in , ,

একজন সার্ভে রিসার্চার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার উপায়

যদি আপনি আইটি সিস্টেম, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল সার্ভিস, বিজনেস রিসার্চ এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্টের উপর দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে একজন সার্ভে রিসার্চার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। যদি আপনি যেকোনো অরগানাইজেশন ও কোম্পানির থেকে যেকোনো ধরণের ডেটা অ্যানালাইসিস করতে পারেন, তাহলে সার্ভে রিসার্চারের বাজারে আপনার এই দক্ষতার অনেক চাহিদা রয়েছে।

একজন সার্ভে রিসার্চার মূলত যেকোনো অরগানাইজেশন বা কোম্পানির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং এবং মার্কেট ও সোশ্যাল রিসার্চের উপর কাজ করে থাকেন। মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের সাথে সম্পৃক্ত সব ধরণের ডেটা ও ডকুমেন্ট ইন্টারপ্রেট ও অ্যানালাইসিস করার কাজও করে থাকেন তিনি। চলুন জেনে আসি, কীভাবে একজন সার্ভে রিসার্চার হিসেব ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

একজন সার্ভে রিসার্চার কী কী কাজ করে থাকেন?

একজন সার্ভে রিসার্চার মূলত বিভিন্ন কোম্পানির মার্কেটিং, প্রমোশন, স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং এবং ডেটা রিসার্চ ও অ্যানালাইসিসের কাজ করে থাকেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক একজন সার্ভে রিসার্চারের কাজগুলো,

১. অরগানাইজেশন বা কোম্পানির অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে দলগতভাবে মার্কেটিং প্ল্যান ও স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা।

২. ক্লায়েন্ট ও অন্যান্য কোম্পানির সাথে সোশ্যাল রিলেশনশিপ তৈরি করা।

৩. অ্যাডভান্সড ডেটা অ্যানালাইসিস, স্ট্র্যাটেজিক সাজেশন ও পটেনশিয়াল ইম্প্রুভমেন্টের কাজ করা।

৪. আইটি রিসোর্সের সার্ভে করা।

৫. সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের সাথে যেকোনো বিষয়ে কোলাবোরেশন করা।

৬. অন্যান্য ডিপার্টমেন্টকে অনগোয়িং সাপোর্ট দেওয়া।

৭. বিভিন্ন ধরণের ডেটা অ্যানালাইসিস টুলস দ্বারা প্রজেক্ট অ্যানালাইজ করা।

৮. রিপোর্টিং কোয়ালিটি ডেভেলপ করা।

৯. ইন্টিগ্রেশন এবং এক্সেপ্টেন্স টেস্টিংয়ে অন্যান্য বিভাগকে সহায়তা করা।

১০. ট্রেইনিং মেটেরিয়াল ও সাজেশন ডেভেলপ করা।

১১. মার্কেট ও টেকনোলজির মধ্যে ইন্টারপ্রেটার হিসেবে কাজ করা।

১২. বিভিন্ন বিভাগকে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে সহায়তা করা।

সার্ভে রিসার্চার পদটি আপনার জন্য উপযুক্ত কি?

একজন সার্ভে রিসার্চারকে এক বা একাধিক কোম্পানি বা অর্গানাইজেশনের মার্কেটিংয়ের কাজ করতে হয় এবং একইসাথে মার্কেট অ্যানালাইসিস, রিসার্চ ও ডেভেলপমেনন্টের দিকেও নজর রাখতে হয়। তিনি বিভিন্ন ধরণের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ও রিসার্চের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির বা কোম্পানির পণ্য বিক্রি বৃদ্ধির জন্য দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। যদিও তার মূল কাজ মার্কেটিং করা নয়। একজন সার্ভে রিসার্চারের মূল কাজ হচ্ছে যেকোনো মার্কেটের সোশ্যাল অ্যানালাইসিস করা। একজন সার্ভে রিসার্চারের বাৎসরিক বেতন ২০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

Best Survey Websites List (Ultimate List)

কিন্তু এর বিপরীতে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে। সঠিক অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা প্রদান করা, যেকোনো কোম্পানি ও পণ্যের বিভিন্ন ধরণের অ্যানালিটিক্স সম্পর্কে জানা, যেকোনো সময় মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করাসহ আরো অনেক ধরণের কাজ রয়েছে একজন সার্ভে রিসার্চারের। সুতরাং ভেবে দেখুন এই পদে আপনি ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন কিনা। এই পদটি আপনার প্যাশন ও দক্ষতার সাথে কতটুকু উপযুক্ত, তা নিয়েও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

একজন সার্ভে রিসার্চারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

একজন সার্ভে রিসার্চার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্বে আপনি, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, নেটওয়ার্ক মার্কেটার, ডিজিটাল মার্কেটার, সোশ্যাল সুপারভাইজার, বিজনেসম্যান, বিজনেস ম্যানেজার, প্রজেক্ট ম্যানেজার অথবা ডেটা অ্যানালিস্টের চাকরি দ্বারা ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। উপরোক্ত পদগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে মার্কেট রিসার্চার, সার্ভে অ্যানালিস্ট, সার্ভে রিসার্চার, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার, বিজনেস অ্যানালিস্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজার, ডিজিটাল মার্কেটার অথবা বিজনেস অ্যাডভাইজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

একজন সিনিয়র লেভেলের সার্ভে রিসার্চার হওয়ার পূর্বে আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ব্যবসা ও মার্কেটিং খাতের অন্য রকমের কিছু পেশার দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকলে, সার্ভে রিসার্চার হওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য। একজন সার্ভে রিসার্চার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, আপনাকে যে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে তা হচ্ছে,

১. নন টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো বোঝানোর ক্ষমতা থাকতে হবে।

২. মোটিভেশন করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৩. অনেকগুলো প্রজেক্ট একসাথে চালানোর দক্ষতা থাকতে হবে।

৪. সল্যুশন ইমপ্লিমেন্টেশনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৫. অসাধারণ অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা থাকতে হবে।

৬. সাজেশন কোয়ান্টিফাই করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৭. বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।

৮. আইটির উপর অসাধারণ দক্ষতা থাকতে হবে।

৯. ডকুমেন্ট অ্যানালাইসিস, প্রসিডিউর অবসার্ভেশন ও কোর ইস্যু রিপোর্টিংয়ের দক্ষতা থাকতে হবে।

১০. মাইক্রোসফট অফিস, লিবরা অফিস ও অন্যান্য অফিস অ্যাপ্লিকেশনের উপর অভিজ্ঞ হতে হবে।

১১. এসকিউএল, ওরাকল, জাভা, ডট নেট ও সি শার্পের মতো রিসার্চ বেইজড প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।

১২. এলিসিটেশন টেকনিক, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট টেকনিক ও মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির উপর পারদর্শী হতে হবে।

১৩. প্রজেক্ট স্টেক হোল্ডার আইডেন্টিফাই ও ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা থাকতে হবে।

১৪. স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইসিস ও প্ল্যানিং প্রিভিউ করার দক্ষতা থাকতে হবে।

১৫. ভিজ্যুয়াল মডেলিং, অ্যাডভান্সড প্রসেস ম্যাপিং, ফ্লো চার্ট, মাইক্রোসফট ভিজিও এবং সফটওয়্যার টেস্টিংয়ে পারদর্শী হতে হবে।

শুরুতে ছোটোখাটো কোম্পানিতে সার্ভে রিসার্চার হিসেবে কাজ করুন

যদি আপনি সার্ভে রিসার্চার হিসেবে কোনো কোম্পানি থেকে ইন্টার্নি করে থাকেন, তাহলে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার প্রয়োজন পড়বে না। আর যদি আগে কোথাও ইন্টার্নশিপ না করে থাকেন, তাহলে বড় কোম্পানিতে ডেটা অ্যানালিস্ট বা সার্ভে রিসার্চার হিসেবে কাজ করার পূর্বে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করুন। এতে অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা দুইই লাভ করতে পারবেন।

সার্ভে রিসার্চার হিসেবে বড় কোম্পানিতে চাকরি খুঁজুন

ছোটোখাটো কোম্পানিতে চাকরি করার পর, বড় বড় কোম্পানির দিকে চলে আসুন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন কাজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দুইই বজায় থাকে। অনেক সময়েই দেখা যায়, ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার জন্যে যেসকল দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে, বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। কারণ, বড় কোম্পানিগুলোতে কাজের ক্ষেত্রও বড় হয়।

যে কারণে সার্ভে রিসার্চার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল মার্কেটার এবং সার্ভে রিসার্চারের উপর অনেক কোম্পানিই নির্ভর করছে। আর তাই, প্রতিনিয়তই কোম্পানিগুলোতে ব্যবসা ও মার্কেটিং খাতে বিভিন্ন ধরণের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে মার্কেটার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্ভে রিসার্চার, মার্কেট রিসার্চার, এসইও স্পেশালিস্ট, মার্কেটিং ম্যানেজার, মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিভ ইত্যাদি অন্যতম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পরী

কীভাবে একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন