Source: http://rigatalk.com/2016/11/latvia-startup-law-approved-by-parliament/
in

স্টার্টআপ তৈরি করার পূর্বে ব্যবসা সংক্রান্ত যে ১০ টি পরিভাষা জানা জরুরি

আপনি যদি ব্যবসা জগতে নতুন পা রেখে থাকেন তাহলে হয়তো আপনার জানা নেই যে, ব্যবসা সংক্রান্ত কত ধরনের পরিভাষা ব্যবসা জগতে বিদ্যমান। ব্যবসা জগতের এই পরিভাষাগুলো মিলেই নতুন একটি বিদেশি ভাষা তৈরি করা সম্ভব। সুতরাং, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি মার্ক কিউবানের মতো সফল হয়েছেন কিংবা মার্ক  জাকারবার্গের মতো উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি ব্যবসা সংক্রান্ত এই পরিভাষাগুলো শিখতে থাকুন।

ব্যবসা সংক্রান্ত হাজার হাজার পরিভাষার মধ্যে, আজকে আমরা জানবো এমন ১০ টি পরিভাষা সম্পর্কে, যেগুলো মূলত যেকোনো ব্যবসা কিংবা স্টার্টআপের শুরুতেই অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।

সিপিএ (CPA – Cost Per Acquisition)

সিপিএ (CPA) এমন একটি মার্কেটিং পদ্ধতি যেখানে রেজিস্ট্রেশন, ই-মেইল সাবমিট, সার্ভে, পিন সাবমিট, ডাউনলোডসহ কিছু কাজের মাধ্যমে সেবা বা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্ভাব্য ক্রেতার সংযোগ ঘটিয়ে মার্কেটাররা কমিশন পেয়ে থাকেন।  বিশ্বব্যাপী সেরা সিপিএ মার্কেট প্লেসগুলো হচ্ছে, ম্যাক্স বাউন্টি (MaxBounty), পিয়ার ফ্লাই (PeerFly), ক্লিক বুথ (Clickbooth), ক্লিক ডিলার (clickdealer), মুন্ডু মিডিয়া (Mundomedia), সিপিএ লিড (CPAlead), সিপিএ গ্রিপ (CPA grip),  সিপিএ ফুল (CPAfull), এডওয়ার্ক মিডিয়া (AdWork Media) ইত্যাদি।

আরওআই (ROI – Return on Investment)

আপনার যেকোনো একটি পণ্যের দাম এমনভাবে ঠিক করবেন, যাতে আপনি পণ্যটিকে বর্তমান বাজারের থেকে কম দামে বিক্রি করতে পারেন এবং খেয়াল রাখতে হবে, যাতে আপনার পণ্যের বিনিয়োগ যেন ফেরত আসে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’। বাজার বিবেচনা সাপেক্ষে  প্রতিটি পণ্যের ওপর আপনি কত শতাংশ মূল্যহ্রাস দিতে পারবেন, তা আপনাকে পণ্য কেনার পূর্বে হিসাব করতে হবে।

যেসব পণ্যের চাহিদা ভালো, কিন্তু স্থানীয় প্রাপ্যতা কম, এ ধরনের পণ্য রাখতে পারেন। তাহলে বিক্রির সম্ভাবনা বেশি থাকবে।বিশ্বব‍্যাপী বিনিয়োগের যত ধরনের সুযোগ আছে, তার মধ্যে অ‍্যাফিলিয়েট সাইটে ইনভেস্টমেন্ট করলে সবচেয়ে বেশি মুনাফা হয়। রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে সবচেয়ে লুক্রেটিভ ইনভেস্টমেন্ট অপশন।

কেপিআই (KPI – Key Performance Indicator)

লক্ষ্যমাত্রার অর্জনের মূল্যায়ন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে কেপিআই বা কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর। প্রতিটি লক্ষ্যের জন্য, একটি ডেডিকেটেড কেপিআই থাকবে যা কাজ শুরু করার পূর্বে সেট করা হবে। কার্যনির্বাহী সময়ের শেষে, পরিচালনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি করছে কিনা তা স্থির করতে পারে, কেপিআই। প্রতিটি ব্যবসার শুরুতে কিছু নির্ধারিত উদ্দেশ্য সেট করা হয় সেটাকেই কেপিআই বলে।

বাংলাদেশ সরকারের অপারেশনস পরিদপ্তরের অন্যতম একটি শাখা হলো অপারেশন (কেপিআই) শাখা। সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে সশস্ত্র নিরাপত্তা সেবা প্রদানকল্পে অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েনের বিষয়ে যাবতীয় কার্যাদি এই শাখার দায়িত্বাধীন। এ শাখার দায়িত্বে রয়েছেন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

বিটুবি (B2B – Business to Business)

বিটুবি (B2B)  এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হচ্ছে, বিজনেস টু বিজনেস। বিটুবি পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একজন বিক্রেতা যেকোনো প্রোডাক্ট প্রাথমিকভাবে বিক্রি করেন একজন ক্রেতার কাছে, যিনি পরবর্তীতে সেই প্রোডাক্ট সরাসরি বিক্রি করেন সাধারণ ক্রেতাদের কাছে।

বিষয়টা হচ্ছে ঠিক এমন যে, একজন পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে আরেকজন ব্যবসায়ী কিছু প্রোডাক্ট কিনে আনলো এবং সবশেষে সেই প্রোডাক্টটি বিক্রির লক্ষ্য হচ্ছে একজন সাধারণ ক্রেতা। বিটুবি মডেলের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছেঃ আলিবাবা ডট কম। ছোট কিংবা মাঝারী ধরনের ব্যবসার প্রচারণার জন্য বিজনেস টু বিজনেস মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তা অনেক।

বিটুসি (B2C – Business to Consumer)

বিটুসি (B2C) – এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হচ্ছে বিজনেস টু কনজ্যুমার। বিটুসি পদ্ধতিতে কোনো প্রোডাক্ট সরাসরি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়। একজন ক্রেতা ইচ্ছে করলেই ওয়েবসাইটে তার পছন্দের প্রোডাক্টটি অনলাইনে দেখতে পারেন। প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মডেলের প্রোডাক্টের ছবি ও বৈশিষ্ট্য ওয়েবসাইটে দেয়া থাকে।

একজন ক্রেতা সেই প্রোডাক্ট দেখে কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং অনলাইনে সেই ওয়েবসাইটে সেই প্রোডাক্ট অর্ডার করতে পারবে। ওয়েবসাইট থেকে একটা নোটিফিকেশন প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট বিষয়ক দায়িত্বরত ব্যক্তির কাছে যায়, ই-মেইল এর মাধ্যমে এবং সেই প্রোডাক্ট তখন ক্রেতার ঠিকানায় প্রেরণ করা হয় অর্থ পাবার পর। এ পদ্ধতিতে উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুচরা বিক্রি করে থাকে ক্রেতার নিকট। এই মডেলের অন্যতম উদাহরণ জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন ডট কম।

পিওএস (POS – Point of Sale)

পিওএস (POS) – এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হচ্ছে পয়েন্ট অফ সেল। পয়েন্ট অফ সেল বা পিওএস (POS) হচ্ছে এক ধরনের টার্মিনাল যা, ব্যাংকে, বিভিন্ন দোকানে, প্রতিষ্ঠানে, হোটেল বা রেস্টুরেন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল আদানপ্রদান করে থাকে। গ্রাহক ঐ সমস্ত স্থানে কেনাকাটা বা সার্ভিস গ্রহণ করে পিওএস টার্মিনালের মাধ্যমে বিল প্রদান করে থাকেন।

পিওএস টার্মিনালের মাধ্যমে বিল পরিশোধের জন্য গ্রাহক তার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডটি বিক্রেতার কাছে দেন। বিক্রেতা পিওএস টার্মিনালে ঐ কার্ডটি সোয়াইপ (Swipe) করে বা ইনসার্ট করে টাকার অংক টাইপ করে ‘এন্টার’ বাটন চাপলে ব্যাংকের সার্ভারে গ্রাহকের একাউন্ট ডেবিট হয়ে প্রাপকের একাউন্টে ঐ পরিমাণ টাকা ক্রেডিট হয়ে যায়।

ডেবিট কার্ড হলে গ্রাহক পিন দিয়ে লেনদেনটি সম্পন্ন করেন, আর ক্রেডিট কার্ড হলে তিনি একটি স্লিপে স্বাক্ষর করে তা অনুমোদন করেন। বিক্রেতা ঐ স্বাক্ষরটি কার্ডের পিছনে অবস্থিত গ্রাহকের স্বাক্ষরের সাথে মিলিয়ে নেন।

বাংলাদেশে ১৩,০০০ এর উপর পিওএস টার্মিনাল রয়েছে। দি সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক সহ প্রত্যেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পিওএস টার্মিনাল বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করেছে।

লেভারেজ (Leverage)

লেভারেজ বা মার্জিন এর সহজ অর্থ হচ্ছে লোন। সাধারণত ফরেক্স ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা হয়। লেভারেজ দ্বারা আপনার মূলধন এর উপর কত গুণ লোন আপনি ব্রোকার থেকে পাবেন ট্রেড করার জন্য সেটাকে বোঝায়। অর্থাৎ আপনার ছোট এমাউন্ট দিয়ে বড় পরিসরে ট্রেড করতে পারার সুবিধাই হল লেভারেজ।  একেক ব্রোকার একেক অনুপাতে লেভারেজ প্রদান করে থাকেন।

ফরেক্স মার্কেটে লেভারেজ এর ব্যবহার যেমন আপনার জন্য সুবিধাদায়ক তেমনি ক্ষতিকারকও। আপনি ১০০ ডলারের একাউন্টে ৫০০ ডলার লেভারেজ দিয়ে যেমন ৫০০ গুণ লাভ এর চিন্তা করলেন তেমনি এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, ট্রেড যদি আপনার প্রতিকূলে যায় তাহলে সেই পরিমাণ লসও আপনাকে বহন করতে হবে।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন, আপনার তো ৫০০ গুণ লস হওয়ার মত মূলধন নেই। হ্যাঁ ,আপনার লেভারেজ যাই থাকুক না কেন, ট্রেড আপনার প্রতিকূলে গিয়ে যখনই আপনার মূলধন পরিমাণ লস স্পর্শ করবে তখনি আপনার ট্রেড ক্লোজ হয়ে যাবে।  তাই ট্রেড করার পূর্বে চিন্তা করে নিন আপনার মূলধন কত এবং সেই অনুপাতে কত লেভারেজ নিলে আপনি নিরাপদে ট্রেড চালিয়ে যেতে পারবেন।

রোলওভার (Rollover)

রোলওভার হল কোন একটা পজিশন বা অর্ডার এর একদিনের বেশি মেয়াদকালে, পরবর্তী সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত লাভ। ফরেক্স মার্কেটে প্রতিটি মুদ্রা একটি নির্দিষ্ট ইন্টারেস্ট হারের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। আপনার ট্রেড গুলো শুধুমাত্র দুটি কারেন্সির মাধ্যমেই ঘটে না, বরঞ্চ এর ভেতর দুটি ভিন্ন ভিন্ন ইন্টারেস্ট রেটও কাজ করে। এ

ই ইন্টারেস্ট রেটে আপনাকে ইন্টারেস্ট দেওয়া বা নেওয়া হবে ৩৬৫ দিন হিসেবে, আপনার ট্রেডটি যতদিন রোলভার হবে ততদিনের জন্য। আপনি ইন্টারেস্ট লাভ করবেন যদি আপনি বেশি ইন্টেরেস্ট রেটের কারেন্সি ক্রয় করেন। আর আপনাকে ইন্টারেস্ট দিতে হবে যদি আপনি কম ইন্টেরেস্ট রেইট এর কারেন্সি ক্রয় করেন, এটাকে বলে বাই রোলওভার।

আপনি ইন্টারেস্ট লাভ করবেন, যদি আপনি বেশি ইন্টেরেস্ট রেটের কারেন্সি বিক্রয়  করেন। আর আপনাকে ইন্টারেস্ট দিতে হবে যদি আপনি কম ইন্টেরেস্ট রেটের কারেন্সি বিক্রয় করেন, এটাকে বলে সেল রোলওভার।

অ্যাডভারটাইজিং (Advertising)

অ্যাডভারটাইজিং এর সহজ অর্থ হচ্ছে বিজ্ঞাপন। আপনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে, একটি সিনেমা বা একটি অনুষ্ঠান দেখার সময় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন দেখবেন। এইগুলি হচ্ছে, পণ্য ও সেবার গুণমান সম্পর্কে শ্রোতাদের মনকে প্রভাবিত করার জন্য কোম্পানিগুলির দ্বারা গঠিত ছোট প্রোগ্রাম। প্রকৃতপক্ষে, কোম্পানি এই অনুষ্ঠান বা চলচ্চিত্রগুলি চলার সময় তাদের চলাচলে অনুমতি দেওয়ার জন্য টিভি চ্যানেলের সময় স্লটগুলি কিনে থাকে। উচ্চতর বিক্রেতার সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য ও যতো সম্ভব মানুষকে বার্তা পাঠানোর জন্য এটি করা হয়।

কেবল টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মতোই ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে নয়, বরং নগর ও শহরগুলিতে সুনির্দিষ্ট পয়েন্টগুলিতে স্থাপন করা ব্যানারের মাধ্যমেও এটি করা হয়, যাতে আরও বেশি লোক দেখতে পায় এবং একটি কোম্পানির পণ্য এবং সেবা সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়াও ম্যাগাজিনের ভিতরেও বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, যাতে এসব পত্রিকা পড়ে কোম্পানির পণ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

পাবলিক রিলেশন (Public Relations)

পাবলিক রিলেশনের সহজ অর্থ হচ্ছে জনসংযোগ। জনসম্পর্ক বা জনসংযোগ নামক গণমাধ্যমের ব্যবহারকে, জনগণের মধ্যে কোম্পানির বার্তা যোগাযোগের প্রক্রিয়া বলে। কোম্পানিগুলো জনসচেতনতা কর্মকর্তাদের দ্বারা কিছু প্রভাবশালী মিডিয়া কর্মীদের মধ্যে পরিচালনা করতে দেয়, যাতে তারা তাদের প্রকাশনাগুলিতে কোম্পানীর বার্তা বহন করতে সম্মত হয়। গণমাধ্যম, জনসাধারণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করার একমাত্র উপায় নয় কারণ এটি আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য নাও দিতে পারে। কমিউনিটি সেবায় অংশ নেওয়া জনসাধারণ, মিডিয়াগুলোর মনোযোগ আকর্ষণের আরেকটি উপায়।

উপরের এই পরিভাষাগুলো ছাড়াও আরো হাজার হাজার পরিভাষা আছে ব্যবসা জগতে। যেকোনো স্টার্টআপের শুরুতেই আপনাকে সেগুলো সম্পর্কে ভালো করে জানতে হবে।

2 Comments

Leave a Reply

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দ্যা রোওনটস কোডেক্স | The Rohonc Codex: Solve The Mystery

ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে সফল হওয়ার ১০টি টিপস