Source: https://weylin.com/illuminati-truth-myth-politics-entertainment/
in

ইলুমিনাতি বা দ্যা ইলিউমিনাটিঃ বিশ্ব যাদের নিয়ন্ত্রণে

গুপ্ত কোনো সংগঠন বা গুপ কোনো তথ্যের সন্ধান পেলেই আমাদের আগ্রহ উপচে পড়ে। যেমনঃ স্কাল এন্ড বোনস সোসাইটি, ইলুমিনাতি, কার্বোনারি, কু ক্লাস ক্লান, প্রায়োরি অফ সায়ন ইত্যাদির মতো গোপন সংগঠনগুলোর নাম অনেকেই শুনেছেন এবং এসব নিয়ে অনেক মানুষেরই আগ্রহের কমতি নেই। আসলে কারা এরা? আসলে এদের কাজটাই বা কি? এরা কি শয়তানের পূজা করে? নাকি এরা অন্য কোনো ধর্মের? বাংলাদেশেও কি এসব সংগঠনের প্রভাব রয়েছে?

এতসব প্রশ্নের ভিড়ে আমি নিজেও পড়তে চাই না। এই আর্টিকেলটি আমি লিখতাম না। লেখার আগ্রহ এসেছে শুধুমাত্র একটা ভিডিও দেখার পরে। ভিডিওর লিংকটি আমি এই আর্টিকেলের শেষে দিয়ে দিবো। সেটা দেখলে বুঝতে পারবেন যে, কীভাবে সিক্রেট একটা অর্গানাইজেশনের সাথে ধর্ম মিলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি বা আপনি যে ধর্মেরই হই না কেনো, আমি কোনো ধর্ম নিয়েই না জেনে কথা বলতে পছন্দ করি না। হোক না সেটা ইয়াজিদিজম কিংবা স্যাটানিজম অথবা জোরোঅ্যাস্ট্রিয়ান। যেকোনো বিষয় সম্পর্কে বলার আগে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে সেটা আসলে কি আর এর মূল অবস্থাটা কোথায়!

যাই হোক, এতগুলো সিক্রেট অর্গানাইজেশন নিয়ে আমি একটা আর্টিকেলে লিখতে পারবো না। তাই আজকে আলোচনা করা যাক সবচেয়ে বেশি আলোচিত সিক্রেট অর্গানাইজেশন ‘ইলুমিনাতি’ নিয়ে। ইলুমিনাতিতে আপনি যেই নামে ইচ্ছা সেই নামেই ডাকতে পারেন। ইলুমিনাতি বা দ্যা ইলিউমিনাটি! যেটা ইচ্ছা ডাকতে পারেন। চলুন তাহলে ইলুমিনাতির চৌদ্দগুষ্ঠি সম্পর্কে জানা যাক। আশা করবো কমেন্টে আপনার মতামত দেবেন আর প্রশ্ন করবেন।

ইলুমিনাতি নামটার সাথে বর্তমানে প্রায় সবাই পরিচিত। কোনো কিছু হলেই সেখানে ইলুমিনাতির গন্ধ পাওয়া শুরু করে সবাই। ইলুমিনাতি সম্পর্কে জানতে হলে যেতে হবে আরো গভীরে। চলুন ঘুরে আসা যাক এই সিক্রেট অর্গানাইজেশনের ভেতর থেকে।

জার্মানির দক্ষিণপূর্ব রাজ্য ব্যাভারিয়াকে জার্মানির বৃহত্তম রাজ্য (যার রাজধানী মিউনিখ) বলা হয়। সেখান থেকেই ঘটনার শুরু। সেখানের ইঙ্গলস্ট্যাড ইউনিভার্সিটির খ্রিস্টীয় আইন ও ব্যবহারিক দর্শনবিদ্যার প্রফেসর ছিলেন অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট [Adam Weishaupt]। ইউনিভার্সিটি তখন সবাই খ্রিস্টীয় আইনকানুন মেনে চলে, যেটাকে জেসুইট বলে। এই সময়টায় যে খ্রিস্ট ধর্মের নয় বা খ্রিস্টধর্মের প্রতি যার আগ্রহ কম বা আনুগত্য নেই তাকেই সমস্যায় পড়তে হতো। অ্যাডাম ভাবলে এদের জ্ঞান দান করা উচিত, সঠিক জ্ঞানের দিকে এদের নিয়ে যাওয়া উচিৎ। তাই তিনি একটি গুপ্ত সংঘ করার প্ল্যান করলেন, যেখান থাকবেন সবচেয়ে উচ্চ পদের ও জ্ঞানী মাথারা।

তখন আরেকটা গুপ্ত সংঘ ফ্রিম্যাসনারির প্রভাব ছিলো। অ্যাডাম ফ্রিম্যাসনদের সাথে যোগ দিতে চাইলেন না কারণ তিনি দেখলেন ফ্রিম্যাসেনদের সাথে কাজ করাটা খরচের ব্যাপার এবং একইসাথে তাদের কাজের সিস্টেম ও ধ্যান ধারণা অ্যাডামের সাথে যায় না। প্রথমে তিনি তার সংঘের নাম রাখলেন “Bund der Perfektibilisten”, or “Covenant of Perfectibility”; কিন্তু এই অদ্ভুত আর কঠিন নাম শেষমেশ তার নিজেরই পছন্দ হলো না।

যাই হোক! ১৭৭৬ সালের মে মাসের ১ তারিখে অ্যাডাম আর তার চারজন ছাত্র মিলে এই সংঘ শুরু করলেন। আর সংঘের প্রতীক হলো গ্রিক জ্ঞানদেবী মিনারভার পেঁচা। অ্যাডাম ভাবলেন প্রত্যেক সদস্যদের জন্য ছদ্মনামের ব্যবস্থা করা উচিৎ। অ্যাডামের নিজের নাম হলো স্পার্টাকাস। তার ছাত্র Massenhausen এর নাম হলো অ্যাজাক্স, Merz এর নাম হলো অ্যাগাথন আর Sutor এর নাম হলো ইরাসমাস রোটারোডেইমাস। যদিও Sutor-কে পরে তার অলসতার জন্য বহিষ্কার করা হয়।

১৭৭৮ সালের এপ্রিল মাসে সংঘের নাম রাখা হলো ইলুমিনাতি। যার মূল অর্থ হচ্ছে “যারা কোনো বিষয়ে বিশেষ ভাবে আলোকিত বা জ্ঞানার্জনের দাবী করে”। সে সময় সংঘের সদস্য ছিল ১২। খুব দ্রুতই কয়েক মাসেই সংঘের সদস্য সংখ্যা ২৭ জনে পৌছালো।

কারা এই ইলুমিনাতির সদস্য হতে পারতো? সেই সংঘের সদস্য হতে হলে, আপনার মাঝে কয়েকটা বিশেষ গুণ থাকতে হবে। সেগুলো হচ্ছে, (১) সচ্চরিত্র খ্রিস্টান হতে হবে (২) সকল প্রকার ইহুদী নিষিদ্ধ (৩) মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ (৪) নারী, ধর্মগুরু এবং অন্য সিক্রেট সোসাইটির সদস্যরাও নিষিদ্ধ (৫) ধনী, শিক্ষানবিশ আর ১৮-৩০ বছরের তরুণরা স্বাদরে আমন্ত্রিত ছিলো। ধীরে ধীরে ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগল ইলুমিনাতির শাখা।

১৭৮২ সালের দিকে ইলুমিনাতিকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। ক্লাস-১ হলো যারা নতুন যোগ দিয়েছে। ক্লাস-২ হলো একটু উচ্চ পর্যায়ের যারা। আর ক্লাস-৩ হলো সবচেয়ে গোপনীয় জ্ঞানের অধিকারী যারা।

১৭৮৪ সালের শেষের দিকে,ইলুমিনাতির মোট সদস্য হয়ে যায় ৬৫০ (মতান্তরে আড়াই হাজার)! কিন্তু অ্যাডাম চেয়েছিলেন ইলুমিনাতিকে একেবারে গোপন রাখতে যাতে রসিক্রুসিয়ানরা না জানে। রসিক্রুসিয়ান হলো আরেক গুপ্তসঙ্ঘ এবং এদের কার্যক্রম ইলুমিনাতির সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ ইলুমিনাতি বিশ্বাস করত সেকুলারিজমে আর রসিক্রুসিয়ানদের বিশ্বাস আর কর্ম ছিল জাদুবিদ্যা নিয়ে। যদিও এই নিয়ে অনেক মত রয়েছে।

ইলুমিনাতির রিক্রুটিং প্রসেস কি ছিলো? ইলুমিনাতিতে রিক্রুট করা হতো একেবারে নীরবে আর গোপনে। প্রায় ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের মাধ্যমেই। কিন্তু তারপরেও রসিক্রুসিয়ানরা জেনে গেলো। ফলাফলস্বরূপ ইলুমিনাতি নাকি একটি নাস্তিক সংঘ আর সেটা তারা রটিয়ে দিলো পুরো ইউরোপে। আর তার জন্যে ধর্মহীন এই ইলুমিনাতির বিরুদ্ধে জোর গণমত গড়ে উঠল।

আর এদিকে ব্যাভারিয়ার শাসক চার্লস থিওডোর পুরোই ভয় পেয়ে গেলেন। তার সরকার
১৭৮৫ সালের ২ মার্চে সকল গুপ্ত সংঘ নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। অ্যাডাম পালিয়ে গেলেন আর ইলুমিনাতির প্রচুর নথিপত্র সরকারের হাতে এসে গেল এবং দু’বছর বাদে সরকার সেটা প্রকাশও করে দিল। এরপর ইলুমিনাতির ইতিহাস সম্পর্কে একেকজনের একেকধরনের মতামত পাওয়া যায়। যার ফলে সত্য ঘটনা খুব কাম মানুষই জানতো।

১৭৯৮ সালের কিছু আগে জন রবিসন Proofs of a Conspiracy নামে একটি বই লিখেন যেখানে দাবি করা হয় ইলুমিনাতি এখনও বেঁচে আছে। একই বিষয় নিয়ে আরেকটা বই লেখা হয় যেখানেও একই দাবি করা হয়। দুটো বই প্রচুর বিক্রি হয়। বইতে বলা হয় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগের সেই ফ্রেঞ্চ  বিপ্লবের পেছনের কলকাঠি নাকি আসলে ইলুমিনাতিই নেড়েছে। উল্লেখ্য যে, এখানে ‘নাকি’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ হচ্ছে, এর সত্যতা সম্পর্কে জানা যায় নি।

এ বই দুটো শেষমেষ আমেরিকাতেও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়। সেখানে রেভারেন্ড মোর্স ও অন্যান্যরা প্রতিবাদ করলেন ইলুমিনাতির বিরুদ্ধে। কিন্তু এই হুজুগ কমে গেল ১৮০০ সালের পর পর। মাঝে মাঝে অবশ্য মেসন-বিরোধী আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠত বটে। বর্তমান কালে অবশ্য নানা সংঘই ইলুমিনাতি নাম দিয়ে নিজেদের দাবি করে যে তারাই সত্যিকারের ব্যাভারিয়ান ইলুমিনাতি। তবে তারা কেন যেন আবার গোপনীয়তার ধার ধারে না, যেটা আসলে প্রমাণ করে তারা আসল ইলুমিনাতি নয়। এমনকি তারা নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আছে বলেও প্রচার করেঃ


বর্তমানে আমেরিকান এক ডলার নোটে গ্রেট সিল দেখা যায়, সেখানে পিরামিডের উপর এক চোখ দেখা যায় যার নাম “Eye of Providence” বা “all-seeing eye of God”।

আরো লিখা আছে লাতিনে E pluribus unum (অর্থ ‘Out of many, one’) ও Novus ordo seclorum (যার মানে New order of the ages)। ইলুমিনাতি তত্ত্ববিশ্বাসীগণ মনে করেন, এই এক চোখ প্রমাণ করে আমেরিকা ইলুমিনাতির দখলে আছে। পিরামিডের নিচে লেখা আছে MDCCLXXVI যা মূলত রোমান সংখ্যায় ১৭৭৬। অবাক কাণ্ড, ইলুমিনাতিও ১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত! [অবশ্য, ১৭৭৬ ওখানে লিখা কারণ, ১৭৭৬ সালে আমেরিকা স্বাধীনতা অর্জন করে।]

নিচে যে ভিডিও দেয়া হয়েছে এই অল সিয়িং আই বা আই অফ প্রভিডিয়েন্স মূলত শয়তানের চিহ্ন। কোনটা শয়তানের চিহ্ন বা কোনটা আসলেই স্যাটানিজম সেটা নিয়ে পরে বলছি। তার আগে জানা দরকার আসলে এই চোখের চিহ্ন কোন ধর্মের বা কিসের?

ইজিপশিয়ান অ্যান্সায়েন্ট গড হোরাসের প্রতীক হচ্ছে একটা চোখ। যেটাকে বলা হয় ‘আই অফ প্রটেকশন বা আই অফ হোরাস’। অনেকেই এই চোখের প্রতীকটি নিজেকে রক্ষার জন্য ট্যাটু হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। কিংবা অনেক বাসাতেই দেখবেন এই ‘আই অফ হোরাসে’র ব্যবহার করা হয়। ব্ল্যাক

ম্যাজিশিয়ানরা এই আই অফ প্রটেকশনকে নিজেদের খারাপ ডেমন থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহার করে থাকে।

যারা ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আমার লেখা আর্টিকেলগুলো পড়েন নি তারা এখান থেকে পড়তে পারবেন।

একইভাবে, খ্রিস্টানদের এই আই অফ প্রভিডিয়েন্স বা আই অফ গডের চিহ্নটি মূলত তাদের বিশ্বাস, তাদের ঈশ্বর ‘যেহোভা’ বা ‘ওয়াই এইচ ভি এইচ’ (খ্রিস্টান ধর্মে ঈশ্বরের নাম নেয়া নিষেধ!) চোখ। যেটা পিরামিডের উপর বসিয়ে দেয়া হয়েছে যার মানে দাঁড়ায়, ‘তিনি আমাদের দেখছেন’।

ইলুমিনাতি শুরু থেকেই খ্রিস্টান ধর্মের একটি অংশ হয়ে এসেছে। এর সাথে যে স্যাটানিজমের কোনো কানেকশন নেই। কীভাবে? পড়তে থাকুন।

স্যাটানিজমের সাথে এর সংযুক্ততা সম্পর্কে জানার আগে আপনাদের ইলুমিনাতির আরো কিছু কিছু তথ্য জানা জরুরী। সেই যে বই দুটো দাবি করেছিল ইলুমিনাতি বেঁচে আছে, শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সে মতবাদ কিন্তু রয়েই যায়। এক নজরে দেখে নেয়া যাক কী কী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত আছে ইলুমিনাতির নামে –

  • প্রচুর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে, শক্তিমান সিক্রেট সোসাইটি ইলুমিনাতি মূলত এ বিশ্বের সকল প্রধান ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের সূচনাও ইলুমাতির হাতেই।
  • নেপোলিয়নের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে ইলুমিনাতিই।
  • আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কেনেডির গুপ্তহত্যা আসলে ইলুমিনাতিই করিয়েছে, কারণ তিনি বাধা দিচ্ছিলেন তাদের কাজে।
  • “নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার” ত্বরান্বিত করা। এই অর্ডারের মাধ্যমে সারা বিশ্ব থাকবে ইলুমিনাতির হাতের মুঠোয়। ১৯৯১ সালে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের কথা প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র তার ভাষণে উল্লেখ করবার পর এই তত্ত্ব তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।
  • হলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ইলুমিনাতির দখলে। এর মাধ্যমে ইলুমিনাতি আপনার অবচেতন মনে তাদের বিশ্বাসগুলো ঢুকিয়ে দিচ্ছে, কিংবা আপনাকে ব্রেইনওয়াশ করছে।
  • শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করে ইলুমিনাতি। খ্রিস্টান ও মুসলিম ষড়যন্ত্র তত্ত্বমতে, ইলুমিনাতির এক চোখা প্রতীক প্রমাণ করে যে, ইলুমিনাতি হলো সেই সংঘ যারা একচোখা দাজ্জাল (কিংবা বাইবেল মতে ৬৬৬ বা অ্যান্টিক্রাইস্ট) এর আগমনের পথ সুগম করছে।
  • বলা হয়, এই ব্যক্তিরাও ইলুমিনাতির সদস্যঃ বারাক ওবামা, পোপ, রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, জর্জ ডব্লিউ বুশ, কানিয়ে ওয়েস্ট, বব ডিলান, রিহান্না, বিয়ন্সে, লেডি গাগা, জিম ক্যারি, ম্যাডোনা প্রমুখ।
  • বব মার্লে, কেনেডি, মাইকেল জ্যাকসন, হিথ লেজার- এদেরকে স্যাক্রিফাইস হিসেবে উৎসর্গ করে ইলুমিনাতি।
  • সারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণকারী Bilderberg Group এর সাথে ইলুমিনাতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
  • ডিজনি কার্টুনের মাধ্যমে ইলুমিনাতি শিশুমনে ইলুমিনাতির বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতে চায়।
  • ইলুমিনাতির বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে একটি ইউএফও ক্র্যাশ করানো হয় আমেরিকার রজওয়েলে, সেখান থেকে চারজন এলিয়েনকে উদ্ধার করা হয়। আমেরিকান মিলিটারির সহায়তায় তারা ব্ল্যাকমেইল করে তাদেরকে বাধ্য করে এলিয়েন প্রযুক্তি বিনিময় করতে। তাছাড়াও কিছু আকার পরিবর্তনে সক্ষম রেপ্টিলিয়ান এলিয়েন দ্বারা তারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বদল করেছে, যেন তাদের মতই দেখতে এলিয়েনরা কাজ চালিয়ে যায়, যেমন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ একজন রেপ্টিলিয়ান এলিয়েন। তাছাড়া উন্নত ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে আসল ব্যক্তিদের হুবহু ক্লোন বসিয়ে দিয়ে পুরো বিশ্বের দখল নিয়ে নিচ্ছে ইলুমিনাতি।

তো, এত্তসব ষড়যন্ত্রের পেছনে দাড় করানো হয় ইলুমিনাতিকে। উপরের শুধুমাতে একটা তত্ত্ব নিয়েই আজকের এই আর্টিকেল আর সেটা হচ্ছে,

শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করে ইলুমিনাতি। খ্রিস্টান ও মুসলিম ষড়যন্ত্র তত্ত্বমতে, ইলুমিনাতির এক চোখা প্রতীক প্রমাণ করে যে, ইলুমিনাতি হলো সেই সংঘ যারা একচোখা দাজ্জাল (কিংবা বাইবেল মতে ৬৬৬ বা অ্যান্টিক্রাইস্ট) এর আগমনের পথ সুগম করছে।

তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল। ইলুমিনাতি মূলত খ্রিস্টিয়ান সংগঠন। এমনকি ইহুদীদের সাথেও এর কোনো সম্পৃক্ততা দেখা যায় না। কিন্তু ইলুমিনাতিদের সাথে সম্পূর্নরূপে শুধুমাত্র তাদেরই দেখা যায় যারা খ্রিস্টান। অনেক ব্যক্তি এমনকি হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যারা খ্রিস্টান বা ক্যাথলিক তাদের মাঝেই কিন্তু এই ইলুমিনাতির প্রভাব দেখা যায়। মুসলমান কিংবা ইহুদী কেউ ইলুমিনাতিতে সংযুক্ত সে সম্পর্কে তথ্য খুবই কম।

ইলুমিনাতির সাইন সম্পূর্নভাবে খ্রিস্টানদের সাথেই যুক্ত। তাদেরই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, আপনি যদি শুধুমাত্র চিহ্ন দেখে বিচার করতে চান তাহলে এক বাক্যে আপনাকে স্বীকার করতে হবে যে, ইলুমিনাতি মূলত খ্রিস্টানীয় একটি সংস্থা। ইলুমিনাতির অরিজিনাল লোগো যদিও গ্রীক দেবীর পেঁচার কিন্তু ধীরে ধীরে তারা আই অফ প্রভিডিয়েন্সের সাইন ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

এখন বলা যাক শয়তানের উপাসনা কেনো তারা করে না সে সম্পর্কে। স্যাটানিজম একটি নির্দিষ্ট এবং অনেক পার্টিকুলার একটা ধর্ম। অন্যান্য ধর্ম থেকে একটা আলাদা কারণ অন্য সব ধর্মে যে কিনা অসুর বা দৈত্য বা শয়তান, এই স্যাটানিজম ধর্মে তিনিই হচ্ছেন ঈশ্বর, এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। অন্য ধর্মে যেটা স্বর্গ, স্যাটানিজমে সেটা হচ্ছে নরক আর অন্য ধর্মের নরক হচ্ছে, স্যাটানিস্টদের স্বর্গ।

স্যাটানিজমে মূলত অনেকগুলো পার্ট রয়েছে। ইসলাম, খ্রিস্টান এবং হিন্দুদের মতো। ইসলাম ধর্মে যেমন কেউ শিয়া মুসলিম, কেউ সুন্নী মুসলিম, কেউ কাদিয়ানী মুসলিম একইভাবে খ্রিস্টান ধর্মে যেমন কেউ ক্যাথলিক আবার কেউ ট্রিনিটিয়ান খ্রিস্টান তেমনি স্যাটানিজমের রয়েছে তিনটি পার্ট। স্পিরিচুয়াল স্যাটানিস্ট, এথিস্টিক স্যাটানিস্ট এবং ল্যাভিয়ান স্যাটানিস্ট।

স্পিরিচুয়াল স্যাটানিস্টরাই মূলত অরিজিনাল স্যাটানিজমের সাথে যুক্ত, যাদের পবিত্র বই আল জিলওয়াহ বা দ্যা ব্ল্যাক বুক অফ স্যাটানের চ্যাপ্টার চারে বলা হয়েছে,

O yea that have believed in me, honor my symbol and my image, for they remind you of me.

ল্যাভিয়ান স্যাটানিজমের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন অ্যান্টন জেন্ডর ল্যাভি, যিনি নিজেকে স্যাটানিস্টদের ফাদার হিসেবে দাবী করেন ও তিনি নিজের লেখা বই ‘স্যা স্যাটানিক বাইবেল’কে স্যাটানিজমের বাইবেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাম পাশে ল্যাভিয়ান স্যাটানিস্টদের সাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এখন অরিজিনাল স্যাটানিজমে বা স্পিরিচুয়াল স্যাটানিজমে কোন সাইনের কথা বলা হয়েছে? কোন সাইনের কথা আসলে উল্লেখ করা হয়েছে?

ডান পাশে অরিজিনাল স্যাটানিস্টদের সাইন বর্ননা করা হয়েছে যেখানে আপনি দেখতে পাবেন যে, ইলুমিনাতি বা ল্যাভিয়ান স্যাটানিস্টদের সাথে কোনো মিল নেই। এছাড়াও আরো অনেক কারন ও যুক্তি রয়েছে যেগুলো বর্ণনা করলে এই আর্টিকেল আর শেষ হবে না। আর তাই স্যাটানিজমের সাথে ইলুমিনাতির সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা করবেন না। আর ভুল স্যাটানিজমের বর্ণনা দিয়ে ইলুমিনাতির সম্পর্কে দেয়াটা উচিত নয়।

হ্যা, ইলুমিনাতি হয়তো ব্ল্যাক ম্যাজিক করছে কিন্তু সব ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ানরা কিন্তু স্যাটানিস্ট নয়। সেটাও আপনাকে বুঝতে হবে। ব্ল্যাক ম্যাজিক সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে আমার অন্য আর্টিকেলগুলো আপনাকে পড়তে হবে।

যারা ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আমার লেখা আর্টিকেলগুলো পড়েন নি তারা এখান থেকে পড়তে পারবেন।

একইভাবে, ইলুমিনাতি শুধুমাত্র একটি সিক্রেট সংস্থাই। এক্ষেত্রে হলিউড বা বলিউড কিংবা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেও হয়তো ইলুমিনাতির প্রভাব বিস্তার হচ্ছে বা হয়েছে কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এটা স্যাটানিজমের সাথে যুক্ত।

আমার মূল পয়েন্ট যদি বুঝতে পারেন তাহলে এই হাজার হাজার শব্দ লেখা সার্থক হলো। যদি কেউ এখনো কোনো বিষয় সম্পর্কে না বুঝে থাকেন তাহলে কমেন্ট করতে পারেন।

সোর্সঃ

১। https://www.ancient-forums.com

২। https://www.youtube.com/watch?v=UDfgeOAbyv0

৩। https://roar.media

৪। Richard van Dülmen, The Society of Enlightenment (Polity Press 1992) p. 110

৫। Introvigne, Massimo (2005). “Angels & Demons from the Book to the Movie FAQ – Do the Illuminati Really Exist?”. Center for Studies on New Religions. Archived from the original on 28 January 2011. Retrieved 27 January 2011.

৬। McKeown, Trevor W. (16 February 2009). “A Bavarian Illuminati Primer”. Grand Lodge of British Columbia and Yukon A.F. & A.M. Archived from the original on 28 January 2011. Retrieved 27 January 2011.

৭। The Illuminati: Facts & Fiction Paperback – Print, April 13, 2009 by Mark Dice

৮। Inside the Illuminati: Evidence, Objectives, and Methods of Operation Paperback – October 31, 2014 by Mark Dice

৯। https://blog.bdnews24.com/

১০। https://moviepilot.com/

8 Comments

Leave a Reply
  1. আসলে ভাই ইলুমিনাতি আছে কিনা সেই বিষয়েই আমার সন্দেহে আছে।
    আপনার কি মনে হয় ইলুমিনাতি আছে?
    0

  2. I’m commenting to let you be aware of what a extraordinary discovery my friend’s princess obtained browsing your webblog. She figured out a good number of details, not to mention how it is like to possess an ideal helping nature to have most people without difficulty understand various tortuous topics. You really did more than our own desires. Thank you for imparting such interesting, safe, educational and as well as cool tips on that topic to Julie.

  3. I wish to show my appreciation to you for rescuing me from this situation. Because of exploring through the internet and meeting suggestions which were not beneficial, I believed my life was gone. Living devoid of the strategies to the issues you have solved by way of the review is a critical case, as well as those that could have negatively damaged my career if I had not encountered your web blog. Your own personal mastery and kindness in controlling every item was tremendous. I am not sure what I would’ve done if I hadn’t come upon such a solution like this. I’m able to now relish my future. Thanks a lot so much for the professional and effective help. I won’t think twice to refer your web page to any person who needs tips on this subject matter.

  4. I would like to express my thanks to the writer just for bailing me out of this condition. Right after checking through the the web and coming across suggestions that were not productive, I assumed my life was gone. Existing minus the strategies to the issues you have fixed by means of the blog post is a crucial case, and ones which may have negatively damaged my entire career if I had not come across your website. That talents and kindness in dealing with all areas was helpful. I’m not sure what I would have done if I had not encountered such a point like this. It’s possible to at this time look forward to my future. Thank you very much for this professional and sensible help. I will not hesitate to propose your site to any individual who needs to have care about this topic.

  5. I actually wanted to jot down a simple comment so as to thank you for all the awesome points you are giving out at this website. My time intensive internet lookup has now been honored with professional information to talk about with my contacts. I ‘d tell you that many of us visitors actually are very blessed to live in a superb community with many special professionals with insightful plans. I feel somewhat fortunate to have seen your entire website and look forward to really more fabulous moments reading here. Thank you once more for a lot of things.

  6. I not to mention my friends were found to be viewing the good tactics from your web site and all of a sudden developed a horrible suspicion I had not thanked the blog owner for those techniques. My boys were for that reason excited to see all of them and already have extremely been making the most of these things. Thank you for turning out to be well thoughtful and then for figuring out these kinds of superb useful guides millions of individuals are really desperate to understand about. My personal honest regret for not saying thanks to you sooner.

  7. I’m also writing to make you understand of the fabulous experience my cousin’s girl experienced checking your web site. She mastered so many details, not to mention what it’s like to possess a wonderful teaching mood to have other folks clearly understand several complex topics. You actually did more than visitors’ expected results. Many thanks for showing these insightful, safe, informative and fun tips on this topic to Gloria.

2 Pings & Trackbacks

  1. Pingback:

  2. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়ুন

সামরিক খাতে আইটি ক্যারিয়ার গড়ুন