Source: https://www.nydailynews.com/
in , ,

ইন্টারনেটঃ নারীদের জন্য কতটা সেইফ?

প্লট একঃ মেয়ের জন্মদিনে বাবার পক্ষ থেকে গিফট হিসেবে মেয়েকে দেয়া হয়েছে আইফোন সেভেন!

প্লট দুইঃ বোনের জন্মদিনে বিদেশ থেকে ভাই গিফট হিসেবে দিয়েছেন স্যামসাং গ্যালাক্সি এস নাইন!

প্লট তিনঃ গার্লফ্রেন্ডের আবদার রাখতে গিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে তার বয়ফ্রেন্ড, কিনে দিয়েছেন শর্ট ড্রেস!

প্লট চারঃ মেয়ের জোরাজোরিতে, শেষ পর্যন্ত ঘরে ওয়াইফাই লাগানোর ব্যবস্থা করলেন মা!

প্লট পাঁচঃ বড় বোনের টিউশনের টাকা দিয়ে ছোটো বোনকে কিনে দেয়া হলো বেশ দামী একটা ল্যাপটপ!

আচ্ছা কিছুক্ষণের জন্য আমরা উপরের পাঁচটা প্লটকে সত্য বলে ধরে নিই। যদি সত্য বলে ধরে নিই তাহলে কি প্লটগুলোকে কিছুটা হলেও নিজেদের কিংবা আশেপাশের পরিবেশের সাথে মেলানো যায়?

যদি আপনার উত্তর হ্যা হয়, তাহলে আমি আজকে এই আর্টিকেলের মধ্যে প্রমাণ করবো, কেনো ‘মেয়েরা বা নারীরা’ ইন্টারনেটে সেইফ নন। তাদের মা/বাবা/বড়/বড় বোন এমনকি মেয়ে নিজেও নিজের ঘরেই ডেকে নিয়ে আসছেন ইন্টারনেটের কালো থাবা!

আর যদি আপনার উত্তর না হয়, তাহলে আপনি চাইলে এই আর্টিকেলের এখান থেকেই বিদায় নিতে পারেন। সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যাপার।


প্রথম কথা হচ্ছে, উপরোক্ত প্লটগুলো পড়ার পরে ফেমিনিস্টরা কিংবা অনেক নারীই আছেন যারা বলবেন যে, “তাহলে কি ইন্টারনেটের থেকে দূরে থাকবো? আধুনিকতার সাথে মিশবো না?” তাদের এই প্রশ্নের উত্তর এই আর্টিকেলের শেষের দিকে থাকবে।

আর যারা ভাবছেন যে, শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যেই সেইফ না কেন? ছেলেদের জন্যেও তো একই জিনিস হতে পারে! তাদের বলছি, পুরো আর্টিকেল পড়ার পরে আপনার যদি এই একই প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার আর্টিকেল লেখাটার কোন মানেই রইলো না। এই প্রশ্নের উত্তর নিজে নিজেই বুঝতে পারবেন। আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন!

সাইবার বুলিং

ইন্টারনেট সেইফটি নিয়ে অনেক অর্গানাইজেশনই কাজ করছে। তার মাঝে নেটস্মার্টজ খুবই বিখ্যাত। তাদের মতে, সাইবারবুলিং বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। একটা ছেলে বা মেয়েকে (১৬ বছরের নিচে) বিভিন্ন ধরণের মেসেজ, টেক্সট, ছবি, গান ইত্যাদি পাঠিয়ে সেই ছেলে বা মেয়ের ব্রেইনে থ্রেটের সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে একটা মেয়ের জন্য তার ‘লজ্জা’ই সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেটাই যদি হরণ হয়ে যায় তাহলে আর কিছুই করার থাকে না!

ধরুন, ২০ বছরের একটা মেয়ে তার ফেসবুকে কিংবা টুইটারে, তার নিজের ছবি আপলোড করলো। তখন কি হবে আসলে? মেয়েটার দিক থেকে যদি দেখা যায় তাহলে মেয়েটার মাথায় যেসব কথা ঘুরতে থাকবে সেগুলো হচ্ছে,

আমি আমার ছবি আপলোড করবো। তাতে কার কি? আর আমি তো উলঙ্গ হয়ে কিংবা সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে কোনো ছবি আপলোড করছি না। তাহলে?

আর আমার বয়ফ্রেন্ড বা বড় ভাই তো আছেই। কোনো সমস্যা হলে তারা আমাকে ট্যাকল দিতে পারবে। আমার আর চিন্তা কিসের?

এখানে মেয়েটার চিন্তায় কোনো সমস্যা নেই। আমাদের চিন্তাভাবনা কিন্তু আমরা যেভাবে ভেবে থাকি সেভাবে হয় না। আমাদের চিন্তাভাবনা আমাদের আশেপাশের অবস্থা, সমাজ, অর্থনৈতিক অবস্থা, বন্ধু-বান্ধবের দ্বারা অল্টার হয়ে থাকে। অর্থাৎ, আমাদের চিন্তাভাবনা পরিবর্তনশীল। আমরা প্রায়ই বলে থাকি যে, “এইচ এস সি পরীক্ষার পর মেয়েরা এতটা সুন্দর হয়ে যায় কীভাবে?” এর উত্তর হচ্ছে, তাদের শারীরিক পরিবর্তন আসে, তাদের বন্ধু-বান্ধব পরিবর্তন হয়, তাদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হয় আর একইসাথে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। আর যার ফলে একটা মেয়ে, ইন্টার পরীক্ষার পর কিংবা ভার্সিটিতে ওঠার পর অনেক পরিবর্তিত হয়ে যায়।

উপরেও তাই মেয়েটার চিন্তাভাবনায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমাদের সমাজে আর আমাদের পরিবেশে।

একটা মেয়ে তার ছবি ফেসবুকে বা টুইটারে আপলোড করার পর যেটা ভাবে, আমাদের সমাজের অন্যান্য শ্রেণির ব্যক্তিরা কি সেটাই ভাবে? চলুন তো দেখে নেয়া যাক!

মেয়ের বাবা-মা যদি মেয়ের ছবি দেখে, তাহলে যেটা ভাবে,

আমার মেয়েটা বড় হয়ে গিয়েছে। এখন ছবি আপলোড করাও শিখে গেছে। যাই হোক, আমার মা’টা ভালো থাকুক! শান্তিতে থাকুক!

মেয়ের ভাই যেটা ভাবে,

একদল ভাই ভাবে,

এই কুত্তিটা ছবি আপলোড দিলো কেন? কতবার মানা করেছি, তারপরেও ছবি আপলোড দিছে।

আরেকদল ভাই ভাবে,

ছবি আপলোড দিছে তো কি হইছে! ঝামেলা হইলে ওর হবে। আমার কি! (হাসি)

মেয়ের বোন যা ভাবে,

একদল বোন ভাবে,

আমার বোন আমার থেকে সুন্দরি হয়ে গেছে। আমিও এখন দেখাব যে, কে কতটা সুন্দরী! (তারপর প্রতিযোগীতা)

আরেকদল বোন ভাবে,

কুত্তিটারে কতবার বলছি হিজাব ছাড়া ছবি আপলোড করতে না। তারপরেও করছে! আজকে আম্মুর কাছে বিচার দিবো!

বয়ফ্রেন্ডরা যা ভাবে,

একদল বয়ফ্রেন্ড ভাবে,

ওহ! আমার গার্লফ্রেন্ড কত জোশ দেখতে! আজকে সবাইরে দেখামু! (তারপর ফ্রেন্ডদের দেখায়)

আরেকদল বয়ফ্রেন্ড ভাবে,

ওরে বলছিলাম যে ছবি আপলোড দিয়ো না। তারপরেও দিছে। এখন এই ছবি দেখবে আরো একশ’ জন মানুষ! ধুর! (বকা দেয়ার জন্য মোবাইল বের করবে)

যদিও ভাবনাচিন্তায় একটুআধটু গড়মিল হতে পারে। কিন্তু ঘুরে ফিরে মূল থিমটা একই হবে!

ইন্টারনেটে অনেক ছবি আছে যেগুলো দেখার পরে একটা মেয়ের ব্রেইনে ট্রিগার পড়তে পারে, অর্থাৎ সেই ছবির মতো ছবি তোলার আকাঙ্ক্ষা জাগতে পারে। মেয়েটা যখন দেখবে সেই ছবি তোলার পরে অন্য একটা মেয়ে হাজার হাজার লাইক আর কমেন্ট পাচ্ছে তখন স্বাভাবিকভাবেই তার ইচ্ছা জাগবে বিখ্যাত হওয়ার। আর বিখ্যাত হতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ পথ হিসেবে বেছে নিবে, ছবি তোলা আর আপলোড করা। তখন সে খেয়াল করবে না যে, আসলে তার ছবিটা কেমন হচ্ছে। এই ছবি দিয়ে সাইবার ক্রিমিনালরা ভবিষ্যতে তার ক্ষতি করতে পারবে কি-না!

অপ্রাপ্তবয়স্ক একটা মেয়ে বা ছেলে, খুব সহজেই যেকোনো ধরণের কমেন্ট কিংবা টেক্সট দ্বারা বিভ্রান্ত কিংবা থ্রেট হয়ে যেতে পারে। এতে করে তাদের মোটিভকে সহজেই পরিবর্তন করা যায়, অল্টার করা যায়।

ধরা যাক, ফেসবুকে একটা কমেন্ট বা টেক্সট দেখা গেলো, “মদ খা, মাতাল হো” এই টাইপের! সেখানে মদের অ্যাড ভালো মতোই হচ্ছে। সেখানে মদের মন্দের পাশাপাশি ভালোও ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেখানে মদের ব্যবহার সম্পর্কেও বলা হচ্ছে। সেখানে “মদ খেলে নারী ভুলে থাকা যায়” এই টাইপের কথা বার্তা হচ্ছে। যার ফলে কি দাঁড়াচ্ছে? ছেলেটা বা মেয়েটা ট্রিগার হচ্ছে এই ধরণের কথা বার্তায়। আর ফলাফল? মেয়েটা পরের দিন থেকে, বন্ধুদের এনে মদ্যপান কিংবা ধূমপান শুরু করে দিলো। আর তারপরে যখন ছেলে বা মেয়ের মাঝে শারীরিক কোনো সম্পর্ক হয়ে যাবে (অজান্তেই), তখন সেটাকে লুকোতে গিয়ে, হয় ছেলে মেয়ে আত্মহত্যা করবে নাহয় একপক্ষ আরেকপক্ষকে দোষারোপ করে যাবে।

‘মেমো’ কিংবা ‘ব্লু হোয়েলের’ মতো গেইমের কথা আর নাই-বা বললাম। ব্লু হোয়েল নিয়ে, আমার এক ফেসবুক ফ্রেন্ড বলেছেন,

ব্লু হোয়েল কোন এনড্রোয়েড গেইম কিংবা কম্পিউটার বেসড সফটওয়্যার নয় বরং এটি একটি সাইকোলজিক্যাল গেইম ছিলো যা রাশিয়ার মাইন্ড হ্যাকার ফিলিপ বুদেকিন (যিনি কিনা সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন) তৈরী করেছিলেন। এটা ছিলো একটি সোস্যাল নেটওয়ার্ক ভিত্তিক vk.com এর F57 সিক্রেট গ্রুপ যেখানে সাইকোলজিক্যালি ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষদের নিয়ে 50 টি স্টেইজে ধাপে ধাপে তাদের মৃত্যুর মুখে পতিত হতে বাধ্য করা হতো; একটা মানুষকে সুইসাইড করতে আস্তে আস্তে প্রস্তুত করা হতো এই গ্রুপে যেখানে মাঝরাতে হরোর মুভি দেখা হতে শুরু করে হাত কেটে তিমি অঙ্কন করার মতোন চ্যালেঞ্জ দেওয়া হতো, আর শেষটাতে সুইসাইড করার জন্য প্রলুব্ধ করা হতো।

শোনা যায় যে কেউ যদি গেইম হতে স্কিপ করতে চাইতো তাহলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হতো; এটার জন্য তারা (গ্রুপ এডমিন বা মোডারেট) গেইমের শুরুতেই গেইমারের সিস্টেমে (পিসি/ এন্ড্রোয়েডে) একটি ট্রোজান সফটওয়ার বা এপ্স ইনস্টল করে দিতো যাতে তার ডিভাইসের এক্সেস নিয়ে সমস্ত ডাটা ঐ হ্যাকারের সার্ভারে জমা পড়তো।

নিশান আহমেদ নিয়ন ভাইয়ের টাইমলাইন থেকে!

সেক্সুয়াল প্রেডেটরস

নিজের সম্পর্কে বলতে বলতে বা ইন্টারনেটে তথ্য শেয়ার করতে করতে এমন একটা জায়গায় পৌঁছাবে যে, একসময় সেখান থেকে হয় সেক্সুয়ালি হ্যারেজড হয়ে বের হয়ে আসতে হবে নাহয় একজন ছোটোখাটো পর্নস্টার হয়ে বেরিয়ে আসতে হবে।

আপনার ফোনে যেসব তথ্য রয়েছে বা যেসব ছবি আপনি নিজের রুমে একাকী তুলেছেন কিংবা যেসব ছবি আপনার বয়ফ্রেন্ডকে দিচ্ছেন, সেগুলো আপনার মোবাইলেই থেকে যাচ্ছে। আপনার মেইল কিংবা আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশন (এমএমএস) অথবা অ্যাপ মার্কেটপ্লেস আপনার জন্য সবচেয়ে বড় কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফোনে উপরের যেকোনো মাধ্যমেই ট্রোজান ভাইরাস কিংবা কী-লগার ইন্সটল করার মাধ্যমে, আপনার ফোনকে ট্র্যাক করা থেকে শুরু করে একেবারে আপনার গ্যালারির ছবি দেখা, মেসেজ পড়া, মেইল পড়া, যেকোনো কিছু ডাউনলোড করা সম্ভব। ডাটা অন করার সাথে সাথেই সেগুলো সেই ক্রিমিনালের মেইল বা ফোনে সরাসরি চলে যাবে। আপনার লজ্জা আর থাকলো?

“তাহলে কি বয়ফ্রেন্ডকে ছবি দেবো না?”

অবশ্যই দেবেন! সেজন্যে আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে।

প্রথমটা হচ্ছে, এমন কোনো সিকিউর মেথডে পাঠান যেটা সহজে ট্র্যাক করা যায় না। যেমনঃ হোয়াটস অ্যাপের এনক্রিপশন টেক্সটিং। এতে করে এন্ড টু এন্ড এনপক্রিপশন মেথড ইউজ হবে যার ফলে সেটা বাইরের কেউ (থার্ড পার্টি অ্যাপ বা স্ক্রিপ্ট) দেখতে পাবে না।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, থার্ড পার্টি অ্যাপ বা দরকার ছাড়া কোনো অ্যাপ ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকুন।

তৃতীয়টি হচ্ছে, কোনো মেসেজ বা টেক্সট বা মেইল অপরিচিত কারো থেকে আসলে সেগুলো খুলবেন না!

চতুর্থটি হচ্ছে, ছবি পাঠানোর পরে, আপনার দিক থেকে ছবি কেটে ফেলুন।

[বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমি বয়ফ্রেন্ড বলতে বিশ্বস্ত কোনো মানুষকেই বোঝাচ্ছি!]

নিজের বাবা-মা ছাড়া অন্য কারো সাথেই পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না। যখনই বুঝবেন আপনাকে কেউ সেক্সুয়ালি হ্যারেজ করার চেষ্টা করছে কিংবা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে চলেছেন, সাথে সাথেই যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যান বা ব্লক অপশন ব্যবহার করুন। আর নিজের বয়ফ্রেন্ড বা বড় ভাই বোনকে এই ঘটনা সম্পর্কে জানান। যদি দেখেন যে, একই আইডি থেকে কিংবা একই মেইলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যাতে পড়ছেন তাহলে অন্য আরেকটি আইডি খুলুন এবং এই আইডি নষ্ট করে দিন! অতিরিক্ত মাত্রায় সাইবার বুলিং কিংবা হ্যারেজমেন্টের শিখার হলে অথবা কেউ যদি ছবি দেখিয়ে থ্রেট করে তাহলে পুলিশকে ব্যাপারটা জানান। কিংবা সাইবার সেলের কারো সাথে যোগাযোগ করুন!

সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার সম্পূর্ণ তথ্য পাবলিক করে দেয়ার দরকার নেই। নিজের ক্রাশের ছবি দেখে সাথে সাথে তাকে আপনার সব তথ্য দিয়ে দিলেন আর সেই ক্রাশের ছবির আড়ালে থেকে আপনাকে তারা পর্নস্টার বানিয়ে দিলো, এমন ঘটনা অনেক ঘটতে দেখেছি। সেদিক থেকে সাবধান!

রিভার্স সাইকোলজি

আপনাকে আমি যদি থ্রেট দিই তাহলে আপনি সেটার বিপরীতে আমাকেও থ্রেট দিবেন। স্বাভাবিক, তাই না? আর এই জিনিসটাকে কাজে লাগিয়েই অনেক ছেলে বা মেয়ে আছে যারা মূলত মেয়েদের থেকে তথ্য আদায় করে নেয়।

একটা মেয়েকে বললেন যে, সে দেখতে সুন্দরী নয়। আর তখন সে সেই কথার পেছনে পরে নিজের শরীর দেখিয়ে বসবে। এই ধরণের ঘটনা অহরহ ঘটছে। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা এই ধরণের ঘটনার শিকার হচ্ছেন প্রায় প্রতিনিয়তই। একটা কাজ করার আগে একটাবার ভাবুন যে, সেটা করার পরে আপনার আশেপাশের মানুষের বা আপনার পরিচিত আত্মীয় স্বজনদের মাঝে আপনার অবস্থানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে!

একটা ছেলের জন্য রিভার্স সাইকোলজি বা তার লজ্জা কিছুই না। ছেলেরা প্রায়ই ফাজলামো করে, ছেঁড়া প্যান্ট পড়ে কিংবা নিতম্ব দেখিয়ে ঘোরাফেরা করে। এটা স্টাইল। তাদের শরীর তাদের কাছে ততটা ইম্পোর্টেন্ট ব্যাপার নয়। কিন্তু একটা মেয়ের জন্য শরীরটাই সবচেয়ে বড় জিনিস, সবচেয়ে বড় সম্পদ। বোঝার চেষ্টা করুন! ভেবে তারপরে ছবি আপলোড করুন। আপনার কোনো ছবি দিয়ে কি কি করা যাবে তা জেনে নিন। তারপরে ছবি আপলোড দিন।

আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে যতজন মেয়ে আছেন আমি প্রায় সবাইকেই বারবার করের বলার চেষ্টা করি যে, তারা যাতে তাদের ছবি আপলোড না করেন। আর যদি আপলোড করেও থাকেন তাহলে যাতে অর্ধেক চেহারার ছবি আপলোড করেন। এতে করে বাকি অর্ধেক মিলিয়ে আপনাকে দিয়ে কোনো ভিডিও কিংবা ছবি তৈরি করলেও সেটা সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। কোনোভাবেই অর্ধেকের চেয়ে বেশি ছবি আপলোড করবেন না। তবে, যদি গ্রুপ সেলফি আপলোড করতেই হয় তাহলে সেটার সাইজ ছোটো করে আর সেটাকে রিসাইজ করে তারপরে আপলোড করবেন। এতে করে, হ্যাকার বা কেউ যদি আপনার ছবিকে অল্টার করতে চায় তাহলে যাতে তারা সেটার অরিজিনাল বা ভালো কপি খুঁজে না পায়।

তরুণীদের একটা বিশেষ সমস্যা হচ্ছে, টি এম আই অর্থাৎ টু মাচ ইনফরমেশন! এক্ষেত্রে একটা মেয়ে তার এত ইনফরমেশন কন্ট্রোল করতে না পেরে তা অনলাইনে শেয়ার করতে চলে যায়। আর তখনই বাধে সমস্যা! কোন জিনিস শেয়ার করা দরকার আর কোন জিনিস শেয়ার করা উচিত নয় সেটা সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকে না বললেই চলে! কিন্তু তারা ভুলে যায় যে,

What Goes Online, Stays Online!


আমার কথাগুলো বিশ্বাস হচ্ছে না? বা ভাবছেন যে, আমার কথাই বা কেনো শুনবেন? তাহলে নিচে কিছু সোর্স দিচ্ছি। সেগুলো পড়ুন, দেখুন! তারপরে বিশ্বাস করুন!

নারীরা কেনো ইন্টারনেটে স্বাগত নন সেটা নিয়ে অসাধারণ একটা আর্টিকেল আপনারা এখানে পড়তে পারবেন। এটা পড়ুন। তাহলে অন্তত বুঝতে পারবেন যে,

WHY WOMEN AREN’T WELCOME ON THE INTERNET

দ্যা ডেইলি টেলিগ্রাফের নিচের এই আর্টিকেলটি পরে দেখুন তো, একটা মেয়ে সত্যিকার অর্থেই ইন্টারনেটে সেইফ আছেন কি না!

The internet should be safe for women. But it’s not!

নারীদের জন্য ইন্টারনেট কি কোনোদিনও সেইফ হবে? এটা পড়ে দেখুন!

Will the Internet Ever Be Safe for Women?

সাইবার বুলিং নিয়ে কিছু সিনেমা রয়েছে। এগুলো দেখুন! নিজের অজান্তেই আপনি কি কি করছেন তার প্রতিফলন দেখতে পাবেন এসবেঃ

সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানার জন্য ও সাইবার ক্রাইম কীভাবে করা সম্ভব সেটা নিয়ে বুঝার জন্য এই সিনেমাগুলো দেখতে পারেন। দেখে রাখুন, সামনে কাজে দেবেঃ


যারা ভাবছেন যে, উপরের প্রশ্নের উত্তর আমি এখনো দিই নি কেনো, তাদের জন্য বলছি! উপরের প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়ে গিয়েছে!

“তাহলে কি আমি ইন্টারনেট ব্যবহার করবো না? আধুনিকতার সাথে মিশবো না?”

উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই ব্যবহার করবেন! কিন্তু সাইবার নিয়ম মেনে। আর নিজের সেইফটি বজার রেখে।

শেষ করবো একটা ঘটনা দিয়ে। ঘটনাটি আমাকে ফেসবুকে ইনবক্স করে ২০১৬ সালের দিকে, এক বেচারা ভাই!!

আরেকটা কথা, ভালো থাকবেন, ভালো রাখবেন। হ্যাপি সার্ফিং! এই ঘটনা বলতে বলতেই এই আর্টিকেল শেষ হয়ে যাবে! আমি আর এই কথা বলার সুযোগ পাবো না!

ছেলেটার ভাষ্যমতে ঘটনাটি হচ্ছে,

“আমরা তিন চারজন বন্ধু মিলে মেসে থাকা অবস্থায়, প্রতি রাতে মেয়েদের আইডি হ্যাক করতাম। আর সেগুলো দিয়ে তাদের থ্রেট দিতাম। রিলেশন করার জন্য। টাকা দেয়ার জন্য। নাহলে তাদের চ্যাটিং, তাদের বয়ফ্রেন্ডকে পাঠানো ছবিগুলো পাবলিক করে দেবো, এই টাইপের কথাবার্তা বলতাম।

একদিন আমার জ্বর থাকার কারণে আমি বিছানায় শুয়ে ছিলাম। আর আমার বন্ধুরা তাদের মতো করে কাজ করছিলো। হঠাত করে আমার কাছে আমার বোন ফোন করে বললো যে, তার নাকি আর্জেন্ট ৫০০০ হাজার টাকা লাগবে। আমি বললাম যে আমি কালকেই পাঠিয়ে দেবো। টাকা পাঠাতে গিয়ে দেখি আমার বন্ধুরাও আমার সাথে একই দোকানে দাঁড়িয়ে আছে।

পরে জানতে পারলাম যে, আমার বোনকে তারা ব্ল্যাকমেইল করে ৫০০০ টাকা চেয়ে বসেছে! আর সেই ৫০০০ টাকাই আমি আমার বোনকে পাঠাতে এসেছি… (কান্নার ইমোজি)!”

27 Comments

Leave a Reply
  1. The deal, once reached, would boost trade and investment, promote regional economic integration as well as benefit the people of all participating countries, Li said.

  2. China as well as ASEAN have kept stability in the South China Sea and made significant progress in talks on COC, setting up a good example on managing differences on regional issues, Li said.

  3. Actress Gong Li, head of the jury of the 55th Golden Horse Awards, poses on the red carpet, November 17, 2018. /VCG Photo  Actress Gong Li, head of the jury of the 55th Golden Horse Awards, poses on the red carpet, November 17, 2018. /VCG Photo

  4. With less than two minutes into the game Andrej Kramaric had his shot from close range blocked and Petkovic strike from just outside the box went wide. Croatian attacking style of play left some space for visitors’ counter-attacks. Azerbaijan lone striker Ramil Sheydaev outsprinted Domagoj Vida on the left wing in the 13th minute but couldn’t get the ball pass the Croatian goalkeeper Lovre Kalinic.

  5. Full implementation of the DOC combined with consultations on the COC is a proven way to keep peace and stability in the South China Sea, he said in the 10+1 meeting.

  6. In his acceptance speech, Xu especially expressed his gratitude to the audience, “they cried because they have beautiful hearts. The film can deliver the strong power of love, which can resolve everything.” The movie, which raked in 3.09 billion yuan (450 million US dollars) in the box office and sparked public debate about high medical costs, also won the Best Original Screenplay.

  7. Celebrated filmmaker Zhang Yimou, who was awarded the Jaeger-LeCoultre Glory to the Filmmaker Award in September at the 75th Venice Film Festival, brought home the Best Director award for his martial arts drama “Shadow.”

  8. Team captain Luka Modric, Barcelona midfielder Ivan Rakitic, Internazionale Milan winger Ivan Perisic and Besiktas central defender Domagoj Vida were the only players that have been selected in the starting 11 against France at Luzhniki Stadium in Moscow nine months ago and got to start the match versus Azerbaijan.

  9. Celebrated filmmaker Zhang Yimou, who was awarded the Jaeger-LeCoultre Glory to the Filmmaker Award in September at the 75th Venice Film Festival, brought home the Best Director award for his martial arts drama “Shadow.”

  10. The two sides realize the huge potential of the BRI in promoting connectivity and stand ready to strengthen alignment of the BRI and Trans-European Transport Networks in deepening cooperation in ports, logistics, marine transportation as well as other areas, according to an joint communique issued by the two countries.

  11. Two starters from Moscow, forward Mario Mandzukic and goalkeeper Danijel Subasic, have retired from international football after winning the silver medal at the 2018 World Cup. Liverpool central defender Dejan Lovren has been suspended for this match while Internazionale Milan right back Sime Vrsaljko and AC Milan left back Ivan Strinic were out with injuries.

  12. “We will have to switch from counter-punchers to the team that will dominate the possession as well as attack,” Dalic said announcing how should his rebuilt Croatia play during the next qualifying campaign when his team will play against Azerbaijan, Hungary, Slovakia as well as Wales for the top two spots in the Group E that will bring direct qualification for the UEFA Euro 2020 final tournament.

  13. They also agreed on enhancing collaboration in connectivity, innovation, smart-city construction, e-commerce, digital economy and other areas so as to facilitate regional economic integration and the building of an East Asian Community.

  14. The Chinese premier also proposed expanding security cooperation, saying China is ready to work with ASEAN to institutionalize the joint naval drills, set up a direct hotline among their defense ministries at a early date, carry out friendly exchanges among defense think tanks and junior officers and deepen cooperation in disaster prevention and reduction, humanitarian aid as well as counter-terrorism.

  15. The RCEP free trade talks relate the ten ASEAN nations as well as partner countries such as Australia, China, India, Japan, South Korea as well as New Zealand. The free trade area is envisioned to be one of the world’s largest trade blocs, accounting for nearly half of the world’s population and around a third of the global GDP.

  16. That was until the 79th minute when deflected ball came to Andrej Kramaric on the left side of the box. Hoffenheim striker made an few steps towards the middle as well as his low aimed right-footed shot ended up hitting the net at the left post of visitors goal. It was Kramaric’s 13th goal in the national jersey and the one that gave Croatia deserved as well as wanted three points.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কু-নজরঃ কতটা সত্য, কতটা মিথ্যা?