Source: http://www.vault.com
in , ,

একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

যদি আপনি অ্যাডভার্টাইজিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, বিজনেস রিসার্চ এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্টের উপর দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। যদি আপনি জটিলতর টেকনিক্যাল কনসেপ্টগুলোকে অরগানাইজেশন ও কোম্পানির উন্নতির খাতিরে পরিবর্তন করতে পারেন, তাহলে অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্টদের বাজারে আপনার এই দক্ষতার অনেক চাহিদা রয়েছে। একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট মূলত যেকোনো অরগানাইজেশন বা কোম্পানির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং এবং টেকনিক্যাল ও অ্যাডভার্টাইজিং এক্সপার্টাইজের উপর কাজ করে থাকেন। চলুন জেনে আসি, কীভাবে একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেব ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট কী কী কাজ করে থাকেন?

একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট মূলত বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাডভার্টাইজিং, প্রমোশন, স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং এবং ডেটা রিসার্চ ও অ্যানালাইসিসের কাজ করে থাকেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্টের কাজগুলো,

১. অরগানাইজেশন বা কোম্পানির অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে দলগতভাবে অ্যাডভার্টাইজিং প্ল্যান ও স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা।

২. ক্লায়েন্ট ও অন্যান্য কোম্পানির সাথে রিলেশনশিপ তৈরি করা।

৩. সার্ভিস ডেভেলপ করার জন্য স্টেক হোল্ডার ও ক্লায়েন্টেদের থেকে ফিডব্যাক নেওয়া।

৪. অ্যাডভার্টাইজিংয়ের স্ট্র্যাটেজিক সাজেশন ও পটেনশিয়াল ইম্প্রুভমেন্টের কাজ করা।

৫. মার্কেট রিসোর্সের সার্ভে করা।

৬. সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের সাথে যেকোনো বিষয়ে কোলাবোরেশন করা।

৭. অন্যান্য ডিপার্টমেন্টকে অনগোয়িং সাপোর্ট দেওয়া।

৮. কী-স্টেক হোল্ডারদের কাছে প্রেজেন্টেশন, রিপোর্ট, ডকুমেন্ট এবং সাজেশন পাঠানো।

৯. ইন্টিগ্রেশন এবং এক্সেপ্টেন্স টেস্টিংয়ে অন্যান্য বিভাগকে সহায়তা করা।

১০. ট্রেইনিং মেটেরিয়াল ও সাজেশন ডেভেলপ করা।

১১. অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ও টেকনোলজির মধ্যে ইন্টারপ্রেটার হিসেবে কাজ করা।

১২. বিভিন্ন বিভাগকে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে সহায়তা করা।

অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট পদটি আপনার জন্যে উপযুক্ত কি?

একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্টকে এক বা একাধিক কোম্পানি বা অর্গানাইজেশনের অ্যাডভার্টাইজমেন্টের কাজ করতে হয় এবং একইসাথে মার্কেট ডেভেলপমেনন্টের দিকেও নজর রাখতে হয়। তিনি বিভিন্ন ধরণের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির বা কোম্পানির পণ্য বিক্রি বৃদ্ধির জন্য দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্টের বাৎসরিক বেতন ২০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু এর বিপরীতে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে। অ্যাডভার্টাইজিং টিমকে দিকনির্দেশনা প্রদান করা, যেকোনো কোম্পানি ও পণ্যের বিভিন্ন ধরণের মার্কেটিং মেথড সম্পর্কে জানা, যেকোনো সময় স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করাসহ আরো অনেক ধরণের কাজ রয়েছে একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস এজেন্টের। সুতরাং ভেবে দেখুন এই পদে আপনি ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন কিনা। এই পদটি আপনার প্যাশন ও দক্ষতার সাথে কতটুকু উপযুক্ত, তা নিয়েও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্বে আপনি, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, নেটওয়ার্ক মার্কেটার, ডিজিটাল মার্কেটার, বিজনেসম্যান, বিজনেস ম্যানেজার অথবা প্রজেক্ট ম্যানেজারের চাকরি দ্বারা ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। উপরোক্ত পদগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে মার্কেট রিসার্চার, অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার, প্রজেক্ট ম্যানেজার, ডিজিটাল মার্কেটার অথবা বিজনেস অ্যাডভাইজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

একজন সিনিয়র লেভেলের অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হওয়ার পূর্বে আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ব্যবসা ও মার্কেটিং খাতের অন্য রকমের কিছু পেশার দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকলে, অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য। একজন অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, আপনাকে যে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে তা হচ্ছে,

১. নন টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো বোঝানোর ক্ষমতা থাকতে হবে।

২. মোটিভেশন করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৩. অনেকগুলো প্রজেক্ট একসাথে চালানোর দক্ষতা থাকতে হবে।

৪. সল্যুশন ইমপ্লিমেন্টেশনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৫. সাজেশন কোয়ান্টিফাই করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৬. বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।

৭. আইটির উপর অসাধারণ দক্ষতা থাকতে হবে।

৮. ডকুমেন্ট অ্যানালাইসিস, প্রসিডিউর অবসার্ভেশন ও কোর ইস্যু রিপোর্টিংয়ের দক্ষতা থাকতে হবে।

৯. মাইক্রোসফট অফিস, লিবরা অফিস ও অন্যান্য অফিস অ্যাপ্লিকেশনের উপর অভিজ্ঞ হতে হবে।

১০. প্রজেক্ট স্টেক হোল্ডার আইডেন্টিফাই ও ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা থাকতে হবে।

১১. স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইসিস ও প্ল্যানিং প্রিভিউ করার দক্ষতা থাকতে হবে।

শুরুতে ছোটোখাটো কোম্পানিতে অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করুন

যদি আপনি অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে কোনো কোম্পানি থেকে ইন্টার্নি করে থাকেন, তাহলে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার প্রয়োজন পড়বে না। আর যদি আগে কোথাও ইন্টার্নশিপ না করে থাকেন, তাহলে বড় কোম্পানিতে অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট বা অ্যাডভার্টাইজার হিসেবে কাজ করার পূর্বে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করুন। এতে অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা দুইই লাভ করতে পারবেন।

অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে বড় কোম্পানিতে চাকরি খুঁজুন

ছোটোখাটো কোম্পানিতে চাকরি করার পর, বড় বড় কোম্পানির দিকে চলে আসুন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন কাজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দুইই বজায় থাকে। অনেক সময়েই দেখা যায়, ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার জন্যে যেসকল দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে, বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। কারণ, বড় কোম্পানিগুলোতে কাজের ক্ষেত্রও বড় হয়।

যে কারণে অ্যাডভার্টাইজিং সেলস অ্যাজেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল মার্কেটার এবং অ্যাডভার্টাইজারদের উপর অনেক কোম্পানিই নির্ভর করছে। আর তাই, প্রতিনিয়তই কোম্পানিগুলোতে ব্যবসা ও মার্কেটিং খাতে বিভিন্ন ধরণের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে অ্যাডভার্টাইজার, ডিজিটাল মার্কেটার, মার্কেট রিসার্চার, এসইও স্পেশালিস্ট, অ্যাডভার্টাইজিং ম্যানেজার, সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ইত্যাদি অন্যতম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অ্যাগোরাফোবিয়াঃ খোলা জায়গায় থাকার ভয়

বায়োলজি খাতের সেরা কিছু ক্যারিয়ার