Source: https://www.getdigital.eu/Programmer.html
in , , ,

প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

কিছু কিছু পেশা আছে যেগুলোকে নেশা হিসেবে নেয়া যায়। সাধারণত যেসব পেশায় নতুনত্ব, সৃজনশীলতা ও চ্যালেঞ্জ থাকে সেসব পেশাকে কেউ কেউ তাদের ধ্যানজ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করেন। এমন সৃষ্টিশীল ও চ্যালেঞ্জিং পেশার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে প্রোগ্রামিং পেশা। বিশ্বের সর্বত্র যখন প্রযুক্তির জয় জয়কার তখন আমাদের দেশের তরুণ তরুণীদের একটা বৃহৎ অংশ ছুটছে প্রযুক্তির বিশাল মার্কেটে নিজের অবস্থান স্থায়ী করে নিতে। এমনবস্থায় প্রতিদিন প্রচুর তরুণ তরুণী প্রযুক্তিকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে আগ্রহী হচ্ছে। প্রযুক্তির বিশাল রাজ্যের রাজপুত্র বলা যায় কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে। যারা কম্পিউটার পোগ্রামার হওয়ার কথা ভাবছেন তাদের জন্য প্রাথমিক গাইডলাইন হিসেবে এই আর্টিকেলটি লেখা হলো।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর অসংখ্য ভাষা রয়েছে। প্রতিটি ভাষাই অনন্য। তবে এই সকল ভাষায় একজন ব্যাক্তির পক্ষে সমান দক্ষ হয়ে ওঠা অসম্ভব প্রায়। কাজেই আপনি যদি একজন পোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান তাহলে প্রথমেই আপনাকে একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষা পছন্দ করতে হবে এবং সেই ভাষায় নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে। এই আর্টিকেলে আমি বর্তমান সময়ের উপযোগী কিছু প্রোগ্রামিং ভাষার সুযোগ সুবিধা ও এই সব ভাষার মার্কেট প্লেস নিয়ে আলোচনা করবো। এতে করে তরুণ পোগ্রামারদের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।

বর্তমানে দেশে যে পরিমান যোগ্য প্রোগ্রামার দরকার আমাদের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সেই পরিমান প্রোগ্রামার তৈরি নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে পাল্লা দেয়ার মত সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন প্রোগ্রামার গড়ে উঠছে না। কম্পিউটার সায়েন্স বা সিএসইর হাজারো শিক্ষার্থী প্রতি বছর পাশ করে বের হচ্ছে। কিন্তু দক্ষতার ঘাটতির কারণে কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। এই লেখায় আমি চেষ্টা করব কেউ যদি প্রোগ্রামিং কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায় তাহলে কিভাবে সে তার এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।

প্রোগ্রামার হতে হলেই আপনাকে কম্পিউটার সায়েন্স বা আইটির ছাত্র হতে হবে না। বিজ্ঞান, ব্যবসায় বা মানবিক, যে কোন বিভাগের ছাত্র হোন না কেন আপনার মেধা ও ইচ্ছাশক্তির বলে এখানে ভাল করতে পারবেন। এ জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও প্রচুর অনুশীলন।

কেনো প্রোগ্রামিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেবেন?

যেকোন একটা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ভালভাবে শিখতে বেগ পেতে হবে ঠিকই তবে এর পরিনতি সুস্বাদু। প্রোগ্রামারের চাহিদা পৃথিবীতে কখনই কমবেনা বরং দিনদিন সব কিছুই অটোমেটেড তথা মেশিন ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। প্রত্যেকটি ডিজিটাল সিস্টেমে সফটওয়্যার বাধ্যতামূলক আর তাই প্রোগ্রামারও আবশ্যক। প্রোগ্রামিং ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কেন রোমাঞ্চকর তার ১০০ টারও বেশি কারন দেখাতে পারি। নিচে তার কয়েকটি আলোচনা করা হলোঃ

  • প্রোগ্রামিং এমন একটা জিনিস, ভালভাবে শিখলে আপনিই হিরো। এটা কোন খেলা নয় যে আজকে ভাল খেললেন তো আজকের জন্য হিরো, কাল ফর্ম নেই তো কাল থেকে জিরো! কোডিং শেখাটা সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ধৈর্য্যের ব্যাপার। মনে হতে পারে এতদিন ধরে শিখছি কিন্তু আউটপুট তো জিরো। এই জিরো টেম্পরারি বাট শিখে গেলে জিরো হওয়াটা পার্মানেন্ট।
  • যেকোন একটা ল্যাংগুয়েজ ভালভাবে শিখলেই হবে, তবে ল্যাংগুয়েজটি মেইনস্ট্রিম ল্যাংগুয়েজ হতে হবে, যেমনঃ জাভা, সি, পিএইচপি, পাইথন কিংবা এরুপ কোন ল্যাংগুয়েজ। একটা ভালভাবে শেখার কথা এজন্য বললাম কারন পৃথিবীর সব মেইনস্ট্রিম ল্যাংগুয়েজ একই শুধু সিনট্যাক্স এবং টুকিটাকি এটা সেটাতে পার্থক্য। তাই যেকোন সময় ল্যাংগুয়েজ সুইচ করা মাত্র এক সপ্তাহের ব্যাপার। আপনি যদি একটা ল্যাংগুয়েজে এক্সপার্ট হন তাহলে এরপর যেকোন ল্যাংগুয়েজ শিখতে এক সপ্তাহের বেশি লাগবে না। তবে হ্যা, নতুন যে ল্যাংগুয়েজ শিখলেন সেই ল্যাংগুয়েজের কোন এক্সপার্টের সাথে আপনার শুধু কিছু অভিজ্ঞতার পার্থক্য থাকবে সেটাও দ্রুত রিকভার করা যায়।
  • সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে এই সেক্টরে সার্টিফিকেটের তুলনায় ট্যালেন্ট এবং যোগ্যতার মুল্য বেশি। কাজ জানেন তো ডিগ্রী ছাড়াই লাখ টাকা মূল্যের কাজ করতে পারবেন, যেমনঃ জাকারবার্গ কিংবা বিল গেটসের কথা ভেবে দেখুন। আর কাজ না জানলে শত ডিগ্রী থাকলেও হয়রানি।
  • চাকরি যদি নাও করেন তবুও নিজেই একটা ইকমার্স প্রজেক্ট কিংবা নিজের তৈরি আইডিয়ার দ্বারা অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট তৈরি করে বাজারে ছেড়ে দিলেই তো এরপর শুধু মার্কেটিং এর কাজ, তারপর বসে বসে খাও!

কোন ভাষা শিখবো? ভাষাগুলোর সুবিধা অসুবিধাগুলো কি কি?

চলুন তাহলে বেশ কিছু মেইন্সট্রিম ভাষার সুবিধা, অসুবিধা সম্পর্কে জানা যাক। একইসাথে সেগুলোর মার্কেটপ্লেসের অবস্থা সম্পর্কেও জেনে আসি।

১. জাভাস্ক্রিপ্ট (JavaScript)

ওয়েব পেইজ প্রোগ্রামিং করার জন্য জাভাস্ক্রিপ্ট (সংক্ষেপে JS) একটি স্ক্রিপ্টিং প্রোগ্রামিং ভাষা। বর্তমান পৃথিবীতে সব থেকে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে এই ভাষাটি। এটি এতোটাই প্রভাবশালী একটি ভাষা যে, বর্তমানে জাভাস্ক্রিপ্ট ছাড়া কোন ওয়েব সাইট কল্পনা করাও কষ্টকর। প্রোগ্রামার হিসেবে কেনো জাভাস্ক্রিপ্ট বেছে নেবেন, সে সংক্রান্ত পোস্ট এখানে পাবেন।

সুবিধা 

>>         অত্যধিক সহজ প্রোগ্রামিং ভাষা।

>>         প্রোগ্রামিং সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান ছাড়াই এই ভাষাটি শেখা যায়।

>>         শক্ত-সমর্থ ভাষা এবং সরাসরি এইচটিএমএল (HTML) পেজে রান হয়।

>>         জাভাস্ক্রিপ্টের প্রচুর ফ্রের্মওয়ার্ক রয়েছে।

>>         সকল প্লাটফর্মের জন্য হাইব্রিড অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা যায়।

>>         ওয়েব পেজ ডিজাইনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রোগ্রামিং ভাষা।

>>         জাভাস্ক্রিপ্টের বিভিন্ন অপারেটরের ব্যবহার জাভা (java) ভাষার অনুরূপ।

অসুবিধা 

>>         জাভাস্ক্রিপ্ট হাই লেভেলের প্রোগ্রামিং ভাষা নয়।

>>         ডাটাবেজ সমর্থন করে না।

>>         ফাইল তৈরি করতে ও পড়তে পারে না।

মার্কেটপ্লেস : একজন দক্ষ জাভাস্ক্রিপ্ট ডেভলপারের বার্ষিক গড় আয় প্রায় ১১০,৭৫৬ ডলার। যা অন্য যেকোনো প্রোগ্রামিং ভাষার থেকে বেশি! তবে উপমহাদেশে ক্যারিয়ার হিসাবে জাভাস্ক্রিপ্ট কখনোই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত হবে না। কারণ তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে এখানে প্রচুর ডেভলপার পাওয়া যায়।

২. জাভা (Java)

হাই লেভেল প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে সর্বাধিক মার্কেট সফল ভাষা হলো জাভা। যা বর্তমান প্রযুক্তি দুনিয়ার প্রায় পুরোটাই দখল করে আছে। জাভা ৩ বিলিয়ন ইলেকট্রিক ডিভাইসে রান করছে। ফলাফলস্বরূপ আমাদের প্রতিদিন জীবনের আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে, এমন প্রায় প্রতিটি স্থানেই জাভা রান হচ্ছে। চন্দ্র বিজয়েও আছে জাভার অবদান!

সুবিধা 

>>         অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিরাপদ ভাষা।

>>         প্লাটফর্ম স্বাধীন। অর্থাৎ সকল প্লাটফর্মেই রান হয়।

>>         লোকাল সফটওয়্যার ও সার্ভার সফটওয়্যার দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য।

>>         সাইনট্যাক্স সহজ ও পড়ার উপযোগী।

>>         অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের অফিশিয়ালি ভাষা।

>>         উন্নত ফাইল সিস্টেম।

>>         থ্রিডি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমর্থিত প্রোগ্রামিং ভাষা।

অসুবিধা 

>>         প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া সরাসরি জাভা শেখা খুবই কষ্টকর। তাই জাভা শেখার পূর্বে জাভাস্ক্রিপ্ট (JavaScript), সি (C) অথবা সি++ (C++) ভাষা শিখে তারপর জাভা শুরু করতে হয়।

মার্কেটপ্লেস: একজন দক্ষ জাভা ডেভলপারের বার্ষিক গড় আয় ৭৩,২৬৮ ডলার! কাজের ক্ষেত্র, জাভার দক্ষতা এবং উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপটে জাভা পছন্দের প্রোগ্রামিং ভাষা হওয়ার ক্ষেত্রে ‘নাম্বার ওয়ান’ হওয়ার দাবি রাখে।

৩. পাইথন (Python)

পাইথনকে বলা হয় আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষা। হাই লেভেলের এই ভাষাটি বিশ্বের তরুণ সমাজে খুব জনপ্রিয়। উচ্চ কর্মদক্ষতা, সহজ সাইনটেক্স, পড়ার উপযোগিতা ও স্বাধীন প্লাটফর্মের সুবিধা নিয়ে পাইথন বর্তমানে জাভার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। তরুণ সমাজে পাইথনের জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ হলো, প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কে পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই পাইথন সরাসরি শেখা যায়।

সুবিধা

>>         সাইনটেক্স খুবই সহজ ও পড়ার উপযোগী।

>>         প্লাটফর্ম স্বাধীন। অর্থাৎ সকল প্লাটফর্মে রান হয়।

>>         লোকাল সফটওয়্যার ও সার্ভার সফটওয়্যার দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য।

>>         সার্ভারের জন্য ডিজেনগো (Django) নামে ফ্রেমওয়ার্ক রয়েছে।

>>         উন্নত ফাইল সিস্টেম ও ডাটাবেজ সমর্থক প্রোগ্রামিং ভাষা।

অসুবিধা 

>>         আধুনিক স্মার্ট ফোনের অ্যাপ তৈরির জন্য পাইথন সুবিধাজনক ভাষা নয়।

মার্কেটপ্লেস: আউটসোর্সিংয়ে পাইথনের বর্তমান চাহিদা প্রচুর। একজন পাইথন ডেভলপারের বার্ষিক গড় আয় ১১৪,২৯১ ডলার। যা হাই লেভেল প্রোগ্রামিং ভাষার জন্য সর্বোচ্চ। তবে পাইথনের জনপ্রিয়তার মূল কেন্দ্র হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলোতে। উপমহাদেশ কিংবা মিডেল ইস্টের দেশগুলোতে পাইথনের চাহিদা তুলনামূলক কম। তবে ভবিষ্যতের সময়টা পাইথনের জন্য সুখকর হতে যাচ্ছে, এতে সন্দেহ নেই। কাজেই ক্যারিয়ার হিসেবে পাইথনকে পছন্দ করা হবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

৪. পিএইপি (PHP) 

পিএইচপি হলো সার্ভার সাইট স্ক্রিপ্টিং ভাষা। সার্ভার অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য পিএইচপি তুমুল জনপ্রিয় ভাষা। ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress), জুমলা (Joomla), ধ্রুপাল (Drupal) এর মতো শীর্ষস্থানীয় সিএমএসগুলো (CMS) নির্মিত হয়েছে পিএইচপি দিয়ে। ফেইসবুক (Facebook), উইকিপিডিয়া (Wikipedia), ই-বে (eBay) সহ প্রায় সবগুলো অনলাইন মার্কেটিং সাইটও তৈরি হয়েছে এই পিএইচপি দিয়ে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আপডেট ও বিশাল ডেভলপার টিম নিয়ে পিএইচপি এখন মার্কেটের শীর্ষে।

সুবিধা 

>>         সহজ সাইনটেক্স ও অত্যন্ত কর্মদক্ষ ভাষা।

>>         উন্নত ফাইল সিস্টেম।

>>         নিরাপদ ও শক্তিশালী ভাষা।

>>         হাই লেভেল প্রোগ্রামিং ভাষার মতো ক্লাস সমর্থিত।

>>         এইচটিএমএল (HTML) এর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সকল প্লাটফর্মে রানেবল যোগ্য।

>>         বৃহৎ ডেলপার টিম, ফ্রেমওয়ার্ক ও সমৃদ্ধ ততোধিক সিএমএস রয়েছে।

অসুবিধা :

>>         সার্ভার সাইট স্ক্রিপ্টিং ভাষা হিসেবে পিএইচপির উল্লেখযোগ্য কোন অসুবিধা নেই।

মার্কেটপ্লেস : জন্মের পর থেকেই পিএইচপি মার্কেটে তার শীর্ষ অবস্থান অক্ষুন্ন রেখেছে। একজন পিএইচপি ডেভলপারের বার্ষিক গড় আয় ৬১,৪০৫ ডলার। বিশ্বের সর্বত্র পিএইচপি ডেভলপারদের ব্যপক চাহিদা রয়েছে। কাজেই ওয়েব পোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পিএইচপি একটি চমৎকার ভাষা।

৫. সি++ (C++)

হাই লেভেল প্রোগ্রামিং ভাষার মধ্যে সি++ অন্যতম মার্কেট সফল প্রোগ্রামিং ভাষা। আধুনিক প্রতিটি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের মূল ভিত্তি সি++। উন্নতমানের সফটওয়্যার ডেভলাপের ক্ষেত্রে সি++ এর বিকল্প নেই। বিশেষ করে হাই গ্রাফিক্যাল কম্পিউটারের গেম তৈরির জন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী পোগ্রামিং ভাষা।

সুবিধা 

>>         অত্যন্ত পাওয়ারফুল প্রোগ্রামিং ভাষা।

>>         কর্মদক্ষতার স্কেলে নাম্বার ওয়ান প্রোগ্রামিং ভাষা।

>>         রয়েছে অসংখ্য শক্তিশালী পোগ্রামিং টুল।

>>         উন্নত ফাইল সিস্টেম।

>>         রয়েছে আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষার সকল সুবিধা এবং দ্রুত এক্সিকিউট হবার ক্ষমতা।

অসুবিধা 

>>         নিরাপত্তার দিকে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে।

>>         প্লাটফর্ম স্বাধীন নয়। অর্থাৎ আলাদা প্লাটফর্মের জন্য একই অ্যাপ্লিকেশন আলাদাভাবে লেখতে হয়।

মার্কেটপ্লেস: পিসি গেম তৈরিতে সি++ এখনো তার অবস্থান শীর্ষে ধরে রেখেছে। প্রতি বছর বিভিন্ন গেমিং কোম্পানি থেকে যত পিসি গেম রিলিজ হয় তার বৃহৎ অংশই সি++ দিয়ে তৈরী। তাছাড়া এডোব, মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলোর তৈরি প্রায় সকল সফটওয়্যারই সি++ দিয়ে তৈরী। সি++ এর একজন দক্ষ ডেভলপারের বার্ষিক গড় আয় ৭০,৬৪১ ডলার। আপনি যদি পিসি গেম তৈরি করতে চান, অথবা বড় কোনো গেমিং প্লাটফর্মে কাজ করতে চান, তাহলে সি++ এর বিকল্প নেই।

৬. সুইফট (Swift) 

সুইফট হচ্ছে iOS (আইফোন অপারেটিং সিস্টেম) এ কাজ করার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত একটি ভাষা। যা আইফোনের হার্ডওয়্যারের সাথে সব থেকে ভালো সার্ভিস দিতে পারে। আপনি যদি আইফোন ও আইপ্যাডের জন্য অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে চান তাহলে সুইফ্ট হচ্ছে একমাত্র পোগ্রামিং ভাষা।

সুবিধা 

>>         হাই লেভেল পোগ্রামিং ভাষা।

>>         উন্নত ফাইল সিস্টেম।

>>         শক্তিশালী ও নিরাপদ ভাষা।

>>         iOS এর অফিশিয়ালি প্রোগ্রামিং ভাষা।

অসুবিধা 

>>         macOSiOS, watchOS এবং tvOS ছাড়া অন্য কোনো প্লাটফর্মে সুইফ্ট ভাষা তেমন সুবিধাজনক নয়।

মার্কেটপ্লেস: সময়ের সাথে সুইফ্ট তার জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। যেহেতু সুইফ্ট শুধুমাত্র macOS, iOS, watchOSএবং tvOS এ আবদ্ধ তাই নতুন প্রোগ্রামাররা সুইফ্ট এর প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখায় না। এজন্য সুইফ্টে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক কম। এটাও হতে পারে আপনার ক্যারিয়ারের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ। একজন সুইফ্ট ডেভলপারের জন্য বার্ষিক গড় আয় প্রায় ১১২,২৬৫ ডলার। যদিও সুইফ্ট মার্কেটে খুব শক্ত অবস্থানে নেই, তথাপি বলা যায়, যতদিন অ্যাপল তাদের মার্কেট ধরে রাখতে পারবে, ততদিন সুইফ্টও মার্কেটে থাকবে। সেই অর্থে তুলনামূলক স্বল্প প্রতিযোগিতায় ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সুইফ্ট হতে পারে একটি চমৎকার মাধ্যম।


উপরোল্লিখিত প্রোগ্রামিং ভাষা ছাড়াও রয়েছে আরও বহু জনপ্রিয় মার্কেট সফল প্রোগ্রামিং ভাষা। যেমন- জাভা ও পাইথন এর বিকল্প হিসাবে আছে কটলিন (Kotlin)রুবি (Ruby)ডট নেট (.Net)পার্ল(Perl) ইত্যাদি। সার্ভার সাইটের জন্য পিএইচপির বিকল্প হিসেবে আছে এএসপি ডট নেট (ASP.NET)ডিজেনগো (Django)নোড ডট জেএস (Node.js) ইত্যাদি। এছাড়াও উইনডোজ ফোনের জন্য রয়েছে সি সার্প (C#)। রয়েছে জাভা স্ক্রিপ্টের ফ্রেমওয়ার্ক জেকিউরি (jQuery)এনগুলার জেএস (Angular JS) ইত্যাদি।

একজন সফল প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা বাধ্যতামূলক নয়। অনলাইনে প্রোগ্রামিং শেখার রয়েছে প্রচুর স্কুল, ব্লগ, কমিউনিটি, ইউটিউব ভিডিও চ্যানেল। যেখান থেকে একজন আগ্রহী তরুণ-তরুণী বিনামূল্যে প্রোগ্রামিং শিখে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারে।

খুব দ্রুত অর্থ উপার্জনের চিন্তা বাদ দিন। প্রোগ্রামিং পেশায় ভাল করতে হলে এর পিছনে বেশ কিছু সময় ও পরিশ্রম বিনিয়োগ করতে হবে। তাৎক্ষণিক অর্থপ্রাপ্তির আশা আপাতত বাদ দিন। মোটামোটি বছর খানেকের একটা পরিকল্পনা তৈরি করুন। এই পেশার কোন একজন বিশেষজ্ঞের সাথে আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড, ক্যাপাসিটি, ক্যাপাবিলিটি ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। তার সাথে শেয়ার করুন আপনি কি ধরণের কাজ করতে পছন্দ করেন। সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন পর্যায়ের বিভিন্ন ধরণের জনশক্তি কাজ করে থাকে। কেউ ফ্রন্ট এন্ডে কাজ করে আবার কেউবা ব্যাক এন্ডে। আবার কেউ কাজ করেন শুধুমাত্র ডেটাবেজ নিয়ে। অভিজ্ঞ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা হয়ত আপনাকে ভাল কোন পরামর্শ দিতে পারবেন।

যদি এমন কারো সাথে কথা বলতে পারেন তো ভাল। তা না হলে শুরু করে দিন যে কোন একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। একদম নতুনদের জন্য পাইথন কিংবা জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়েও হতে পারে আপনার প্রোগ্রামিং এর হাতেখড়ি। এই দুটি প্রোগ্রামিং ভাষাই খুব সহজ ও বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষাতেই এর পর্যাপ্ত রিসোর্স রয়েছে। শুরুতে আপনি যেটা শিখবেন সেটা হচ্ছে, যে কোন একটা প্রোগ্রামিং ভাষার ‘অ-আ-ক-খ’। আমরা যেমন যে কোন ভাষার অক্ষর তৈরি করা শিখি, এরপর শব্দ-বাক্য বানাতে শিখি। আপনাকেও এভাবে কম্পিউটারের ভাষাটাকে শিখতে হবে। যে কোন ভাষার খুঁটিনাটি আর ব্যাকরণ ভাল ভাবে জানলেই সে ভাষা নিজের মত করে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। ভিত্তিটা মজবুত হলেই কেবল কোন ভাষায় সাহিত্য চর্চায় সফল হওয়া সম্ভব। এ জন্য আপনার সদ্য শেখা প্রোগ্রামিং ভাষার উপর প্রচুর সমস্যা সলভ করতে হবে। যেই টপিক শিখবেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা আপনার শেখা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে সমাধান করবেন।

যে কোন ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যাসিক সিনট্যাক্সটা শেখা হয়ে গেলে আরেকটু দক্ষ হবার জন্য আপনাকে শিখতে হবে ডেটা স্ট্রাকচার। যে কোন সফটওয়্যার বা এপ্লিকেশন মূলত বিভিন্ন ডাটা ইনপুট নিয়ে সেগুলোকে প্রসেস করে আউটপুট দেখায়। এই ডাটাগুলোকে ইফিশিয়েন্টলি হ্যান্ডেল করার জন্য ডাটা স্ট্রাকচার শেখার কোন বিকল্প নেই। এটা শিখে এই সংক্রান্ত প্রবলেম সলভ করার মাধ্যমে প্রোগ্রামিং জ্ঞান বাড়িয়ে নিতে পারবেন আরো অনেকখানি।

অ্যালগরিদম শিখুন; জটিল কাজগুলো সমাধানের জন্য। এলগরিদম হচ্ছে প্রোগ্রামিং এর বিভিন্ন সমস্যাকে সমাধানের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ধাপ। একটা প্রবলেম সলভ করার বিভিন্ন টেকনিক বা বিভিন্ন অ্যালগিরদম আছে। কোন পদ্ধতির কি সুবিধা কি অসুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কে জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার গড়তে এলগোরিদম জানাটা অনেক বেশি জরুরি।এই পর্যায়ে বলা যায়, আপনি মোটামোটি প্রোগ্রামিংয়ের কিছুটা জ্ঞান অর্জন করেছেন। এই পর্যায়ে আপনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কিছুটা পড়াশোনা করতে পারেন। এরপর শুরু করতে পারেন যে কোন সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট তৈরির কাজ। সেটা হতে পারে ডেস্কটপ এপ্লিকেশন, মোবাইল এপ্লিকেশন, ওয়েব এপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইট। আপনার যেহেতু ব্যাসিক প্রোগ্রামিং এর ধারণা হয়ে গেছে তাই আপনি এই মুহূর্তে যে কোন পথেই যেতে পারেন।

প্রোগ্রামিংটা ভাল ভাবে জানলে দেশে-বিদেশে ভাল কাজের কোন অভাব নাই। কিন্তু জানতে হবে ভাল ভাবে। থাকতে হবে শেখার মানসিকতা। শিখতে হবে জীবন ভর!

11 Comments

Leave a Reply
  1. I would like to express my thanks to you for bailing me out of this challenge. Because of browsing throughout the the net and coming across principles which were not pleasant, I was thinking my entire life was done. Existing without the approaches to the issues you’ve resolved by way of this review is a serious case, as well as those which might have in a wrong way affected my entire career if I had not come across your web page. That understanding and kindness in controlling all things was very useful. I am not sure what I would’ve done if I had not discovered such a subject like this. I’m able to at this point look forward to my future. Thanks a lot so much for the expert and result oriented help. I will not be reluctant to propose your web sites to any individual who ought to have recommendations about this issue.

  2. I in addition to my buddies came looking through the good solutions on the website and then quickly I got a horrible suspicion I never thanked the site owner for those tips. All the young men appeared to be as a consequence excited to study them and have surely been enjoying those things. I appreciate you for turning out to be really kind as well as for utilizing these kinds of wonderful topics millions of individuals are really desirous to know about. Our honest regret for not expressing gratitude to earlier.

  3. I in addition to my friends were actually reading the great secrets found on your web site and so the sudden I got a horrible suspicion I had not thanked the site owner for those tips. These women were definitely for this reason passionate to study all of them and have now seriously been making the most of these things. Thank you for actually being so accommodating and also for selecting varieties of excellent information millions of individuals are really eager to be aware of. My sincere apologies for not saying thanks to sooner.

  4. I definitely wanted to compose a remark in order to say thanks to you for those marvelous information you are posting at this website. My particularly long internet investigation has finally been honored with pleasant information to exchange with my friends. I would mention that many of us readers actually are unquestionably blessed to dwell in a wonderful site with so many wonderful individuals with helpful tricks. I feel pretty happy to have seen your site and look forward to some more brilliant moments reading here. Thank you once more for everything.

  5. Thank you for all of your efforts on this site. Kate loves doing investigations and it’s easy to understand why. A number of us know all relating to the lively method you give invaluable ideas through this blog and as well as encourage response from other people on the subject plus our favorite child is without a doubt learning so much. Have fun with the rest of the new year. You are always conducting a powerful job.

  6. I wish to express some appreciation to this writer for rescuing me from this particular crisis. As a result of browsing throughout the world wide web and finding concepts which were not productive, I figured my entire life was gone. Existing devoid of the strategies to the difficulties you’ve sorted out as a result of your good guide is a serious case, and ones which may have adversely affected my career if I hadn’t noticed your web page. That competence and kindness in controlling all things was helpful. I am not sure what I would’ve done if I had not come upon such a solution like this. I can also at this time look forward to my future. Thank you very much for this expert and sensible help. I won’t think twice to recommend the website to any individual who requires recommendations about this matter.

  7. I would like to show appreciation to this writer for bailing me out of this type of trouble. Right after surfing through the search engines and obtaining ideas that were not beneficial, I was thinking my life was done. Being alive without the presence of answers to the issues you have solved all through your blog post is a critical case, as well as the kind which may have adversely affected my entire career if I had not discovered your web blog. Your own personal talents and kindness in taking care of the whole lot was tremendous. I don’t know what I would have done if I had not come upon such a step like this. I can also now look forward to my future. Thanks for your time so much for this impressive and sensible guide. I will not be reluctant to propose your web page to any person who would like support about this issue.

  8. I precisely desired to thank you so much once again. I am not sure what I could possibly have sorted out in the absence of those concepts contributed by you relating to such a subject. Certainly was the traumatic circumstance in my view, but viewing a new well-written technique you processed that forced me to cry for joy. Extremely happier for the advice and even pray you know what a great job you were doing instructing people via your web site. Most probably you haven’t come across all of us.

  9. I wish to show some thanks to this writer for bailing me out of this setting. As a result of researching throughout the the net and finding methods which were not productive, I assumed my entire life was well over. Existing without the presence of strategies to the issues you’ve sorted out by means of the short post is a crucial case, and those which may have negatively damaged my entire career if I had not discovered your web blog. Your primary skills and kindness in dealing with all the pieces was crucial. I’m not sure what I would have done if I had not come across such a thing like this. I am able to at this time relish my future. Thank you so much for this high quality and effective guide. I will not be reluctant to propose the blog to anyone who ought to have counselling on this issue.

30 Pings & Trackbacks

  1. Pingback:

  2. Pingback:

  3. Pingback:

  4. Pingback:

  5. Pingback:

  6. Pingback:

  7. Pingback:

  8. Pingback:

  9. Pingback:

  10. Pingback:

  11. Pingback:

  12. Pingback:

  13. Pingback:

  14. Pingback:

  15. Pingback:

  16. Pingback:

  17. Pingback:

  18. Pingback:

  19. Pingback:

  20. Pingback:

  21. Pingback:

  22. Pingback:

  23. Pingback:

  24. Pingback:

  25. Pingback:

  26. Pingback:

  27. Pingback:

  28. Pingback:

  29. Pingback:

  30. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জাভাস্ক্রিপ্ট: ভবিষ্যতের জন্য শেখার প্রোগ্রামিং ভাষা

ইন্সটল করে নিন ১৪ টি প্রয়োজনীয় প্রোডাক্টিভিটি সফটওয়্যার