন্ন লাইসেন্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কী ধরণের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে?

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে যোগদান করার পূর্বে, আপনাকে মেডিক্যাল প্রোগ্রামিং, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, সাইকোলজি, মেডিক্যাল রিসার্চ ও অ্যানালাইসিসসহ স্বাস্থ্য খাতের সাইকোলজি বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত সকল ধরণের বিষয়ের উপর কমপক্ষে ২ থেকে ৭ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের বেতন কেমন হতে পারে?

যদি স্বাস্থ্য খাতে একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে আপনার বাৎসরিক বেতন এন্ট্রি লেভেল ও সিনিয়র লেভেলে ভিন্ন ভিন্ন হবে। এন্ট্রি লেভেলের একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের বাৎসরিক বেতন হয় সর্বনিম্ন ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। সিনিয়র লেভেলের একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের বাৎসরিক বেতন হয় সর্বনিম্ন ৮০ লক্ষ টাকা থেকে থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত।

এছাড়াও, স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য পদে বেতন স্কেলে তারতম্য দেখা যায়। যেমন: একজন ফিজিশিয়ানের বাৎসরিক বেতন ৪০ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়। আবার, একজন জেনারেল সার্জনের বাৎসরিক বেতন ৩০ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৯০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়াটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে, যদি আপনি বায়োলজি, হিউম্যান বিহেভিয়ার অথবা মেডিক্যাল ট্রিটমেন্টের উপর বেশ কিছু সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারেন। বর্তমানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের জন্য যেসব সার্টিফিকেশন কোর্সের গুরুত্ব অনেক বেশি, সেগুলো হচ্ছে,

১. বায়োলজিক্যাল বেইজেস অফ বিহেভিয়ার

২. সার্টিফাইড একাডেমিক সাইকোলজি

৩. কগিনিটিভ অ্যাফেক্টিভ বেইজেস অফ বিহেভিয়ার

৪. গ্রোথ অ্যান্ড লাইফ স্প্যান ডেভেলপমেন্ট

৫. অ্যাসেসমেন্ট এন্ড ডায়াগোনাইসি

৬. ট্রিটমেন্ট, ইন্টারভেনশন, প্রিভেনশন এন্ড সুপারভিশন

৭. রিসার্চ, মেথডস এন্ড স্ট্যাটিসটিকস

৮. ইথিক্যাল, লজিক্যাল এন্ড প্রফেশনাল ইস্যু

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট পদটি আপনার জন্যে উপযুক্ত কিনা ভেবে দেখুন

একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের মূল কাজ হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানির পক্ষ থেকে অফিশিয়ালি কিংবা মেডিকেলের পক্ষে মানসিক সমস্যার রোগীদের দেখাশোনা করা ও তাদের সমস্যার সমাধান করা। একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের বেতন সর্বোচ্চ কোটি টাকাতেও পৌঁছাতে পারে। কিন্তু এর বিপরীতে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে। সঠিক রোগ সম্পর্কে জানা, রোগীদের সাথে তথ্য আদানপ্রদান করা, যেকোনো রোগীর সাথে দ্রুত সম্পর্ক স্থাপন করাসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের।

Related Articles

1,089 Comments