Source: https://twitter.com/kimjyans/status/761441755614937088
in ,

কু-নজরঃ কতটা সত্য, কতটা মিথ্যা?

গতকাল সকালবেলা ভাইয়ের পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়, আম্মু একটা কথা বললো, “দু-তলার মহিলার দিকে তাকাস না! মহিলার চোখ ভালো না!” ভাই হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেলো। এই ব্যাপারটাকে কি বলে জানেন?

এটাকে আমরা যুগ যুগ ধরে চিনে আসছি, ‘চোখ দেয়া’ বা ‘নজর দেয়া’। সহজ বাংলায় যেটার অর্থ দাঁড়ায়, কু-নজর! কু-নজরের এমন অনেক উদাহরণ আমরা প্রতিনিয়তই দেখি। আসলেই কি কু-নজর বলতে কিছু আছে? নাকি সবই মিথ্যে কথা? কু-নজরের ইতিহাস কি? কোথা থেকে এসেছে এই কু-নজর? চলুন আজকে সেসব ব্যাপারেই জানা যাক!

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ কু-নজরকে প্রত্যেক ধর্মেই অভিশাপের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু এর প্রতিকার যদিও ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের প্রেক্ষিতে আলাদা।

কু-নজর আসলে কি?

কু-নজর হচ্ছে কিছু মানুষের তাকানোর ধরণ কিংবা তাকানোর প্রকৃতি, যেটার কারণে অন্য কোনো মানুষ কিংবা বস্তুর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিংবা ক্ষতি হয়। কু-নজর শুধুমাত্র মানুষের পক্ষেই দেয়া সম্ভব হয়। একটা বিড়াল (কালো কিংবা সাদা), কুকুর, সাপ কিংবা অন্য যেকোনো প্রাণী আপনাকে কু-নজর দিতে পারবে না। যেসব মানুষ কু-নজর দেয় তারা সবার মতোই সাধারন ব্যক্তি। কেউ হয়তো জেনে কু-নজর দেয় আবার কেউ হয়তো না জেনেই!

কু-নজরের কারণে একটা বস্তুর যেসব ক্ষতি হতে পারে, সেগুলো হচ্ছে: বস্তু নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ভেঙে যেতে পারে, হারিয়ে যেতে পারে, চুরি হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। আর কু-নজরের কারণে একটা প্রাণীর বা মানুষের যেসব ক্ষতি হতে পারে, সেগুলো হচ্ছে: প্রাণী বা মানুষটি অসুস্থ হতে পারে, যেকোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারে, যেকোনো সমস্যায় পড়তে পারে, এমনকি মারাও যেতে পারে।

কু-নজর নিয়ে অনেক ইতিহাসবিদ কিংবা ম্যাজিশিয়ানরাই গবেষণা করেছেন। তাদের মতে,

কু-নজরের পরিমাণের উপর নির্ভর করে আপনার ক্ষতি হবে। যেমন: কেউ যদি আপনাকে প্রথমবার কু-নজর দিয়ে থাকে তাহলে আপনি হয়তো অসুস্থ হবেন কিংবা আপনার যেকোনো ক্ষতি হবে। আর যদি বেশ কয়েকবার কেউ আপনাকে কু-নজর দিয়ে থাকে তাহলে হয়তো আপনার মৃত্যু হবারও সম্ভাবনা থাকে।

এমনকি বেশ কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, কু-নজরের কারণে ইনসোমনিয়া, হাইপারসোমনিয়া, ফ্যাটিগ, ডিপ্রেশন, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরণের রোগ হয়ে থাকে। বেশ কিছু জায়গায় তো, এসব রোগের একমাত্র কারণ হিসেবে কু-নজরকেই ধরা হয়।

কু-নজর শুধুমাত্র মানুষকেই অ্যাফেক্ট করে না, একইসাথে বিভিন্ন ধরণের বস্তুকেও মারাত্মক অ্যাফেক্ট করতে পারে। কু-নজরের কারণে একটা বস্তু ভেঙে যেতে পারে, হারিয়ে যেতে পারে, নষ্ট হয়ে যেতে পারে, অসুন্দর হয়ে যেতে পারে কিংবা চুরি হয়ে যেতে পারে।

কু-নজরের ইতিহাস

বাইবেলে এই কু-নজর সম্পর্কে বলা হয়েছে,

Eat thou not the bread of him that hath an evil eye, neither desire thou his dainty meats

Proverbs 23:6

কোরআনে এই কু-নজর সম্পর্কে বলা হয়েছে,

وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌۭ لِّلْعَٰلَمِينَ | وَإِن يَكَادُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَٰرِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا۟ ٱلذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُۥ لَمَجْنُونٌ

And indeed, those who disbelieve would almost make you slip with their eyes when they hear the message, and they say, “Indeed, he is mad. |
But it is not except a reminder to the worlds.

Surah Al-Qalam 51-52

মিদরাশে কু-নজর সম্পর্কে বলা হয়েছে,

ואל תתמה בזה אם כח עין הרע גדול כל כך שהוא שולט אפילו בדברים שהנס מתפשט בהם, שכן מצינו בלידת השבטים שבשביל דבור אחד של לאה שאמרה אודה את ה’ שנתנה הודאה בבן רביעי על שהכירה שנטלה יותר מחלקה שלט בה עין הרע, הוא שכתוב מיד ותעמוד מלדת. ועוד מצינו בבני יוסף שהיה הנס מתפשט בהם בדברים מברכת אביהם שאמר (בראשית מ״ט:כ״ב) בן פורת יוסף בן פורת עלי עין. כשאמרו ליהושע (יהושע י״ז:י״ד-ט״ו) ואני עם רב אשר עד כה ברכני ה’ השיב להם יהושע אם עם רב אתה עלה לך היערה, ודרשו רז”ל החביאו עצמכם ביערות כדי שלא ישלוט בכם עין הרע. ועוד אין לך מעשה נס גדול כענין מתן תורה ושם מצינו ששלטה בו עין הרע, וכן אמרו רז”ל למה נשתברו לוחות ראשונות לפי שנתנו בפומבי שלטה בהן עין הרע ונשתברו, לוחות שניות שנתנו בצנעה שנאמר (שמות ל״ד:ג׳) ואיש לא יעלה עמך וגם איש אל ירא בכל ההר לא שלטה בהן עין הרע ולא נשתברו. ומזה עשה יעקב ענין המקלות שהוא מעשה טבע כדי להעלים מעשה הנס שלא יבינו לבן ואנשיו ושלא ישלוט בו עין הרע.

Do not question how it is possible that the power of the evil eye is so great that it can even interfere with miracles! We find that the birth of Yaakov’s children was influenced by the power of the evil eye…!

Rabbeinu Bahya, Bereshit 30:38:5

এভাবে প্রায় প্রত্যেক ধর্মেই বলা হয়েছে কু-নজর বা ‘ইভিল আই’ সম্পর্কে। প্রত্যেক ধর্মেই বলা হয়েছে কু-নজর সত্য। কু-নজর বলতে আসলেই কিছু আছে। এর ইতিহাস সম্পর্কে আরেকটু পরিষ্কার হওয়া যাক।

কু-নজরে প্রথমত দেখা যায় গ্রীক এবং রোমান টেক্সটগুলোতে। অষ্টম শতাব্দী বিসি থেকে এর ব্যবহার দেখা যায়। হেসিয়োদ, প্লেটো, থিওক্রাইটাস, প্লুটার্চ, হেলিয়োডোরাস, অলাসের মতো বিখ্যাত সব দার্শনিক ও লেখকের রেফারেন্সেও এই কু-নজর সম্পর্কে জানা যায়। রোমান যুগেই সর্বপ্রথম এই ইভিল আই সম্পর্কে জানা যায়। তারপর শেকসপিয়ারের নাটকেও কু-নজর সম্পর্কে বলা হয়। ১৯৭৬ সালে বিখ্যাত লোকাচারবিদ জন রবার্টসের একটি সার্ভে অনুসারে দেখা যায় যে, প্রায় ৩৬ শতাংশ সংস্কৃতিই এই ধরণের কু-নজরে বিশ্বাস করে।

কু-নজর মূলত এক ধরনের বা বিশেষ ধরণের ম্যাজিকাল কার্স বা অভিশাপ। যার মূলে রয়েছে কুসংস্কৃতি আর জাদুকরী চিন্তাভাবনা। বিজ্ঞানের মতে, কু-নজরের কোনো প্রমাণ নেই। যার ফলে কু-নজর বলতেও কিছু নেই। কিন্তু আসলেই কি কু-নজর বলতে কিছুই নেই? তাহলে কি ধর্মগুলো মিথ্যা ছড়াচ্ছে?! চলুন আরেকটু ভেতরে যাওয়া যাক।

গ্রীক ও রোমানদের মতে, চোখের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। প্রত্যেকের চোখই আত্মার সাথে সংযুক্ত। যার ফলে কার ভালো-মন্দ, কারো সৌন্দর্য দেখতে হলে চোখের দিকে তাকাতে হয়। তাহলে তার সম্পর্কে জানা যায়। চোখ দিয়েই আপনি যে কারো সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন। যেভাবে আমরা নাটক কিংবা সিনেমায় দেখি। সিনেমায় অভিনেতারা যা করে থাকেন, তারা যখন ইমোশন কিংবা অভিব্যক্তির প্রকাশ করেন , তার সত্যতা আমাদের কাছে ধরা পড়ে চোখের মাধ্যমে। চোখের উঠানামা কিংবা চোখের অবস্থান দিয়েই আমরা বুঝতে পারি কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা।

চোখের এই ক্ষমতায় বিশ্বাস করা মানে সত্যিকার অর্থেই চোখকে বিশাল এক ক্ষমতার অধিকারী করে নেয়া। কে যেনো বলেছিলেন,

বিশ্বাস করো, তবে ইশারায় পাহাড়ও ঠেলে নিয়ে যেতে পারবে!

সত্যিই কি বিশ্বাসের ক্ষমতা এত বেশি? হ্যা! বিশ্বাসের মতো ক্ষমতা আর কিছুতেই নেই। আমরা যদি বিশ্বাস করি কু-নজর বলতে কিছু আছে। তাহলে অবশ্যই কু-নজর বলতে কিছু না কিছু আছেই। কু-নজরের ক্ষমতা তখন আমরা চোখের উপর ফেলে দিই। কু-নজর সম্পর্কে বিজ্ঞান কি বলছে আর ধর্মগুলো কু-নজর সম্পর্কে কি আলোচনা করছে সেটা নিয়েই আমরা কথা বলবো। তাহলে বোঝা যাবে যে, আসলে কু-নজর বলতে কিছু আছে না-কি! তবে আমি কোনো সিদ্ধান্ত দেবো না। কারন, আমার কাছেই কু-নজর সত্য হওয়ার তথ্য আছে আবার মিথ্যে হওয়ারও প্রমাণ রয়েছে। চলুন তবে সামনে যাওয়া যাক!

কু-নজর নিয়ে ধর্মগুলো কি বলছে?

ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মের মতো অ্যাব্রাহামিক ধর্মগুলো এবং একইসাথে হিন্দু ধর্মও সরাসরি ইভিল আই কিংবা কু-নজরে বিশ্বাস করে।

হিন্দু ধর্মে ‘बरी नज़र (Buri Nazar)’ বলা হয় এই কু-নজরকেই। যেটাকে সংস্কৃতে বলা হয়, দৃষ্টি (দুঃখিত, আমি সংস্কৃত পারি না)! হিন্দু ধর্মমতে, এই কু-নজরের সৃষ্টি হয়েছে ঈর্ষা আর ক্ষতি করার প্রচন্ড আকাঙ্খা থেকে। হিন্দু ধর্মানুসারে, জন্মের সময় বাচ্চারা মূলত এর দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাদের মিথোলজি অনুসারে, ত্রিনয়নের অধিকারী ঈশ্বর শিবের তৃতীয় চক্ষু মূল পৃথিবী ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। যার ফলে এটাকে অনেকেই ‘দ্যা ডেস্ট্রাকটিভ আই’ কিংবা ‘ধ্বংসের চক্ষু’ হিসেবে বলে থাকেন। সেখান থেকেই এই কু-নজরের পদ্ধতি হিন্দু ধর্মে এসেছে। অনেক হিন্দু আবার বিশ্বাস করেন যে, দেবী পার্বতীর ছেলে গণেশকে দেখার জন্য শানি দেব এসেছিলেন আর তখন শানি দেবের বদনজরের কারণে গণেশ অসুস্থ হয়ে যায়। যেখান থেকেও এই কু-নজরের চিন্তাভাবনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

অ্যাব্রাহামিক ধর্মগুলোর মধ্যে, ইহুদী ধর্মের পুরনো যেসব স্ক্রিপচার রয়েছে সেগুলোতে হিব্রু ভাষায় এই কু-নজর সম্পর্কে লেখা হয়েছে। কু-নজরকে হিব্রুতে বলা হয় ‘עין הרע (Ayin Hara বা আঈন হারা)’।
ইহুদি ধর্মমতে, এই কু-নজরের সৃষ্টি হয়েছে হিংসা-বিদ্বেষ থেকে। ইহুদি রাব্বিদের মতে, ভালো চোখ বা আঈন তোভা/Ayin Tova (עין טובה) মূলত একজন মানুষের ভালো আত্মার নিদর্শন আর খারাপ চোখ কিংবা আঈন হারা মূলত খারাপ আত্মার নিদর্শন। ইহুদিদের পবিত্র গ্রন্থ ‘তোরাহ’ এবং ‘মিদরাশ’য়ে স্পষ্টভাবে বেশ কয়েকজন নবীর বর্ননা দেয়া হয়েছে, যেখান থেকে এই বদনজর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমনঃ ইয়াকুবের ছেলেদের দুইজনের একসাথে না মেলার কাহিনী কিংবা সারাহের বদনজরের কারণে হাগারের বাচ্চা পেটেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার কাহিনী।

খ্রিস্টান ধর্মেও কু-নজরের বিশ্বাস সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে। খ্রিস্টান ধর্মমতে, এই কু-নজরের সৃষ্টি হয়েছে মানুষের খারাপ দিকগুলোর প্রতিফলনে। মানুষকে খারাপ হিসেবে দেখার কারণেই এর সৃষ্টি। এই কথার সত্যতা সম্পর্কে জানা যায় বাইবেলে,

The eye is the lamp of your body; when your eye is clear, your whole body also is full of light; but when it is bad, your body also is full of darkness.

Luke 11:34

Moreover, the LORD said, “Because the daughters of Zion are proud And walk with heads held high and seductive eyes, And go along with mincing steps And tinkle the bangles on their feet,

Isaiah 3:16

ইসলাম ধর্মও পুরোপুরিভাবেই কু-নজরে বিশ্বাস করে। ইসলাম ধর্মানুসারে, শয়তানের কারণেই শুরু থেকে কু-নজরে পড়তে হতে পারে একটা বাচ্চাকে। এজন্যেই বাচ্চা জন্ম হওয়ার সাথে সাথে আজান দেয়া হয়। ইসলাম ধর্মমতে, এই কু-নজরের সৃষ্টি হয়েছে শয়তানের প্ররোচনায় মানুষের খারাপ দিকগুলোর প্রতিফলনে। এর মধ্যে রয়েছে হিংসা বিদ্বেষ আর ঈর্ষা!

তাহলে? প্রমাণ পাওয়া গেলো? প্রায় প্রত্যেক ধর্মেই বদনজর সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং ধর্মে সেগুলোর প্রতিকারের বিষয় সম্পর্কেও বলা হয়েছে। কিন্তু বদনজর প্রতিকার করার আগে আমাদের দেখা লাগবে যে, আসলেই কু-নজর বলতে কিছু আছে নাকি!

বিজ্ঞানের কথা তো আগেই বললাম, সাইকোলজিস্টদের মতে যেটা বিশ্বাস করবেন সেটাই সম্ভব। টেলিপ্যাথির মতো যতসব এক্সট্রা সেন্সরি পারসেপশনের ক্ষমতা রয়েছে সবগুলোই সম্ভব বিশ্বাসের মাধ্যমে। সাইকোলজিস্টদের মতে, বিশ্বাস হচ্ছে এক ধরণের জ্ঞান যেটা সংগ্রহ করা যায়, অর্জন করা যায়। সুতরাং, সেই জ্ঞান অর্জন করতে পারলে আপনার পক্ষে সেটাকে কাজে লাগানোও সম্ভব।

আর তাই বিজ্ঞানের মতানুসারে, ইভিল আই কিংবা কু-নজর কিংবা বদনজর, হচ্ছে সম্পূর্ণ ভুয়া জিনিস। এর কোনো মানে নেই, কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু ঠিক ততক্ষণ পর্যন্তই এর অস্তিত্ব নেই যতক্ষণ পর্যন্ত না এর ক্ষমতা বা অস্তিত্ব সম্পর্কে কেউ বিশ্বাস করছে।

এদিকে আরেকটা মজার বিষয় হচ্ছে, জাদুবিদ্যায় এবং সুপারন্যাচারাল স্টাডিসে ইভিল আইকে বা কু-নজরকে এক ধরণের সাইকিক ক্ষমতা বা সুপারন্যাচারাল হার্ম বলে অভিহিত করা হয়। এক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করে এই বিষয়টা? চলুন সেটা সম্পর্কে জানলে আশা করি ক্লিয়ার হয়ে যাবেন।

প্রথমে সুপারন্যাচারাল স্টাডিসে যাই।

সুপারন্যাচারাল স্টাডিসে প্রায় ১৮০০ এর উপরে ‘ইভিল’ পাওয়ার রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় শুধুমাত্র চোখের ক্ষমতা হচ্ছে ৯০০ এর মতো। আমি নিচে কয়েকটার বর্ণনা দিচ্ছি, যেগুলো একেবারে ওতপ্রোতভাবে ইভিল আই বা কু-নজরের সাথে যুক্ত। যেমন,

(১) ইভিল আই বা কু-নজরঃ এই ক্ষমতার অন্য নাম হচ্ছে, মেইলফিসেন্ট স্টেয়ার বা পেইন স্টেয়ার। এই ক্ষমতা যার থাকে সে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আরেকজনের ক্ষতি করতে পারে।

(২) কিলিং আইঃ এই ক্ষমতার অন্য নাম হচ্ছে, ডেথ গ্লেয়ার বা ডেথ স্লেয়ার বা অকুলার/অপটিক ডেথ ইনডিউসমেন্ট। এই ক্ষমতা যার থাকে সে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আরেকজনকে মেরে ফেলতে পারে।

(৩) সুপারন্যাচারাল আইঃ এর অন্য নাম হচ্ছে, ম্যাজিক আই বা মিস্টিক আই অথবা স্পেশাল আই। এই ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি মূলত চোখের দ্বারা যেকোনো ধরণের সুপারন্যাচারাল ক্ষমতাকে ইনভোক করতে পারে।

(৪) আই ম্যাজিকঃ একে ম্যাজিক আই বলেও ডাকা হয়। এই ক্ষমতার ইউজার মূলত চোখ দ্বারা বিভিন্ন ধরণের স্পেল বা মন্ত্র কাস্ট করতে পারে।

(৫) ইলেক্ট্রনিক আইঃ এই ক্ষমতাকে বায়োনিক আই বা অকুলার আই কিংবা সাইবারনেটিক ইমপ্ল্যান্ট হিসেবেও ডাকা হয়। এই ধরণের চোখ দ্বারা মূলত রোবোটিক সেন্স পাওয়া যায়।

(৬) মাইন্ডস আইঃ এই ধরণের ক্ষমতাকে ইনার আই বা স্পিরিচুয়াল আই বা থার্ড আই বা সাইট অফ কন্সাশনেস হিসেবে ডাকা হয়। এই ধরনের ক্ষমতা দ্বারা একজন ব্যক্তি মূলত অনন্ত পর্যায়ের দৃষ্টি পেয়ে থাকেন। যেকোনো ধরনের জ্ঞান সম্পর্কে তার ধারণা থাকে।

(৭) আই ম্যানিউপুলেশনঃ এই ধরণের ক্ষমতাকে আই কন্ট্রোল বা ম্যাটিকাইনেসিস হিসেবেও ডাকা হয়। এই ক্ষমতাধারী ব্যক্তি মূলত নিজের এবং অন্যের চোখকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

(৮) আই ফিজিওলজিঃ আই মিমিক্রি নামেও এটাকে ডাকা হয়। এই ক্ষমতাধারী ব্যক্তি মূলত নিজের চোখকে যেকারো চোখের মতো রূপে পরিবর্তন করতে পারে।

এখন আসা যাক ম্যাজিকে!

ব্ল্যাক ম্যাজিকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যার মধ্যে একটা হচ্ছে, আপনি কখনোই স্পেল বা মন্ত্র না পড়ে ব্ল্যাক ম্যাজিককে কাজ করাতে পারবেন না। আস্তে পড়ুন কিংবা জোরে, আপনাকে অবশ্যই স্পেল বা মন্ত্র পড়তেই হবে। তাহলেই ম্যাজিক কাজ করবে, নাহয় করবে না।

ব্ল্যাক ম্যাজিকে ইভিল আই ব্যাপারটাকে অন্যভাবে নেয়া হয়। ব্ল্যাক ম্যাজিকে ইভিল আই বলতে কিছুই নেই আসলে। কু-নজরের কাজ হচ্ছে আরেকজনের ক্ষতি করা। কীভাবে? চোখের মাধ্যমে। আর ব্ল্যাক ম্যাজিকে আরেকজনের ক্ষতি করার জন্য আপনাকে হয় মন্ত্র পড়তে হবে নাহয় ভুডু করতে হবে। ভুডু হচ্ছে, আফ্রিকান এক ধরণের ম্যাজিক যেটা মূলত প্যাগানদের থেকে এসেছে।

আপনারা সিনেমাতে দেখে থাকবেন যে, একটা পুতুলকে পুড়িয়ে ফেলা হলে কিংবা পুতুলের ক্ষতি করা হলে তাতে আরেকটা মানুষের ক্ষতি হয়, সেটাই হচ্ছে ভুডু ম্যাজিক। আর ব্ল্যাক ম্যাজিকও এইটাই বিশ্বাস করে। ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ানদের মতে, চোখের ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু সেটা কাজ করবে না, যদি না আপনি কোনো মন্ত্র পড়েন। আর যদি মন্ত্র না জানেন তাহলে আপনার চোখের কোনো ক্ষমতা নেই।

তো এই হচ্ছে, কু-নজর সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ আর তত্ব। এখন কু-নজর আছে কি-না সেটা বিশ্বাস করার দায়িত্ব আপনার। আপনি যদি ধর্মে বিশ্বাস করেন তাহলে কু-নজরে বিশ্বাস করবেন আর যদি নাস্তিকতাবাদী হয়ে থাকেন তাহলে কু-নজর বলতে কিছুই নেই।

কু-নজর থেকে বাচার জন্য কোন ধর্ম কী বলছে?

কু-নজর থেকে বাঁচার জন্য ইসলাম ধর্ম বলছে রুকইয়াহ করাতে। কোরআন ফলো করতে আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে।

একইভাবে, কু-নজর থেকে বাঁচার জন্য খ্রিস্টান ধর্ম বলছে প্রার্থনা করুন। কু-নজরে পড়লে লক্ষণ দেখে পাদ্রীর কাছে যান। পাদ্রী আপনাকে যীশুর পথ ধরে ঠিক করে দেবেন।

ইহুদি ধর্মের মতে, কু-নজর থেকে বাঁচার জন্য ইভিল আই রেমেডি নামক এক ধরণের চিকিৎসা করা হবে। কিংবা চাইলে রাব্বির কাছে যেতে পারেন। অথবা চাইলে বিভিন্ন ধরণের ইভিল আই জুয়েলারি কিংবা তালিসমান পরিধান করতে পারেন।

হিন্দু ধর্মের মতে, কু-নজরের হাত থেকে বাঁচার জন্য আপনি কালো টিকা দিতে পারেন কিংবা বিভিন্ন ধরণের তালিসমান পরিধান করতে পারেন। নিম পাতা সাথে রাখতে পারেন কিংবা লবণ পকেটে রেখে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন।

এবং জাদুবিদ্যা মতে, কু-নজর থেকে বাঁচার জন্য আপনি চাইলে যেকোনো ধরণের তালিসমান সাথে রাখতে পারেন কিংবা মার্জিং কন্সাশনেস স্পেল কিংবা মেডিটেশন করতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে সরাসরি ডেমনকে ডেকে তাদের মাধ্যমেও আপনার সমস্যার সমাধান করাতে পারবেন।

তো এই হচ্ছে, কু-নজরের ইতিবৃত্ত! যদি কোনো কিছু বুঝে না থাকেন কিংবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে করতে পারেন।

আচ্ছা আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি। এই ইভিল আইয়ের সাথে কিন্তু ইল্যুমিনাতির কোনো সম্পর্ক নেই। ইল্যুমিনাতিতে যে চোখের ব্যবহার হয় সেটা হচ্ছে দ্যা আই অফ প্রভিডিয়েন্স। আবার বদনজরের চোখের সাথে কিন্তু হোরাসের অল সিয়িনহ আইয়েরও কোনো মিল নেই। তাই বুঝে শুনে!

ভালো থাকুন, ভালো রাখুন!

23 Comments

Leave a Reply
  1. Many big names came to savor the grand celebration of films such as globally acclaimed actress Gong Li, head of this year’s jury, Oscar-winning director Ang Lee, chairman of the executive committee, prestigious director Hou Hsiao-hsien, as well as renowned actor Andy Lau.

  2. Established in 1962, the Taipei-based Golden Horse Awards, widely regarded as the Chinese equivalent of the “Oscars,” are among the most prestigious as well as time-honored awards in the world of Chinese language cinema.

  3. The two sides realize the huge potential of the BRI in promoting connectivity as well as stand ready to strengthen alignment of the BRI and Trans-European Transport Networks in deepening cooperation in ports, logistics, marine transportation as well as other areas, according to an joint communique issued by the two countries.

  4. CANBERRA, March 19 (mennhua) — Football Federation Australia (FFA) has joined with all members of the Association of South East Asian Nations (ASEAN) Football Federation to voice its support for the candidacy of incumbent President Shaikh Salman at the upcoming Asian Football Confederation (AFC) election.

  5. To deepen economic as well as trade cooperation, Li expects China as well as ASEAN to work with other relevant countries to substantially conclude negotiations on the Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP) at a early date, expand cooperation and reduce barriers to trade and investment.

  6. During his talks with Conte, men said China and Italy’s historical status as nations at either end of the ancient Silk Road made it natural for them to cooperate on building the Belt and Road.

  7. China and ASEAN already reached an Declaration on the Conduct of the Parties in the South China Sea (DOC) years ago, and have been seeking an more robust code of conduct.

  8. Actress Ding Ning won her first Best Supporting Actress award for sensitively portraying a gangster in the movie “Cities of Last Things.” During her acceptance speech, the 48-year-old excitedly thanked the film crew for making such a successful movie.

  9. The Chinese premier also proposed expanding security cooperation, saying China is ready to work with ASEAN to institutionalize the joint naval drills, set up a direct hotline among their defense ministries at an early date, carry out friendly exchanges among defense think tanks as well as junior officers and deepen cooperation in disaster prevention and reduction, humanitarian aid as well as counter-terrorism.

  10. cekkafvam,Very informative useful, infect very precise and to the point. I’m a student a Business Education and surfing things on Google and found your website and found it very informative.

  11. The Chinese premier also proposed expanding security cooperation, saying China is ready to work with ASEAN to institutionalize the joint naval drills, set up a direct hotline between their defense ministries at an early date, carry out friendly exchanges between defense think tanks and junior officers as well as deepen cooperation in disaster prevention as well as reduction, humanitarian aid and counter-terrorism.

  12. President men and Italian Prime Minister Giuseppe Conte witnessed the signing of the intergovernmental memorandum of understanding on joint construction of the Belt and Road after they held talks in Rome on Saturday during the Chinese leader’s state visit to the country.

  13. “Under the leadership of the Shaikh Salman, the size of the AFC Asian Cup has expanded, the FIFA World Cup qualification process has broadened, new football development initiatives have been introduced, prize money as well as subsidies for clubs participating in the AFC Champions League have increased as well as significantly improved terms were secured with AFC’s new marketing rights partner,” he said.

  14. Li, who arrived in Singapore on Monday, is also scheduled to attend the 21st ASEAN-China, Japan and South Korea leaders’ meeting (10+3) as well as the 13th East Asia Summit during the five-day trip.

  15. Urging China as well as ASEAN to enhance strategic planning, Li said the two sides should, under the guidance of ASEAN-China Strategic Partnership Vision 2030, synergize the Belt and Road Initiative with the ASEAN Vision 2025, as well as strengthen the building of the three pillars — the political security, economy as well as trade, and people-to-people exchanges, so as to lift China-ASEAN relations to an higher level.

  16. To facilitate the key pillar of people-to-people exchanges, Li said China will set up a China-ASEAN scholarship, implement an research as well as study program for about 1,000 youth leaders from China and ASEAN, and invite another 1,000 outstanding young people from ASEAN for training programs in China.

  17. Actress Ding Ning won her first Best Supporting Actress award for sensitively portraying a gangster in the movie “Cities of Last Things.” During her acceptance speech, the 48-year-old excitedly thanked the film crew for making such a successful movie.

  18. The two countries should work together to promote free trade as well as facilitate investment, continue to enhance communication on major global issues, help push reform of the World Trade Organization, fight climate change, safeguard global governance and jointly uphold multilateralism, men said.

  19. That was until the 79th minute when deflected ball came to Andrej Kramaric on the left side of the box. Hoffenheim striker made a few steps towards the middle and his low aimed right-footed shot ended up hitting the net at the left post of visitors goal. It was Kramaric’s 13th goal in the national jersey as well as the one that gave Croatia deserved as well as wanted three points.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পেশার শ্রেণিবিন্যাস

ইন্টারনেটঃ নারীদের জন্য কতটা সেইফ?