Source: https://www.pinterest.com
in ,

টেলোফোবিয়াঃ সাইকোলজিক্যাল ফোবিয়া

এক ভাই বলেছিলেন একটা ফোবিয়া নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু আমি সময়ের কারণে লিখতে পারি নি। আজকে লিখছি!

ফোবিয়াটা হচ্ছে, ‘টেলোফোবিয়া বা অ্যাটেলোফোবিয়া’। অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উচ্চারণ করেন।

সাইকোলজি অনুসারে টেলোফোবিয়া হচ্ছে ‘কোন কিছু ঠিকমতো করতে পারছি না’ কিংবা ‘আমি ততটা ভালো নই’ টাইপের ভয়। অর্থাৎ, এই ফোবিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তি মূলত পার্ফেক্ট না হতে পেরে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকেন, ঠিকমতো কোনো কিছু না করতে পারা ভয়ে থাকেন, কোনো কিছু সঠিক হলেও সেটাকে সঠিক মনে করেন না!

টেলোফোবিয়া মূলত গ্রীক শব্দ টেলো – যার অর্থ ইমপারেফেক্ট ও ফোবিয়া – যার মানে হচ্ছে ভয় থেকে এসেছে। সুতরাং, টেলোফোবিয়া বা অ্যাটেলোফোবিয়া হচ্ছে পারফেক্ট না হওয়ার ভয়!

এই রোগ্রাক্রান্ত ব্যক্তি সবসময়েই ভেবে থাকেন যে, তিনি যা করছেন তা ঠিক নয়। এই কাজগুলো কেউ এক্সেপট করবে না। এই কাজটা আরো ভালোভাবে করা যেতো। এমনকি তাদের অবস্থা এতটাই খারাপ হতে শুরু করে যে, তারা কাউকে ফোন করতে গেলে ভাবে, এটা উচিত হবে না। তারা কারো সাথে কথা বলতে গেলে ভাবে, তারা পারফেক্ট নয়। তারা খেতে গেলে ভাবে, এটা খাওয়া উচিত হবে না।
একদিক থেকে দেখলে বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু এই রোগে কিছুটা হলেও ভোগে থাকে।

টেলোফোবিয়া ধীরে ধীরে আপনার সেলফ এস্টিম হ্রাস করতে শুরু করে। আপনার কনফিডেন্স কমাতে শুরু করে। আপনার ধৈর্য নষ্ট হতে শুরু হয়। ধীরে ধীরে আপনার চিন্তাভাবনাওগুলো জট লাগতে শুরু করে। তারপর আপনার এই চিন্তাভাবনা একসময় ফ্রোনমোফোবিয়ার (চিন্তাভাবনা করার ভয়) দিকে রুপ নেয়। একসময় আপনি প্যারালাইজডও হয়ে যেতে পারেন।

টেলোফোবিয়া ভিন্ন ভিন্ন কারণে হতে পারে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সমস্যা, ভয়, আত্মবিশ্বাস না থাকা, দুশ্চিন্তা করা, নিজেকে ক্ষমতাহীন ভাবাসহ জন্মগত কারণেও হতে পারে।

কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবেন? কীভাবে টেলোফোবিয়া থেকে রক্ষা পাবেন?

এক্সপোসার থেরাপির মাধ্যমেঃ এই সিস্টেমে আপনার সমস্যাটিকে আপনি ফেস করুন। যখন ভাবছেন যে এই কাজটি পারফেক্ট হয় নি, তখন এটাকে এভাবেই সাবমিট করুন বা রেখে দিন। পারফেক্ট হয় নি ভাবলেও, হাজারবার এটাকে নতুন করে করতে ইচ্ছে করলেও এটাকে এভাবেই রেখে দিন!

সিবিটি বা কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপির মাধ্যমঃ এটা নিয়ে আগেও কথা হয়েছিলো আর আমিও বলেছিলাম এটার মেথডগুলো নিয়ে পরে বলবো! আজকেও এটা নিয়ে কথা বলছি না। পরে বলবো!

ফোবিয়া কেনো হয় জানেন? কোনো কিছুকে ফেস না করার জন্য। কিংবা কোনো বিশেষ ঘটনা অতীতে ঘটে থাকে, সেজন্যে। 
ফোবিয়া কিন্তু ততটা মারাত্মক না যতটা আমরা ভাবি। কিন্তু যদি ঠিকমতো ট্রিগার পড়তে পারে, তাহলে ফোবিয়ার কারণে আপনার কোমা থেকে শুরু করে, প্যারালাইজড হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।

[এই পোস্টটি সর্বপ্রথম আমার ফেসবুক প্রোফাইলে দেয়া হয়েছে!]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সেরা সাত টাইপিং জব

টেস্টার ওয়ার্ক – অ্যাপ টেস্ট করে আয় করুন